Health News: ভাতের গ্রাস মুখে দিয়েই জলের গ্লাসে চুমুক? এই অভ্যাসটাই আপনার গ্যাস, অম্বল, ভুঁড়ি আর বদহজমের আসল কারণ। খাওয়ার সময় জল খেলে পেটের হজমের অ্যাসিড পাতলা হয়ে যায়। 

Health News: মায়েরা ছোটবেলায় বারণ করত, “খেতে বসে জল খাস না”। আমরা পাত্তা দিইনি। এখন ৩০ পেরোতেই পেট ফুলে থাকে, খাওয়ার পর ঢেকুর, বুক জ্বালা, সারাদিন ক্লান্তি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আয়ুর্বেদ থেকে মডার্ন সায়েন্স, দুজনেই বলছে খাওয়ার সময় জল খাওয়া মানে নিজের হজম সিস্টেমে নিজেই আগুন লাগানো।

খাবার + জল একসাথে পেটে গেলে ঠিক কী হয়? ৫টা কাণ্ড:

১. হজমের অ্যাসিড ‘জল’ হয়ে যায়, খাবার পচে

পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে। এর pH ১-২, মানে ব্যাটারির অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী। এই অ্যাসিডই ভাত, মাছ, মাংসকে গলিয়ে দেয়। আপনি খাওয়ার মাঝে ৩০০ml জল ঢাললেন মানে অ্যাসিডের ঘনত্ব ১০ গুণ কমে গেল। ফল? খাবার ৪ ঘণ্টার জায়গায় ৮ ঘণ্টা পেটে পড়ে থাকে। পচতে শুরু করে। গ্যাস, টক ঢেকুর, পেট ভার ১০০% গ্যারান্টি।

২. স্যালাইভা ধুয়ে যায়, হজম শুরুই হয় না

হজম শুরু হয় মুখে। ভাত চিবানোর সময় লালা মেশে। লালায় ‘অ্যামাইলেজ’ এনজাইম থাকে, যেটা শর্করা ভাঙে। আপনি গ্রাসের সাথে জল খেলেন মানে লালা ধুয়ে পেটে চলে গেল। শর্করা ভাঙল না। সোজা পেটে গিয়ে ফার্মেন্টেশন হলো। গ্যাসের বেলুন ফুলল।

৩. ইনসুলিন স্পাইক হয়, ভুঁড়ি বাড়ে

হজম স্লো হলে ব্লাড সুগার ধীরে ধীরে বাড়ে না। হঠাৎ করে বাড়ে। শরীর সেটা সামলাতে বেশি ইনসুলিন ছাড়ে। রোজ এটা হলে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ শুরু। মানে ডায়াবেটিসের প্রথম ধাপ। আর এক্সট্রা সুগার ফ্যাট হয়ে ভুঁড়িতে জমে। খাওয়ার সময় জল খাওয়া লোকের ভুঁড়ি এই কারণেই কমে না।

৪. পুষ্টি টানতে পারে না শরীর, রক্ত কমে

আয়রন, B12, প্রোটিন টানার জন্য পেটে স্ট্রং অ্যাসিড লাগে। জল খেয়ে অ্যাসিড পাতলা করলে B12 টানবে না। রেজাল্ট? রক্ত কম, চুল পড়া, সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব। লাখ টাকার ভিটামিন খেয়েও লাভ নেই, যদি খাওয়ার সময় জল খান।

৫. IBS, লিকি গাটের রাস্তা খোলে

অপাচ্য খাবার দিনের পর দিন পেটে পড়ে থাকলে অন্ত্রের দেওয়ালে ঘা হয়। একে বলে ‘লিকি গাট’। টক্সিন রক্তে মিশে স্কিন খারাপ, অ্যালার্জি, অটোইমিউন ডিজিজ ডেকে আনে। গ্যাস-অম্বলটা শুধু ট্রেলার।

তাহলে জল কখন খাবেন? গোল্ডেন রুল:

১. খাওয়ার 30 মিনিট আগে: ১ গ্লাস জল খান। পেট তৈরি থাকবে, ওভারইটিং হবে না।

২. খাওয়ার মাঝে: একদম না। খুব গলা শুকালে ১-২ চুমুক, তাও উষ্ণ জল।

৩. খাওয়ার ৪৫-৬০ মিনিট পর: ১-২ গ্লাস জল। ততক্ষণে হজমের প্রথম ধাপ শেষ। জল এবার পুষ্টি টানতে সাহায্য করবে।

খুব ঝাল বা শুকনো খাবার খেলে কী করবেন?

জল নয়, খানিকটা দই বা শসা খান। বা খাওয়ার শেষে ১ চামচ ঘি ভাতের সাথে মেখে খান। গলা ভিজবে, হজমেও সাহায্য করবে।

কাদের জন্য ছাড় আছে?

১. বয়স্ক মানুষ, যাদের লালা কম তৈরি হয়।

২. যারা ওষুধ খান খাওয়ার মাঝে।

৩. বাচ্চা, যাদের বিষম লাগে।

তবে এদেরও ঢকঢক করে নয়, ১-২ চুমুক উষ্ণ জল।

শেষ কথা:

আমাদের পূর্বপুরুষরা মূর্খ ছিলেন না। “খেয়ে উঠে জল খাওয়া” রীতিটা এমনি এমনি আসেনি। আপনার ফ্রিজের ঠান্ডা জল আর ১ গ্লাস জল ১ গ্রাস ভাতে, এই দুটোই আপনার পেটের শত্রু।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।