আপনার সন্তানের উচ্চতা বাড়ছে না? কোন বয়স পর্যন্ত লম্বা হয় শিশুরা, কখন সতর্ক হবেন বাবা-মায়েরা?

Published : Sep 24, 2026, 12:18 AM IST
Kids Height tips

সংক্ষিপ্ত

আমার বাচ্চা বন্ধুদের তুলনায় বেঁটে, ঠিকমতো বাড়ছে না তো? এই চিন্তা প্রায় সব বাবা-মায়ের। কিন্তু শিশুর উচ্চতা কোন বয়স পর্যন্ত বাড়ে? বৃদ্ধি ঠিক আছে কিনা কীভাবে বুঝবেন? আর বৃদ্ধি কম হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন? জানালেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা।

আমার বাচ্চা বন্ধুদের তুলনায় বেঁটে, ঠিকমতো বাড়ছে না তো? এই চিন্তা প্রায় সব বাবা-মায়ের। কিন্তু শিশুর উচ্চতা কোন বয়স পর্যন্ত বাড়ে? বৃদ্ধি ঠিক আছে কিনা কীভাবে বুঝবেন? আর বৃদ্ধি কম হলে কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন? জানালেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সন্তানের উচ্চতা নিয়ে চিন্তা নেই এমন বাবা-মা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ক্লাসে সবচেয়ে সামনের বেঞ্চে বসে, বন্ধুদের তুলনায় ছোট দেখাচ্ছে - এই নিয়ে রাতের ঘুম উড়ে যায় অনেকের। কিন্তু আসলে শিশুর লম্বা হওয়ার একটা নির্দিষ্ট বিজ্ঞান আছে।

শিশুর উচ্চতা কোন বয়স পর্যন্ত বাড়ে?

চিকিৎসকদের মতে, উচ্চতা বৃদ্ধির ৩টে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় আছে।

১. জন্ম থেকে ২ বছর: এই সময় সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে। প্রথম বছরে প্রায় ২৫ সেমি এবং দ্বিতীয় বছরে ১২ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়।

২. ২ বছর থেকে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত: প্রতি বছর গড়ে ৫-৭ সেমি করে বাড়ে। এটা সবচেয়ে স্থিতিশীল বৃদ্ধির সময়।

৩. বয়ঃসন্ধি বা Puberty: এই সময় আবার হঠাৎ বৃদ্ধি হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সে এবং ছেলেদের ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সে উচ্চতা সবচেয়ে বেশি বাড়ে। মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর ২-৩ বছর এবং ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ গজানোর পর বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

সাধারণভাবে মেয়েদের ১৬-১৮ বছর এবং ছেলেদের ১৮-২০ বছর পর্যন্ত উচ্চতা বাড়তে পারে। এরপর হাড়ের গ্রোথ প্লেট বন্ধ হয়ে গেলে আর লম্বা হওয়া সম্ভব নয়।

বৃদ্ধি ঠিক আছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

বছরে ৪ সেমির কম বাড়লে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া কিছু লক্ষণ দেখুন: - ক্লাসে সবসময় সবচেয়ে ছোট থাকছে - জামাকাপড়ের মাপ ১ বছরেও বদলাচ্ছে না - বয়সের তুলনায় অনেক রোগা বা দুর্বল লাগছে - বয়ঃসন্ধির লক্ষণ (মেয়েদের স্তন বৃদ্ধি, ছেলেদের গলার স্বর পরিবর্তন) ১৪ বছর পেরিয়েও আসছে না

বাড়বৃদ্ধি সঠিক অনুপাতে না হলে বাবা-মায়েরা কী করবেন?

১. গ্রোথ চার্ট মেনটেন করুন: প্রতি ৬ মাস অন্তর উচ্চতা ও ওজন মেপে শিশুরোগ চিকিৎসকের গ্রোথ চার্টে দাগ কাটুন। এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

২. খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ঠিক করুন: জাঙ্ক ফুড নয়, প্রোটিন (ডিম, দুধ, ডাল, মাছ, মাংস), ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার দিন। রাত ১০টার মধ্যে ঘুম পাড়ান, কারণ গ্রোথ হরমোন রাত ১১টা থেকে ২টোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয়।

৩. রোজ ৩০ মিনিট খেলাধুলা: ঝুলে থাকা (হ্যাংগিং), সাঁতার, বাস্কেটবল, দড়ি লাফ - এগুলো গ্রোথ হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে। মোবাইল-টিভি কমিয়ে মাঠে পাঠান।

৪. কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন? যদি বছরে ৪ সেমির কম বাড়ে, বা বংশগত উচ্চতার তুলনায় অনেক কম হয়, তাহলে দেরি করবেন না। শিশু এন্ডোক্রিনোলজিস্ট থাইরয়েড, গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি বা অন্য কোনও সমস্যা আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখবেন। মনে রাখবেন, গ্রোথ হরমোনের চিকিৎসা গ্রোথ প্লেট বন্ধ হওয়ার আগেই শুরু করতে হয়, তাই ১৪ বছরের আগেই সচেতন হওয়া জরুরি।

উচ্চতা অনেকটাই জিনের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু সঠিক পুষ্টি, ঘুম আর শরীরচর্চা পেলে শিশু তার জিনগত সর্বোচ্চ উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই অযথা দুশ্চিন্তা না করে, আজ থেকেই গ্রোথ ট্র্যাক করা শুরু করুন।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Sleep: চিৎ হয়ে ঘুমান নাকি পাশ ফিরে? ঘুমোনোর ভঙ্গিই ফাঁস করে দেবে ব্যক্তিত্বের গোপন রহস্য!
শাড়ির সঙ্গে পরার মতো দারুণ কিছু কুন্দন ঝুমকার ডিজাইন, দেখে নিন