
Sleeping Tips: লোডশেডিং, গরম, তার উপর গায়ে জামা। রাতে এপাশ-ওপাশ করেই কাটে। অনেকেই বলে খালি গায়ে ঘুমালে নাকি শান্তি। কিন্তু এটা কি আদৌ হেলদি? নাকি শুধুই হুজুগ?
স্লিপ এক্সপার্ট আর ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, খালি গায়ে ঘুমানোর বিজ্ঞান আছে। আবার রিস্কও আছে।
১. ঘুম তাড়াতাড়ি আসে, গভীর হয়
ঘুমানোর জন্য বডি টেম্পারেচার ১-২ ডিগ্রি কমতে হয়। জামা পরে ঘুমালে শরীর গরম হয়ে থাকে, বিশেষ করে গরমকালে। খালি গায়ে থাকলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়। ব্রেন মেলাটোনিন হরমোন ছাড়ে, ঘুম জলদি আসে। স্টাডি বলছে, যারা নগ্ন হয়ে ঘুমান তাদের ‘ডিপ স্লিপ’ ২০% বেশি হয়।
২. স্কিনের সমস্যা কমে
সারাদিন টাইট জামা, আন্ডারওয়্যার পরে ঘাম জমে। রাতে স্কিন শ্বাস নিতে পারে না। ফলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, র্যাশ, ব্রণ হয়। খালি গায়ে ঘুমালে হাওয়া চলাচল করে। ঘাম শুকায়। প্রাইভেট পার্টসেও ইনফেকশন চান্স কমে। মেয়েদের ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন আর ছেলেদের জক ইচ কম হয়।
৩. মেটাবলিজম আর ফার্টিলিটি বাড়ে
ঠান্ডায় ঘুমালে শরীরে ‘ব্রাউন ফ্যাট’ অ্যাক্টিভ হয়। এই ফ্যাট ক্যালোরি বার্ন করে শরীর গরম রাখে। মানে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ওজন কমে। ছেলেদের জন্য আরও বড় প্লাস: অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের থেকে ২ডিগ্রি কম থাকা দরকার। টাইট আন্ডারওয়্যার পরে ঘুমালে টেম্পারেচার বেড়ে স্পার্ম কাউন্ট আর কোয়ালিটি কমে যায়। খালি গায়ে ঘুমালে স্পার্ম হেলদি থাকে।
৪. পার্টনারের সাথে বন্ডিং বাড়ে
স্কিন-টু-স্কিন টাচ হলে অক্সিটোসিন হরমোন বের হয়। একে বলে ‘লাভ হরমোন’। এটা স্ট্রেস কমায়, ব্লাড প্রেশার কমায়, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। সাইকোলজিস্টরা কাপলদের সপ্তাহে ২-৩ দিন নগ্ন হয়ে ঘুমাতে বলেন।
কিন্তু ২টো অপকারও আছে, সাবধান:
১. ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি
AC ১৬-এ দিয়ে খালি গায়ে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা বেশি নেমে যাবে। ইমিউনিটি দুর্বল যাদের, তাদের সর্দি, গলা ব্যথা, সাইনাসের সমস্যা হবে। বয়স্ক মানুষদের হাইপোথার্মিয়ার রিস্ক থাকে।
২. অ্যালার্জি আর বেড বাগ
আমরা ভাবি চাদর পরিষ্কার। আসলে বালিশ-চাদরে ডাস্ট মাইট, ডেড স্কিন, ঘাম জমে থাকে। খালি গায়ে ঘুমালে এগুলো সরাসরি স্কিনে লাগে। অ্যালার্জি, চুলকানি, ব্রণ বাড়তে পারে। আর যদি খাটে ছারপোকা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই।
কারা ভুলেও ট্রাই করবেন না?
১. যাদের স্কিন অ্যালার্জি বা একজিমা আছে: খোলা স্কিনে ডাস্ট লাগলে সমস্যা বাড়বে।
২. স্লিপওয়াকাররা: মাঝরাতে বাথরুমে গেলে বা ভূমিকম্প হলে লজ্জায় পড়বেন।
৩. বাচ্চা বা বয়স্কদের সাথে এক ঘরে শুলে: প্রাইভেসি আর হাইজিনের ইস্যু।
৪. যাদের রাতে ঘন ঘন ওঠার অভ্যাস: ঠান্ডা লেগে যাবে।
ট্রাই করতে চাইলে ৩টে নিয়ম মানুন:
১. রুম টেম্পারেচার: ঘর ২২-২৫ ডিগ্রি রাখুন। বেশি ঠান্ডা বা গরম নয়।
২. চাদর পরিষ্কার রাখুন: সপ্তাহে ২ বার চাদর-বালিশের কভার পাল্টান। ৬০ডিগ্রি গরম জলে কাচুন।
৩. পাতলা চাদর গায়ে দিন: পুরো নগ্ন হতে অস্বস্তি হলে একটা পাতলা সুতির চাদর গায়ে রাখুন। বডি টেম্পারেচারের বেনিফিট পাবেন, আবার ডাস্ট থেকেও বাঁচবেন।
ডাক্তারের পরামর্শ:
খালি গায়ে ঘুমানো খারাপ না, যদি আপনার ঘর পরিষ্কার থাকে, টেম্পারেচার ঠিক থাকে আর আপনার স্কিনে সমস্যা না থাকে। গরমকালে বা যাদের রাতে ঘাম হয় তাদের জন্য বেস্ট। কিন্তু AC-র ঠান্ডায় বা ধুলো-ভরা বিছানায় ট্রাই করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News