Parenting Tips: "এখন কে আর বই পড়ে?" এই প্রশ্নটা গত ৫ বছরে সবাই করেছে। কিন্তু উত্তরটা চোখের সামনেই। Instagram আর TikTok খুললেই দেখবেন ২০ বছরের একটা ছেলে ক্যামেরার সামনে বসে কাঁদছে আর বলছে This book broke me। পাশে রাখা ৪০০ পাতার একটা উপন্যাস। লক্ষ লক্ষ ভিউ। কমেন্টে হাজার জন লিখছে "আমিও কেঁদেছি"। এটাই হল BookTok।
Parenting Tips: BookTok হলো সোশ্যাল মিডিয়ার একটি সাহিত্যজগৎ। এখানে বইপ্রেমীরা ছোট ছোট ভিডিও বানান। বইয়ের রিভিউ দেন, প্রিয় চরিত্র নিয়ে কথা বলেন এবং নতুন বইয়ের পরামর্শ দেন। কোনও একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হলেই সেই বইয়ের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
সোজা ভাষায় BookTok হল বই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় আড্ডা। এখানে কেউ ১ মিনিটে একটা বইয়ের গল্প বলে দেয়। কেউ প্রিয় লাইনে দাগ দিয়ে ভিডিও বানায়। কেউ আবার নিজের ঘরের Bookshelf ট্যুর করায়। Romance থেকে Fantasy, Thriller থেকে Self-help - কোন জনর বাদ নেই। একটা ভিডিও ভাইরাল হওয়া মানেই দোকানে সেই বই Sold Out।
আসলে জেন জি ক্লান্ত। ১৫ সেকেন্ডের রিলস, ৩০ সেকেন্ডের মিম দেখতে দেখতে মাথা জ্যাম। তার মাঝে ৩০০ পাতার একটা গল্প ৩ দিন ধরে পড়ার মধ্যে একটা আলাদা শান্তি পাচ্ছে ওরা। BookTok বইকে আবার Cool বানিয়ে দিয়েছে। এখন ক্যাফেতে বই নিয়ে ছবি তোলা, বন্ধুদের সাথে বই নিয়ে ঝগড়া করা - এগুলোই স্ট্যাটাস।
আর সবচেয়ে বড় পাওনা হল কমিউনিটি। আগে একটা বই পড়ে কার সাথে ডিসকাস করবে? এখন BookTok এ পোস্ট করলেই ৫০০ জন এসে বলে "ওই টুইস্টটা আমি বুঝতেই পারিনি"। এই কারণেই কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু, সব শহরে এখন নতুন বুক ক্লাব গজাচ্ছে। ক্যাফেতে ২০-৩০ জন জড়ো হয়ে একটা বই নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেয়। প্রকাশকরাও খুশি। ১০ বছর আগের একটা বই BookTok এ ভাইরাল হলে আবার লাখ লাখ কপি বিক্রি হচ্ছে। নতুন লেখকরাও এখন সরাসরি TikTok এ এসে নিজের বইয়ের কথা বলে।
BookTok একটা জিনিস শিখিয়ে দিল। সমস্যা ফোনে না, সমস্যা আমরা ফোনটা কীভাবে ব্যবহার করছি তাতে। ফোনই আবার মানুষকে পাতার গন্ধ, কালির আঁচড়ের কাছে ফিরিয়ে আনছে। জেন জি বই পড়া ছাড়েনি। ওরা শুধু বই পড়াকে নিজেদের মতো করে নতুন করে সাজিয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে


