বর্ষা হল ফুলগাছ লাগানোর আদর্শ সময় কারণ এই সময় প্রকৃতিই গাছের যত্ন নেয়, ফলে গাছের বাঁচার হার ৯০% এর বেশি থাকে। এই প্রতিবেদনে জবা, বেলি, অপরাজিতা, জিনিয়া এবং কদমের মতো পাঁচটি সহজলভ্য ফুলগাছ লাগানোর পদ্ধতি ও পরিচর্যার কথা বলা হয়েছে, যা বর্ষায় আপনার বাগানকে ফুলে ভরিয়ে তুলবে।

বর্ষা কেন ফুলগাছ লাগানোর বেস্ট সময়। গ্রীষ্মে গাছ লাগালে রোদের তাপে শিকড় পুড়ে যায়, শীতে গাছ বাড়ে না। কিন্তু বর্ষায় প্রকৃতিই মালি হয়ে যায়। আকাশ থেকে জল পড়ে, হাওয়া ঠান্ডা থাকে, মাটি নরম থাকে। এই কারণে বর্ষায় লাগানো গাছের বাঁচার হার ৯০% এর বেশি। নতুন চারা লাগালে ১৫ দিনের মধ্যেই শিকড় ধরে যায় আর দেড়-দুই মাসের মধ্যেই ফুল আসতে শুরু করে। তাই যারা নতুন বাগান করছেন তাদের জন্য বর্ষাই হল সোনালী সময়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. জবা – সারাবছর ফুল দেবে

লাল, হলুদ, গোলাপি, সাদা – জবার রং দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বর্ষার জল পেলেই জবা গাছ ঝাঁকড়া হয়ে যায় আর কুঁড়িতে ভরে যায়। টবে লাগানোর জন্য দেশি পাঁচ পাপড়ির জবা বেস্ট। মাটি তৈরি করবেন ৫০% গার্ডেন সয়েল + ৩০% গোবর সার + ২০% বালি দিয়ে। রোদ ৫-৬ ঘন্টা পেলেই চলবে। প্রতি ১৫ দিনে একবার সরষের খোল পচা জল দিলেই হবে। টিপস: ফুল ঝরে গেলেই ডগা কেটে দিন, নতুন ডালে আবার কুঁড়ি আসবে।

২. বেলি – গন্ধে মাতাবে সন্ধে

বর্ষা মানেই বেলি ফুলের গন্ধ। একটা টবেই সারা বাড়ি ম ম করবে। বেলি গাছ রোদ ভালোবাসে, তাই ব্যালকনির একদম রোদ আসে এমন জায়গায় রাখুন। মাটি যেন জল না ধরে রাখে, তাই মাটির সাথে বালি আর কোকোপিট মেশাবেন। জল জমলেই শিকড় পচে যাবে। বর্ষায় আলাদা করে জল দেওয়ার দরকার পড়ে না। মাসে একবার ভার্মি কম্পোস্ট দিন। ফুল তোলার সময় ডগা সহ তুলবেন, তাতে নতুন ডালপালা গজাবে আর গাছ ঝোপালো হবে।

৩. অপরাজিতা – নীল রঙের ম্যাজিক

লতানো গাছ, তাই গ্রিল বা ছাদে মাচা করে দিলে দারুণ লাগে। নীল আর সাদা দুই রঙের অপরাজিতা হয়। বর্ষায় লাগালে ৪৫ দিনের মাথায় ফুল আসা শুরু হয়। এই গাছের কোনো যত্নই লাগে না। রাস্তার ধুলোতেও বেঁচে থাকে। মাটি সাধারণ গার্ডেন সয়েল হলেই চলবে। জল নিকাশি ভালো হলেই হলো। অপরাজিতার ফুল চা বানিয়ে খেলে মাথা ঠান্ডা হয়, চোখের জন্যও ভালো। তাই ফুলও পাবেন, উপকারও পাবেন।

৪. জিনিয়া – রঙের বাহার

বর্ষায় রঙিন ফুল চাইলে জিনিয়ার জুড়ি নেই। লাল, কমলা, হলুদ, গোলাপি – এক টবেই রংবেরঙের ফুল। বীজ থেকে গাছ হয়, তাই বর্ষার শুরুতেই বীজ ছড়িয়ে দিন। ২০ দিনেই চারা গজাবে। জিনিয়া রোদ ভালোবাসে আর জল নিকাশি ভালো মাটি চায়। গাছ ৬ ইঞ্চি বড় হলে মাথার ডগা পিঞ্চ করে দিন। তাতে গাছ ঝোপালো হবে আর ফুলের সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে যাবে। কাট ফ্লাওয়ার হিসেবেও জিনিয়া দারুণ, ভাজে রাখলে ৭ দিন তাজা থাকে।

৫. কদম – বর্ষার রাজা

বর্ষা আর কদম ফুল একে অপরের পরিপূরক। বড় জায়গা থাকলে একটা কদম গাছ লাগান। হলুদ বলের মতো ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। টবে করতে চাইলে বামন কদমের চারা কিনুন। কদম গাছ জল ভালোবাসে, তাই বর্ষায় আলাদা জল লাগে না। বছরে দুইবার গোবর সার দিলেই সারাবছর ফুল দেবে। কদম গাছে পাখি আসে, তাই আপনার বাগানও প্রাণ ফিরে পাবে।

শেষ কথা আর বর্ষার ৩টি টিপস:

বর্ষায় গাছ লাগানোর সময় মাটিতে জল যেন না জমে সেটা মাথায় রাখবেন। টবের নিচে ফুটো আছে কিনা দেখে নিন। গাছে ফাঙ্গাস লাগলে ১ চামচ নিম তেল ১ লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন। আর বৃষ্টি খুব বেশি হলে টবগুলো শেডের নিচে সরিয়ে রাখুন। এই ৫টি গাছ লাগান, দেখবেন বর্ষা শেষ না হতেই আপনার ছাদ বা ব্যালকনি ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে।