
গাছ পাকা আমের দাম আগুন। তাই সবাই কাঁচা আম কিনে ঘরে পাকাই। কিন্তু 5 দিন পরেও আম শক্ত। কাটলে টক, কষা। আবার কখনও বাইরে ভালো, ভিতরে কালো পচা। রাগ করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন, ভাবেন পরে খাবো। বের করে দেখেন আম পাথর হয়ে গেছে। আর পাকছে না। ডাস্টবিনে যায়। সমস্যাটা আমের না, আপনার রাখার পদ্ধতিতে। আম হল ক্লাইম্যাক্টেরিক ফল। মানে গাছ থেকে পাড়ার পরেও পাকে। কিন্তু তার জন্য শর্ত লাগে। ফ্রিজ সেই শর্ত ভেঙে দেয়।
আম পাকার জন্য দরকার 20-25 ডিগ্রি তাপমাত্রা আর ইথিলিন গ্যাস। ইথিলিন হল ন্যাচারাল হরমোন, যেটা আম নিজেই তৈরি করে। এই গ্যাস পেলেই আমের শাঁসের অ্যাসিড চিনিতে বদলায়, শক্ত ভাব নরম হয়, রং সবুজ থেকে হলুদ হয়, গন্ধ বের হয়।
এবার আপনি কাঁচা আম 4-8 ডিগ্রি ফ্রিজে ঢোকালেন। এই ঠান্ডায় আমের কোষ ‘চিলিং ইনজুরি’-তে চলে যায়। ইথিলিন গ্যাস তৈরি বন্ধ। এনজাইম কাজ করে না। আম কোমায় চলে গেল। 2 দিন পর বের করে বাইরে রাখলেও সে আর জাগবে না। পাকার বদলে ভিতর থেকে পচন শুরু হবে। উপর দিয়ে বুঝবেন না। কাটলে দেখবেন কালো ছোপ, আশ-আশ, পানসে টক। তাই কাঁচা আমের জন্য ফ্রিজ = মৃত্যু। ফ্রিজ শুধু পাকা আম 2-3 দিন ভালো রাখার জন্য।
ট্রিক ১: খবরের কাগজের প্যাকেট। কাঁচা আমগুলো 1-2টো করে খবরের কাগজে মুড়ে নিন। একটা কার্ডবোর্ড বাক্স বা হাঁড়িতে রাখুন। মুখ হালকা বন্ধ করুন। কাগজ ইথিলিন গ্যাস আটকে রাখে, আম তাড়াতাড়ি পাকে। রোজ একবার চেক করুন। 3 দিনে রেডি।
ট্রিক ২ : চালের ড্রামে লুকান। এটা ঠাকুমার টোটকা। চালের ড্রামের ভিতর আম ঢুকিয়ে চাল চাপা দিয়ে দিন। চাল গরম রাখে আর ইথিলিন ধরে রাখে। 2-3 দিনে আম পেকে টুসটুসে। তবে চাল যেন শুকনো হয়, নাহলে ফাঙ্গাস ধরবে।
ট্রিক ৩: কলা বা আপেলের বন্ধু বানান। পাকা কলা, আপেল প্রচুর ইথিলিন গ্যাস ছাড়ে। একটা কাগজের ঠোঙায় 1টা পাকা কলা + 3-4টে কাঁচা আম ভরে মুখ বন্ধ করে রাখুন। কলার গ্যাস আমকে পাকিয়ে দেবে। 48 ঘণ্টায় ম্যাজিক।
ট্রিক ৪ : হে বা খড়ের মধ্যে রাখুন। গ্রামে এখনো এটাই করে। একটা ঝুড়িতে শুকনো খড় বিছিয়ে তার উপর আম রাখুন। আবার খড় চাপা দিন। গরম আর অন্ধকার পেয়ে 4 দিনে সব আম একসাথে পেকে যাবে।
ট্রিক ৫ : বাথরুমের গরম ট্রিক। বাথরুম বা রান্নাঘর সবচেয়ে গরম জায়গা। আম কাগজে মুড়ে বালতিতে রেখে বাথরুমে 2 দিন রাখুন। গরম ভাপে সুপারফাস্ট পাকবে। বৃষ্টির দিনে বেস্ট কাজ করে।
টেস্ট ১: গন্ধ টেস্ট। পাকা আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুঁকুন। মিষ্টি, স্ট্রং আমের গন্ধ বেরোলে রেডি। কাঁচা আমে কোনো গন্ধ থাকে না।
টেস্ট ২: টিপ টেস্ট। বুড়ো আঙুল দিয়ে আমের গা হালকা টিপুন। যদি একটু বসে যায়, নরম লাগে, তাহলে পেকেছে। পাথরের মতো শক্ত মানে কাঁচা। বেশি নরম তুলতুলে মানে পচে গেছে।
টেস্ট ৩ : কালার টেস্ট। হিমসাগর, ল্যাংড়া পাকলে সবুজ-হলুদ হবে। ফজলি হলুদ হবে। কিন্তু শুধু রং দেখে বুঝবেন না। কার্বাইড দেওয়া আম বাইরে হলুদ, ভিতরে টক। তাই গন্ধ + টিপ মাস্ট।
আম একবার পেকে গেলে তখনই ফ্রিজে ঢোকান। নরমাল চেম্বারে পেপারে মুড়ে রাখলে 4-5 দিন ভালো থাকবে। কেটে রাখলে এয়ারটাইট বক্সে ভরে 2 দিনের মধ্যে খেয়ে নিন।
বেশি আম পেকে গেলে শাঁস বের করে ডিপ ফ্রিজে জিপলক ব্যাগে রাখুন। 6 মাস খেতে পারবেন। মিল্কশেক, আমসত্ত্ব, জুসে ইউজ করুন।
মনে রাখবেন: কাঁচা আম ঘরের তাপমাত্রায়, পাকা আম ফ্রিজে। এই রুল ভাঙলেই আম নষ্ট।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News