বুক ধড়ফড় হাত ঠান্ডা ঘাম হচ্ছে? উদ্বেগ কমাবে এই ৫টি খাবার, রোজ খান আরাম পাবেন

Published : Jun 10, 2026, 10:38 PM IST
 palpitations

সংক্ষিপ্ত

পরীক্ষা, অফিসের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন – উদ্বেগ এখন ঘরে ঘরে। বুক ধড়ফড়, হাত পা ঠান্ডা, ঘাম, ঘুম না আসা – সবই অ্যাংজাইটির লক্ষণ। ওষুধের পাশাপাশি প্লেটেও ওষুধ আছে।  কোনটা কীভাবে খাবেন আর কেন কাজ করে, সব রইল সহজ ভাষায়।

অফিসের মিটিং, পরীক্ষার রেজাল্ট, সংসারের চাপ – টেনশন এখন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। টেনশন হলেই বুকের ভিতর ধড়ফড়, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়, সারা শরীর কাঁপে, ঘুম উড়ে যায়। ডাক্তার দেখানো দরকার ঠিকই, কিন্তু রোজকার প্লেটটাও বড় ওষুধ হতে পারে। কিছু খাবার আছে যা নার্ভকে শান্ত করে, মস্তিষ্কে "হ্যাপি হরমোন" সেরোটোনিন বাড়ায়। আজ জানুন সেই ৫টি খাবারের কথা যা রোজ খেলে উদ্বেগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

উদ্বেগের সময় শরীরের ভিতর কী হয়

টেনশন হলেই আমাদের শরীর "ফাইট অর ফ্লাইট" মোডে চলে যায়। তখন অ্যাড্রিনালিন আর কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। ফল যা হয়, হার্ট জোরে ধকধক করে, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়, পেট গুলায়, মাথা ফাঁকা লাগে। এটা কিছুক্ষণের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু রোজ যদি এমন হয় তাহলে শরীর আর মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে যায়। ওষুধের সাথে কিছু খাবার আছে যা এই হরমোনের মাত্রা কমিয়ে নার্ভকে শান্ত করে। তাই প্লেট বদলালেই মেজাজ বদলাবে।

১. কলা – প্রাকৃতিক "মুড বুস্টার"

কলা হল পটাশিয়াম আর ভিটামিন B6 এর ভান্ডার। B6 শরীরে ট্রিপটোফান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিডকে সেরোটোনিনে বদলে দেয়। আর সেরোটোনিন হল মন ভালো রাখার হরমোন। পটাশিয়াম হার্টের ধড়ফড় কমায়, ব্লাড প্রেশার ঠিক রাখে। টেনশন হলে একটা পাকা কলা খেয়ে নিন। সাথে এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলে টেস্টও বাড়বে, রক্তে সুগারও লাফাবে না। সকালে ব্রেকফাস্টে বা বিকেলে খিদে পেলে কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন।

২. আমন্ড বাদাম – ম্যাগনেসিয়ামের খনি

উদ্বেগের সময় শরীর থেকে ম্যাগনেসিয়াম খুব তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। আর ম্যাগনেসিয়াম কমে গেলেই হাত পা কাঁপে, ঘুম আসে না, মেজাজ খিটখিটে হয়। আমন্ড বাদামে ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর থাকে। এটা মস্তিষ্কের GABA নামের একটা নিউরোট্রান্সমিটারকে অ্যাকটিভ করে। GABA হল শরীরের প্রাকৃতিক শান্ত করার ওষুধ। রোজ সকালে ৭-৮টা আমন্ড ৮ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে খোসা ছাড়িয়ে খান। খিদে পেলে ভাজা আমন্ডও খেতে পারেন, তবে নুন ছাড়া।

৩. ডার্ক চকলেট – ৭০% কোকো ওয়ালা

টেনশন হলে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে কেন জানেন? কারণ চকলেট খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন আর বের হয়। এগুলো স্ট্রেস কমায়, মন ভালো করে। তবে দুধ চকলেট না, ৭০% বা তার বেশি কোকো যুক্ত ডার্ক চকলেট খান। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভানল থাকে যা ব্রেনে রক্ত চলাচল বাড়ায়, ফোকাস বাড়ায়। দিনে ২-৩ পিস, মানে ২০-৩০ গ্রামের বেশি না। বেশি খেলে উল্টে অ্যাংজাইটি বাড়বে চিনির জন্য।

৪. টক দই – পেট ঠান্ডা মন ঠান্ডা

আমাদের পেট আর মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আছে, একে "গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস" বলে। পেটে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকলে মনও ভালো থাকে। টক দই হল প্রোবায়োটিকের সবচেয়ে সহজ উৎস। এটা পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে সেরোটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করে। কারণ শরীরের ৯০% সেরোটোনিন তৈরি হয় পেটেই। দুপুরে খাওয়ার পর এক বাটি টক দই খান। সাথে একটু মধু মিশিয়ে নিলে স্বাদও হবে, ঘুমও ভালো হবে।

৫. চিয়া সিড বা তিসি – ওমেগা 3 এর উৎস

মস্তিষ্কের ৬০% ই হল ফ্যাট, আর তার বেশিরভাগটাই ওমেগা 3 ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা 3 মস্তিষ্কের কোষকে মজবুত করে, প্রদাহ কমায়, মুড সুইং আটকায়। মাছ খেতে না পারলে চিয়া সিড বা তিসি বেস্ট অপশন। এক চামচ চিয়া সিড এক গ্লাস জলে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ফুলে গেলে স্মুদি, দই বা ছাতুর সাথে মিশিয়ে খান। তিসি হালকা ভেজে গুঁড়ো করে ভাতের সাথে খেতে পারেন। রোজ এক চামচই যথেষ্ট।

শেষ কথা আর ৩টি জরুরি টিপস :

খাবার একা উদ্বেগ সারাতে পারবে না, তবে অনেকটা সাহায্য করবে। এর সাথে দিনে ৮ গ্লাস জল খান, কারণ ডিহাইড্রেশন হলেই বুক ধড়ফড় বাড়ে। চা কফি কমান, ক্যাফেইন অ্যাংজাইটি বাড়ায়। আর রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম মাস্ট। খাবার বদলান, সাথে ১০ মিনিট হাঁটুন, দেখবেন হাত পা ঠান্ডা হওয়া, বুক ধড়ফড় অনেকটাই কমে গেছে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

বর্ষায় লাগান এই ৫টি ফুলগাছ! টবে আর আপনার ছাদ বাগানে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে, যত্নও কম
Health News: কাশি গা বমি বদহজম এক চিমটেই শেষ! বাড়িতে বানিয়ে রাখুন খাঁটি শুকনো আদা, ৬ মাস নষ্ট হবে না