"সিগারেট ছেড়ে ভ্যাপ বা হুক্কা ধরেছি, এটা তো ক্ষতিকর না" - এমন ভাবনা অনেকের। কিন্তু আসল সত্যিটা কী? WHO, CDC আর ভারতীয় মেডিক্যাল রিসার্চ বলছে ভ্যাপিং-হুক্কাও ফুসফুস, হার্টের জন্য সমান ক্ষতিকর। নিকোটিন আসক্তি, ক্যান্সারের ঝুঁকি, EVALI নামের ফুসফুসের রোগ – সবই আছে। "কম ক্ষতিকর" মানে "নিরাপদ" না। বিস্তারিত জানুন। 

বন্ধুদের আড্ডায়, ক্যাফেতে, রিলসে এখন ভ্যাপ আর হুক্কার ছড়াছড়ি। ফ্লেভার দেওয়া মিষ্টি ধোঁয়া, LED লাইটওয়ালা ডিভাইস দেখে মনে হয় "এটা তো সিগারেট না, তাই ক্ষতি কম"। অনেকেই সিগারেট ছাড়ার জন্য ভ্যাপ ধরছেন। কিন্তু সত্যিটা কী? WHO, CDC, IMA সবাই বলছে - ভ্যাপিং-হুক্কাও ফুসফুস শেষ করে দেয়। "ধোঁয়া কম দেখা যায়" মানেই "বিষ কম" না। আজ জেনে নিন ডাক্তারদের আসল মত আর বৈজ্ঞানিক সত্যি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মানুষ কেন ভ্যাপিং-হুক্কাকে নিরাপদ ভাবে?

সিগারেটের ধোঁয়ার গন্ধ, ছাই, দাঁত হলুদ হওয়া – এইগুলো নেই ভ্যাপ বা হুক্কায়। ফ্লেভার থাকে, ধোঁয়া দেখতে ভালো লাগে, "স্মোকলেস" মনে হয়। তাই অনেকেই ভাবে এটা সিগারেটের নিরাপদ বিকল্প। বিজ্ঞাপনেও "95% কম ক্ষতিকর" জাতীয় কথা শোনা যায়। কিন্তু পুরো সত্যিটা সেটা না।

আসল সত্যি : ভ্যাপিং কি নিরাপদ?

না, একদম নিরাপদ না। ভ্যাপে তামাক পোড়ে না ঠিকই, কিন্তু তরল নিকোটিন গরম করে অ্যারোসল বানানো হয়। সেই অ্যারোসলে থাকে

- নিকোটিন: সিগারেটের মতোই আসক্তি তৈরি করে। টিনএজারদের ব্রেন ডেভেলপমেন্ট নষ্ট করে।

- ফর্মালডিহাইড, অ্যাক্রোলিন: ক্যান্সার তৈরি করে। গরম করলে এই বিষাক্ত কেমিক্যাল তৈরি হয়।

- ভিটামিন E অ্যাসিটেট: ভ্যাপের তরলে মেশানো হয়। এটা ফুসফুসে জমে "EVALI" নামের মারাত্মক ফুসফুসের রোগ করে। আমেরিকায় হাজার হাজার কেস, অনেক মৃত্যু হয়েছে।

CDC স্পষ্ট বলছে - "ভ্যাপিং নিরাপদ না, বিশেষ করে যারা ধূমপান করে না তাদের জন্য তো একদম না"।

আসল সত্যি : হুক্কা কি সিগারেটের থেকে ভালো?

একদমই না, বরং বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। হুক্কার জলে ধোঁয়া ফিল্টার হয় - এটা মিথ।

১ ঘণ্টা হুক্কা = 100টা সিগারেটের সমান ধোঁয়া টানেন আপনি। কারণ হুক্কা সেশনে আপনি অনেক বেশি সময় ধরে, অনেক বেশি ধোঁয়া টানেন।

হুক্কার ধোঁয়াতেও থাকে - কার্বন মনোক্সাইড, টার, ভারী ধাতু, ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কেমিক্যাল।

জলের মধ্যে দিয়ে গেলেও নিকোটিন, টার ফিল্টার হয় না। উল্টে কয়লা পোড়ার কার্বন মনোক্সাইড আলাদা রিস্ক। হুক্কার পাইপ শেয়ার করলে যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস, হার্পিসের মতো সংক্রমণ ছড়ায়।

তাহলে "কম ক্ষতিকর" কথাটার মানে কী?

কিছু স্টাডি বলে ভ্যাপে সিগারেটের মতো "টার" নেই, তাই ফুসফুস ক্যান্সারের রিস্ক একটু কম হতে পারে। কিন্তু "একটু কম রিস্ক" মানে "নিরাপদ" না।

উদাহরণ: ছুরি দিয়ে হাত কাটা vs ব্লেড দিয়ে হাত কাটা। দুটোই ক্ষতি করবে, একটা একটু কম গভীর হতে পারে। কিন্তু নিরাপদ কোনোটাই না।

ডাক্তাররা কী বলছেন?

ভারতীয় চিকিৎসক সংস্থা IMA, WHO, American Lung Association - সবাই একমত:

১. ভ্যাপিং-হুক্কা ধূমপান ছাড়ার "নিরাপদ" উপায় না।

২. যারা ধূমপান করে না, তাদের ভ্যাপিং শুরু করা উচিত না।

৩. গর্ভবতী, হার্টের রোগী, অ্যাজমার রোগীদের জন্য ভ্যাপিং-হুক্কা খুবই বিপজ্জনক।

ধূমপান ছাড়তে চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে NRT প্যাচ, গাম বা কাউন্সেলিং করুন। ভ্যাপ ধরবেন না।

শেষ কথা

সিগারেট খারাপ - এটা সবাই জানে। কিন্তু ভ্যাপিং বা হুক্কা "নিরাপদ বিকল্প" না। এগুলোও ফুসফুস নষ্ট করে, হার্টের রোগ বাড়ায়, ক্যান্সারের ঝুঁকি দেয়, নিকোটিনে আসক্ত করে। "ধোঁয়া কম দেখা যায়" মানেই "বিষ কম" না।

ফুসফুস একটাই। সেটাকে বাঁচান।

নোট: ধূমপান, ভ্যাপিং বা নিকোটিন সংক্রান্ত কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটা সাধারণ তথ্য, চিকিৎসার বিকল্প না।