
শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, সারা বছর মাথায় খুশকি। কালো জামা পরা যায় না। আঁচড়ালেই সাদা গুঁড়ো পড়ছে। আবার ৩০ পেরোতেই চোখের কোণে, কপালে ফাইন লাইন। বাজার চলতি অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু, অ্যান্টি-এজিং ক্রিম কিনে ফতুর। লাভ? জিরো। অথচ সলিউশন আপনার কিচেনেই আছে। ডিম। আমাদের মা-ঠাকুমারা এটা দিয়েই চুল-ত্বক তাগড়া রাখত। কেমিক্যাল নেই, সাইড এফেক্ট নেই। শুধু নিয়মটা জানতে হবে। কোন চুলে কী, কোন স্কিনে কীভাবে লাগাবেন—ভুল করলেই গন্ধ আর লাভ দুটোই হবে।
১. খুশকির যম: ডিমের সাদা অংশে লাইসোজাইম এনজাইম থাকে। এটা ফাঙ্গাস মারে। খুশকির মেন কারণ হল ফাঙ্গাস। তাই ডিম লাগালে স্ক্যাল্প ক্লিন হয়, চুলকানি কমে। সাথে কুসুমের ফ্যাটি অ্যাসিড স্ক্যাল্প ড্রাই হতে দেয় না। ড্রাই স্ক্যাল্প = খুশকি।
২. প্রোটিন বুস্টার: চুল ৭০% কেরাটিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি। গরমে, স্ট্রেটনার, কালারে প্রোটিন নষ্ট হয়। চুল ভেঙে পড়ে। ডিমের কুসুম হাই কোয়ালিটি প্রোটিন। ড্যামেজড চুল রিপেয়ার করে। চুলে থিকনেস আসে।
৩. বায়োটিনের ভাণ্ডার: কুসুমে বায়োটিন মানে ভিটামিন H ভরপুর। এটা নতুন চুল গজাতে হেল্প করে। চুল পড়া কমে, গ্রোথ বাড়ে। ডাক্তাররা বায়োটিন ট্যাবলেট দেয়, আপনি ডিম মাখুন।
৪. ন্যাচারাল কন্ডিশনার: কুসুমের ফ্যাট আর লেসিথিন চুলে ন্যাচারাল শাইন আনে। শ্যাম্পুর পর রুক্ষ ভাব থাকে না। সিল্কি হয়।
১. ইনস্ট্যান্ট স্কিন টাইটনিং: ডিমের সাদা অংশ শুকালে স্কিন টানটান করে। পোরস ছোট লাগে। মেকআপের আগে লাগালে পার্লারের মতো ফিনিশ। একে বলে ‘ইনস্ট্যান্ট ফেসলিফট’।
২. বলিরেখা আর ফাইন লাইন কমায়: সাদা অংশে প্রোলিন অ্যামিনো অ্যাসিড আছে। এটা কোলাজেন বানাতে হেল্প করে। কোলাজেন কমলেই চামড়া ঝোলে, ভাঁজ পড়ে। রেগুলার লাগালে ৪ সপ্তাহে তফাত দেখবেন।
৩. ব্রণ আর দাগের যম: ডিমের সাদা অংশ অয়েল কন্ট্রোল করে। ব্যাকটেরিয়া মারে। ব্রণ শুকায়। কুসুমের ভিটামিন A ব্রণর দাগ হালকা করে।
৪. ট্যান রিমুভ + গ্লো: ডিমের সাথে পাতিলেবু মেশালে ট্যান কাটে। কুসুমের জিঙ্ক স্কিন হেলদি রাখে, গ্লো আনে।
মনে রাখুন: তৈলাক্ত চুল/স্কিন = শুধু সাদা অংশ। রুক্ষ চুল/স্কিন = শুধু কুসুম। নরমাল/মিক্সড = গোটা ডিম।
১. খুশকি তাড়ানোর হেয়ার প্যাক বানানোর পদ্ধতি: সাদা অংশ + লেবু + দই
কী লাগবে: ডিমের সাদা অংশ ১টা, পাতিলেবুর রস ১ চামচ, টক দই ২ চামচ।
কীভাবে: ফেটিয়ে স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু। সপ্তাহে ২ দিন।
রেজাল্ট: ২ সপ্তাহে খুশকি ৮০% কমে। গন্ধ? লেবু কাটিয়ে দেবে।
২. রুক্ষ ড্যামেজড চুলের প্যাক তৈরির পদ্ধতি: কুসুম + অলিভ অয়েল + মধু
কী লাগবে: ডিমের কুসুম ১টা, অলিভ অয়েল ১ চামচ, মধু ১ চামচ।
কীভাবে: মিশিয়ে লেংথে লাগান, গোড়ায় না। ৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু।
রেজাল্ট: ১ বারেই চুল মাখন। স্প্লিট এন্ড কমবে।
৩. চুল পড়া বন্ধ + নতুন চুল গজানোর প্যাক: গোটা ডিম + পেঁয়াজ রস + ক্যাস্টর অয়েল
কী লাগবে: গোটা ডিম ১টা, পেঁয়াজের রস ২ চামচ, ক্যাস্টর অয়েল ১ চামচ।
কীভাবে: স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে লাগান। ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু। সপ্তাহে ১ দিন।
রেজাল্ট: ১ মাসে বেবি হেয়ার গজাবে।
৪. বলিরেখা তাড়ানোর ফেসপ্যাক: সাদা অংশ + গ্লিসারিন:
কী লাগবে: ডিমের সাদা অংশ ১টা, গ্লিসারিন ৪-৫ ফোঁটা।
কীভাবে: ফেটিয়ে মুখে, গলায়, চোখের নিচে লাগান। শুকালে টান ধরবে। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন।
রেজাল্ট: স্কিন টাইট, ফাইন লাইন ব্লার। ৩০ দিনে ইয়ং লাগবে।
৫. গ্লোয়িং স্কিন প্যাক: কুসুম + বেসন + কাঁচা দুধ
কী লাগবে: ডিমের কুসুম ১টা, বেসন ১ চামচ, কাঁচা দুধ ১ চামচ।
কীভাবে: পেস্ট বানিয়ে মুখে ২০ মিনিট। শুকালে ঘষে তুলুন।
রেজাল্ট: ড্রাই স্কিনের জন্য বেস্ট। ইনস্ট্যান্ট গ্লো, ট্যান রিমুভ।
ডিম মাখার সময় এই ৪টে ভুল করলেই সব শেষ:
ভুল ১: গরম জলে ধোয়া
ডিম মাথায়/মুখে লাগিয়ে গরম জল দিলেই ডিম জমে যাবে। চুলে ছানা কাটবে, তুলতে জান বেরিয়ে যাবে। সবসময় ঠান্ডা বা নর্মাল জল।
ভুল ২: গন্ধ নিয়ে ভয় পাওয়া
শ্যাম্পুতে ২ ফোঁটা লেবুর রস বা কফি পাউডার মেশান। প্যাকেও লেবু দিন। গন্ধ থাকবে না।
ভুল ৩: রোজ লাগানো
প্রোটিন ওভারলোড হলে চুল রুক্ষ হয়ে ভাঙবে। স্কিন ড্রাই হবে। সপ্তাহে ২ দিন ম্যাক্স।
ভুল ৪: অ্যালার্জি টেস্ট না করা:
কানের পিছনে একটু লাগিয়ে ১৫ মিনিট দেখুন। চুলকালে, লাল হলে লাগাবেন না। ডিমে অনেকের অ্যালার্জি থাকে।
২০ টাকার ডিম দিয়ে ২০০০ টাকার ট্রিটমেন্ট। খুশকি যাবে, চুল গজাবে, মুখ টানটান হবে। সাইড এফেক্ট নেই। আজ রাতেই ট্রাই করুন।
ডিমে অ্যালার্জি থাকলে, স্কিনে একজিমা বা কাটা থাকলে লাগাবেন না। প্যাচ টেস্ট মাস্ট।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News