
মকর সংক্রান্তি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শুভ একটি তিথি। এই দিন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করেন এবং সেই সঙ্গে শেষ হয় পৌষ মাস, শুরু হয় উত্তরায়ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিন স্নান, দান ও সংযম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এই দিনে কিছু বিধিনিষেধ মানা জরুরি বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে, ভুল খাবার গ্রহণ করলে শরীরের পাশাপাশি জীবনে নেমে আসতে পারে অশুভ প্রভাব। জেনে নিন মকর সংক্রান্তিতে কোন কোন খাবার ভুলেও খাওয়া উচিত নয়।
১. আমিষ খাবার মকর সংক্রান্তি একটি পবিত্র ও সাত্ত্বিক তিথি। এই দিনে মাছ, মাংস, ডিমের মতো আমিষ খাবার গ্রহণ নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, আমিষ খাবার খেলে পূণ্য নষ্ট হয় এবং নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে।
২. মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য এই দিনে মদ্যপান বা যে কোনও ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা উচিত। শাস্ত্র মতে, এতে দেবদেবীরা অসন্তুষ্ট হন এবং সংসারে অশান্তি নেমে আসতে পারে।
৩. বাসি ও ফ্রিজে রাখা খাবার মকর সংক্রান্তির দিনে তাজা রান্না করা খাবার খাওয়াই শ্রেয়। আগের দিনের বাসি খাবার বা দীর্ঘক্ষণ ফ্রিজে রাখা খাবার গ্রহণ করলে শরীর ও মনে অশুদ্ধতা আসে বলে বিশ্বাস।
৪. অতিরিক্ত ঝাল ও ভাজাভুজি এই দিনে অতিরিক্ত ঝাল, তেল-মশলাযুক্ত বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এই তিথিতে সংযম পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারী খাবার শরীরের ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
৫. রসুন ও পেঁয়াজ অনেকেই জানেন না, মকর সংক্রান্তিতে পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়াও নিষিদ্ধ। এগুলো তামসিক খাদ্য হিসেবে গণ্য হয়। এই দিনে সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করাই উত্তম।
৬. অত্যধিক লবণাক্ত খাবার অতিরিক্ত নোনতা খাবার এই দিনে পরিহার করার কথা বলা হয়েছে। লবণাক্ত খাবার নেগেটিভ শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ব্রত বা পুজোর পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না বলে বিশ্বাস। কী খাবেন মকর সংক্রান্তিতে মকর সংক্রান্তিতে তিল ও গুড় দিয়ে তৈরি খাবারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিলের লাড্ডু, গুড়ের পিঠে, খিচুড়ি, পায়েসের মতো সাত্ত্বিক ও পবিত্র খাবার গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং সংসারে আসে সুখ ও সমৃদ্ধি। উপসংহার মকর সংক্রান্তি শুধু উৎসব নয়, এটি সংযম ও শুদ্ধতার প্রতীক। এই দিনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে মানসিক শান্তি, শারীরিক সুস্থতা ও জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে বলে বিশ্বাস। তাই শাস্ত্রের বিধিনিষেধ মেনে ভুল খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।