শুকনো আদা মানে সোঁঠ হল কাঁচা আদার থেকেও শক্তিশালী একটা ঘরোয়া ওষুধ। রোদে শুকানোর পর আদার ভিতরের উপাদান বদলে যায় আর ব্যথা কমানো আর জীবাণু মারার গুণ অনেক বেড়ে যায়। কাশি থেকে শুরু করে গা বমি, বদহজম সবেতেই কাজ দেয়। বাজারের গুঁড়োয় ভেজাল থাকে তাই বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। রোদে ২-৩ দিন দিলেই রেডি, কাচের শিশিতে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

Health News: আমাদের রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে হাজার রোগের ওষুধ। দামি সিরাপ বা ট্যাবলেট কেনার আগে একবার ঠাকুমা-দিদার টোটকার দিকে তাকান। শুকনো আদা বা সোঁঠ হল এমনই একটা জিনিস যা ছোট থেকে বড়, সবার ঘরেই থাকা দরকার। জানুন কীভাবে বানাবেন আর কীভাবে খাবেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোঁঠ আসলে কী আর কেন এত দরকারি: 

শীত এলেই গলার ভিতর খুসখুস শুরু হয়। একটু ঠান্ডা লাগলেই কাশি আর গাড়িতে উঠলেই গা গুলাতে থাকে। ওষুধ খেতে মন চায় না। তখন দিদা ঠাকুমারা একটা জিনিসই হাতে ধরিয়ে দেয়, সেটা হল সোঁঠ। সোঁঠ আসলে শুকনো আদা। কাঁচা আদা আমরা রোজ খাই, কিন্তু আদাটা রোদে শুকিয়ে গেলে ওর ভিতরের জিঞ্জেরল নামের জিনিসটা বদলে যায়। আর এই শোগায়লটাই হল আসল জিনিস। এটা ব্যথা কমায়, জীবাণু মারে, পেট ঠান্ডা করে। তাই কাঁচা আদার থেকে শুকনো আদার দাম আর গুণ দুটোই বেশি। বাজারে যে সোঁঠের গুঁড়ো কিনতে পাওয়া যায় তাতে অনেক সময় ময়দা মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাই নিজের বাড়িতে বানিয়ে নিলে খরচ কম হবে আর খাঁটিটাও পাবেন।

বাড়িতে খাঁটি সোঁঠ বানোর সহজ পদ্ধতি: বাড়িতে সোঁঠ বানানো খুব ঝামেলার কাজ না। বাজার থেকে মোটা আর গাঁটওয়ালা আদা কিনে আনতে হবে। পাতলা আদা শুকালে ভালো গুঁড়ো হবে না। আদা ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে একদম পাতলা পাতলা করে গোল করে কেটে নিতে হবে। তারপর একটা থালায় সুতির পরিষ্কার কাপড় পেতে কাটা আদার স্লাইসগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন একটার উপর আরেকটা না পড়ে। এবার কড়া রোদে থালাটা রেখে দিন। দুই থেকে তিন দিন লাগবে একদম মচমচে হতে। রাতে শিশির পড়ার আগে ঘরে তুলে রাখবেন। আদা যখন হাত দিয়ে ভাঙলে কট করে শব্দ হবে তখন বুঝবেন শুকানো হয়ে গেছে। এবার মিক্সিতে গুঁড়ো করে ছাঁকনি দিয়ে চেলে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে খাঁটি সোঁঠের গুঁড়ো। যাদের ছাদে রোদ পায় না তারা ওভেনে ৫০-৬০ ডিগ্রি তাপে দরজা একটু ফাঁক করে দুই ঘন্টা রাখলেই হবে। গুঁড়োটা কাচের শিশিতে ভরে রাখলে ফ্রিজ ছাড়াই ছয় মাস ভালো থাকবে।

এক চিমটি সোঁঠের তিনটি বড় উপকার : এক চিমটি সোঁঠের গুঁড়ো অনেক রোগের কাজে আসে। গলায় খুসখুস কাশি হলে এক চিমটি সোঁঠের গুঁড়ো এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়ো আর একটু মধু মিশিয়ে দিনে তিনবার চেটে খান। বাচ্চা থেকে বড় সবাই আরাম পাবে। গাড়িতে উঠলে বমি পেলে বা প্রেগন্যান্সির সময় সকালে বমি ভাব হলে আধ চামচ সোঁঠের গুঁড়ো জল দিয়ে খেয়ে নিন। এটা মাথার যে অংশ থেকে বমি হয় সেই অংশটাকে শান্ত করে দেয়। ভাজা পোড়া খেয়ে পেটে গ্যাস হলে বা বদহজম হলে এক চিমটি সোঁঠের গুঁড়ো এক চিমটি বিট নুন আর একটু হিং জলে গুলে খেয়ে নিন। আদার শোগায়ল পেটের হজমের রস বাড়িয়ে দেয় তাই খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় আর পেট ফাঁপা কমে।

সোঁঠ খাওয়ার আগে যেসব সাবধানতা মানবেন: সবাই সোঁঠ খেতে পারে না এটা মাথায় রাখতে হবে। যাদের পাইলস বা পেটে আলসারের সমস্যা আছে তাদের জন্য সোঁঠ একটু গরম। খেলে ব্যথা বাড়তে পারে তাই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেওয়া ভালো। গর্ভাবস্থায় একদম অল্প খাওয়া যাবে, দিনে এক চিমটির বেশি একদম না। আর যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান তাদেরও সাবধানে খেতে হবে কারণ সোঁঠ নিজেও রক্ত পাতলা করে। তাই ওষুধের সাথে মিশে সমস্যা হতে পারে। শেষ কথা তাই ওষুধের দোকানে ছোটার আগে একবার রান্নাঘরে উঁকি মেরে দেখুন। ১০ টাকার আদা কিনে রোদে শুকিয়ে রাখুন। সারা বছর কাশি, বমি, পেটের অসুখে আপনার ভরসা হয়ে থাকবে এই ঘরোয়া সোঁঠ। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।