Travel Tips: ডলফিনের সঙ্গে কোস্টাল ট্রেক! ওড়িশার রাজহংস দ্বীপে লুকিয়ে বাংলার সবচেয়ে নিরিবিলি সি-বীচ

Published : May 21, 2026, 02:21 PM IST
Arabian Sea

সংক্ষিপ্ত

Travel Tips: পুরী-কোনার্ক ঘুরে বোর? তাহলে এবার চলুন ওড়িশার সবচেয়ে সিক্রেট বীচে। নাম রাজহংস দ্বীপ। চিলকা লেক যেখানে সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে, ঠিক সেই মোহনায় এই দ্বীপ। একদিকে লেকের শান্ত জল, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের গর্জন। 

Travel Tips: ডলফিনের সাথে কোস্টাল ট্রেক! ওড়িশার রাজহংস দ্বীপে লুকিয়ে বাংলার সবচেয়ে নিরিবিলি সি-বীচ

গোয়া-দিঘার ভিড় থেকে পালাতে চান? চোখ বন্ধ করে চলে যান ওড়িশার রাজহংস দ্বীপে। পুরী থেকে মাত্র ৫০ কিমি দূরে চিলকা লেকের গায়ে এই দ্বীপ এখনো ‘ভার্জিন’। কারণ এখানে পৌঁছানোই একটা অ্যাডভেঞ্চার।

১. রাজহংস দ্বীপ কেন আলাদা?

এটা আসলে কোনো দ্বীপ না, একটা সরু বালির জিভ। চিলকা লেক আর বঙ্গোপসাগরকে আলাদা করেছে ১৮ কিমি লম্বা এই বালির চর। একপাশে নীল লেকের জল, অন্যপাশে উত্তাল সমুদ্র। মাঝখানে দাঁড়ালে মনে হবে দুটো দুনিয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। বালি এত সাদা আর মিহি যে খালি পায়ে হাঁটলে পায়ে লাগবে না।

২. ‘কোস্টাল ট্রেক’ – এই বীচের ইউএসপি

ভারতে বীচ ট্রেক খুব কম জায়গায় হয়। রাজহংস তার মধ্যে সেরা। সাতপাড়া থেকে বোটে নেমে শুরু করুন হাঁটা। ৪-৫ কিমি হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন ‘সি মাউথ’ পয়েন্টে, যেখানে লেক আর সমুদ্র কোলাকুলি করেছে।

ট্রেকে কী দেখবেন: পুরো রাস্তা জুড়ে লাল কাঁকড়ার দৌড়। ভাটার সময় হাজার হাজার কাঁকড়া বালিতে আল্পনা আঁকে। সমুদ্রের দিকে তাকালেই দেখবেন ইরাবতী ডলফিন লাফাচ্ছে। চিলকার ডলফিন খুব ফ্রেন্ডলি, বোটের কাছেই চলে আসে। শীতকালে কপাল ভালো থাকলে ফ্লেমিংগো, পেলিক্যানও দেখবেন। পুরো ট্রেকে আপনি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। এটাই এর ম্যাজিক।

৩. কীভাবে যাবেন?

রুট ১ - পুরী হয়ে: পুরী থেকে গাড়িতে ৫০ কিমি ড্রাইভ করে সাতপাড়া। সাতপাড়া চিলকার বিখ্যাত ডলফিন পয়েন্ট।

রুট ২ - ভুবনেশ্বর হয়ে: ভুবনেশ্বর থেকে ১১০ কিমি। ট্রেনে বালুগাঁও নেমে সেখান থেকেও সাতপাড়া যাওয়া যায়।

সাতপাড়া থেকে OTDC বা প্রাইভেট মোটরবোট ভাড়া নিতে হবে। ৩০ মিনিটের বোট রাইডে আপনি রাজহংস দ্বীপ। বোট আপনাকে নামিয়ে দিয়ে ওয়েট করবে। ঘণ্টা হিসাবে ভাড়া, ১৫০০-২৫০০ টাকা পড়ে।

৪. কখন যাবেন? কী মাথায় রাখবেন?

সেরা সময়: অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। ওয়েদার ঠান্ডা, সমুদ্র শান্ত, পরিযায়ী পাখি আসে। বর্ষায় চিলকা উত্তাল থাকে, বোট বন্ধ থাকে। গরমে রোদে হাঁটা কষ্ট।

৫টা জরুরি টিপস:

১. সকাল সকাল যান: সকাল ৭টায় বোট নিন। ১১টার পর রোদ বাড়ে, ফিরতে কষ্ট হবে।

২. খাবার-জল নিন: দ্বীপে কিছুই পাবেন না। কোনো দোকান, শেড, টয়লেট নেই। জল, শুকনো খাবার, ছাতা, টুপি, সানস্ক্রিন মাস্ট।

৩. জুতো পরে হাঁটুন: বালি গরম হয়। আবার জলে কাজুয়ারিনার ফল বা ঝিনুক থাকতে পারে। ভালো গ্রিপের স্যান্ডেল পরুন।

৪. সমুদ্রে নামবেন না: সি মাউথ পয়েন্টে ভয়ানক আন্ডারকারেন্ট। লোকালরাও নামে না। শুধু পা ভেজান।

৫. প্লাস্টিক নেবেন না: এটা ডলফিনের এলাকা। চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল ফেললে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ফাইন হতে পারে।

৫. থাকবেন কোথায়?

রাজহংস দ্বীপে থাকার জায়গা নেই। ডে-ট্রিপ করেই ফিরতে হয়। থাকতে হবে সাতপাড়ায় OTDC পান্থনিবাসে অথবা পুরীতে। অনেকে পুরী থেকে সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসে।

খরচ: বোট ভাড়া ২০০০ ধরে আর পুরী থেকে গাড়ি ২৫০০ ধরে, ৪ জনের গ্রুপ হলে জনপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকায় দারুণ একটা দিন কাটবে।

যারা ভিড় ছেড়ে শুধু সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে চান, যারা ডলফিনের সাথে হাঁটতে চান, তাদের জন্য রাজহংস দ্বীপ হল মাস্ট ভিজিট। পুরী গেলে একটা দিন এক্সট্রা রাখুন শুধু এই ‘কোস্টাল ট্রেক’-এর জন্য। মন ভালো হয়ে যাবেই।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Weight Loss: ওজন কমাতে চান? ডায়েটে রাখুন এই ৬টি স্বাস্থ্যকর পানীয়
চোখ ছাড়াই পৃথিবী দেখুন! মেটার এআই চশমা আনছে দৃষ্টিহীনদের ‘ডিজিটাল দৃষ্টি’