কিডনির সমস্যা? রোজের পাতে এই ৮ সবজি ভুলেও নয়! পটাশিয়াম বেড়ে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক

Published : May 22, 2026, 03:54 PM IST
Kidney Issues

সংক্ষিপ্ত

কিডনি খারাপ হলে ডায়েটই সবচেয়ে বড় ওষুধ। পটাশিয়াম আর ফসফরাস বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক, হাড় ক্ষয়, চুলকানির মতো সমস্যা হয়। নেফ্রোলজিস্টরা বলছেন, পালং-টমেটোর সাথে মাশরুম, রাঙা আলু, ব্রকলির মতো ‘হেলদি’ সবজিও CKD রোগীদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। 

কিডনি আমাদের শরীরের ফিল্টার। কিন্তু একবার খারাপ হলে সে রক্ত থেকে পটাশিয়াম, ফসফরাস বের করতে পারে না। এই দুটো মিনারেল রক্তে জমলেই হার্টবিট বন্ধ হওয়া থেকে হাড় ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই কিডনি রোগ ধরা পড়লেই ডাক্তার সবার আগে পাত থেকে কিছু সবজি সরিয়ে দেন। চলুন দেখি কোন ৮ সবজি কিডনি রোগীর জন্য ‘রেড জোন’।

১. পালং শাক: পটাশিয়ামের খনি

১ কাপ রান্না করা পালং শাকে পটাশিয়াম 840 mg। CKD 3-5 স্টেজের রোগীর কিডনি এত পটাশিয়াম ফিল্টার করতে পারে না। ফল: কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। পালং, মেথি, নোটে শাক বাদ।

২. টমেটো: লুকানো বিপদ

১টা মাঝারি টমেটোতেই 290 mg পটাশিয়াম + অক্সালেট। কিডনি স্টোনের চান্স বাড়ায়। GFR 60% এর কম হলে কাঁচা টমেটো, সস, কেচাপ নিষেধ।

৩. আলু: বাঙালির প্রিয়, কিডনির দুশমন

১টা মাঝারি আলুতে পটাশিয়াম 610 mg। ডায়ালিসিস রোগীর দিনে লিমিট 2000 mg। মানে 3টে আলু খেলেই লিমিট শেষ। খেতে হলে লিচিং মাস্ট: ছোট করে কেটে 4 ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে, জল ফেলে সেদ্ধ করুন। 50% পটাশিয়াম কমে।

৪. রাঙা আলু: মিষ্টি হলেও রিস্কি

রাঙা আলুকে হেলদি ভাবেন? CKD রোগীর জন্য না। ১ কাপ সেদ্ধ রাঙা আলুতে পটাশিয়াম 540 mg আর ফসফরাস 65 mg। কিডনি খারাপ হলে ফসফরাস জমে হাড় দুর্বল করে, চুলকানি হয়। তাই রাঙা আলু, মিষ্টি কুমড়ো এড়িয়ে চলুন।

৫. মিষ্টি কুমড়ো: ফসফরাসের ভাণ্ডার

১ কাপ সেদ্ধ কুমড়োতে পটাশিয়াম 580 mg + ফসফরাস 74 mg। ফসফরাস বেড়ে গেলে রক্তনালীতে ক্যালসিয়াম জমে। CKD রোগীরা বাদ দিন।

৬. বিট: অক্সালেট বোমা

বিটরুট জুস ট্রেন্ডি, কিন্তু কিডনি রোগীর জন্য বিপদ। ১ কাপ বিটে পটাশিয়াম 440 mg আর প্রচুর অক্সালেট। অক্সালেট = কিডনি স্টোন। GFR কম থাকলে বিট, পুঁই শাক একদম না।

৭. মাশরুম: ফসফরাস বেশি

মাশরুম প্রোটিনের ভালো সোর্স। কিন্তু ১ কাপ রান্না করা মাশরুমে ফসফরাস 110 mg আর পটাশিয়াম 320 mg। কিডনি খারাপ হলে ফসফরাস বের হয় না। রক্তে ফসফরাস বাড়লে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম টেনে নেয়, ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়। তাই ডায়ালিসিস রোগীরা মাশরুম এড়িয়ে চলুন। খুব খেতে ইচ্ছে হলে সপ্তাহে 2-3 পিস, তাও ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে।

৮. ব্রকলি: বেশি খেলেই বিপদ

ব্রকলি সুপারফুড, কিন্তু CKD রোগীর জন্য পরিমাণই আসল। ১ কাপ সেদ্ধ ব্রকলিতে পটাশিয়াম 460 mg। অল্প খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু রোজ 1 বাটি ব্রকলি স্যুপ বা স্টার-ফ্রাই খেলে পটাশিয়াম লিমিট ক্রস করবে। তাই CKD 4-5 স্টেজ বা ডায়ালিসিস রোগীরা ব্রকলি এড়িয়ে চলুন। খেতে হলে 1/2 কাপ, মাসে 2-3 বার, তাও লিচিং করে।

তাহলে কিডনি রোগীরা কী খাবেন? ৫টা সেফ সবজি

১. লাউ: পটাশিয়াম মাত্র 76 mg/কাপ। কিডনি বান্ধব।

২. পটল: 211 mg পটাশিয়াম, লিচিং করে নিলে সেফ।

৩. ঝিঙে: পটাশিয়াম কম, হজম সহজ।

৪. কাঁচা পেঁপে: তরকারি করে খান, পটাশিয়াম খুব কম।

৫. শসা: খোসা ছাড়িয়ে খান। জল বেশি, পটাশিয়াম কম।

৩টে গোল্ডেন রুল মনে রাখুন:

রুল ১: লিচিং মাস্ট। আলু, ফুলকপি, গাজর, ব্রকলি – সব ছোট করে কেটে 2 ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। জল ফেলে রান্না করুন। 40-60% পটাশিয়াম কমে।

রুল ২: পরিমাণ মাপুন। ‘সেফ’ সবজিও দিনে 1 কাপের বেশি না। মাশরুম-ব্রকলি হলে মাসে 2-3 বার।

রুল ৩: ডাক্তারই ভরসা। আপনার GFR, পটাশিয়াম, ফসফরাস লেভেল কত তার উপর ডায়েট নির্ভর করে। রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া ডায়েট চার্ট বানাবেন না।

শেষ কথা:

কিডনি রোগ মানেই জীবন শেষ না। ঠিক ডায়েট মানলে সুস্থ থাকা যায়। এই ৮ সবজি বাদ দিন, লিচিং করে সেফ সবজি খান। 3 মাস অন্তর ক্রিয়েটিনিন, পটাশিয়াম, ফসফরাস টেস্ট করান। মনে রাখবেন, সচেতনতাই কিডনির সবচেয়ে বড় ওষুধ।

এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। এটি কোনো প্রেসক্রিপশন নয়। কিডনির রোগী নিজের নেফ্রোলজিস্ট বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের সাথে কথা বলে তবেই ডায়েট ফলো করুন।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Food Tips: গরম ভাতে এক থালা স্বর্গ! মা-ঠাকুমার হাতের সেই সজনে ডাঁটা দিয়ে ছোলার ডাল রেসিপি, জানুন এক ক্লিকে
Travel Tips: ওড়িশার লুকোনো স্বর্গ ‘সরফগড়’: পাহাড়-ঝর্ণা-জঙ্গলের মাঝে হারিয়ে যেতে চান? ২ দিনের ট্রিপে ঘুরে আসুন