Fatty Liver: আজকাল ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে। অনেকেই ভাবেন শুধু মদ্যপান করলেই এই রোগ হয়, কিন্তু ধারণাটা ভুল।
আজকাল ফ্যাটি লিভারের সমস্যা খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলেই এই রোগ হয়। অনেকেই মনে করেন, শুধু মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভার হয়, কিন্তু এই ধারণাটি একেবারেই ঠিক নয়। মদ্যপান করেন না, এমন মানুষেরও এই রোগ হতে পারে।
27
বিশ্বজুড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রয়েছে
অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং মেটাবলিক সমস্যার কারণে এই রোগ হতে পারে। বিশ্বের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রয়েছে। ভারতে এই সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।
37
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার অবস্থাই হল ফ্যাটি লিভার
আমরা যে অতিরিক্ত চিনি খাই, অনেক সময় লিভারের কোষগুলো তা প্রসেস করতে পারে না। তখন লিভার সেই চিনিকে সরাসরি চর্বিতে পরিণত করে। এই চর্বি লিভারের কোষেই জমতে শুরু করে, যা ফ্যাটি লিভারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অতিরিক্ত চর্বি লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং লিভারের ক্ষতি করতে পারে
লিভার আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে এবং ক্ষতিকারক পদার্থ ফিল্টার করে বের করে দেয়। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে সেখানে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি লিভার ফেলিওরের কারণও হতে পারে।
57
ক্রমাগত চর্বি জমা লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে।
শুরুতে রোগটিকে সাধারণ মনে হলেও, ক্রমাগত চর্বি জমতে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। ফ্যাটি লিভার রোগ মূলত দুই প্রকার—অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ।
67
নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ একটি নীরব রোগ
অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হয়। আর মদ্যপান ছাড়া অন্য কারণে হলে তাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় একটি বিরল প্রকারের ফ্যাটি লিভার দেখা যায়, যা 'অ্যাকিউট ফ্যাটি লিভার অফ প্রেগন্যান্সি' নামে পরিচিত। এই রোগের চারটি পর্যায় হলো: স্টিটোসিস, স্টিটোহেপাটাইটিস, ফাইব্রোসিস এবং সিরোসিস।
77
ফ্যাটি লিভার রোগ নেই তা নিশ্চিত করতে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করান
পেটের ডানদিকে উপরের অংশে ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া, হঠাৎ ওজন কমা, প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন, ত্বকে চুলকানি, মলের রঙ ফ্যাকাসে হওয়া এবং চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া—এই লক্ষণগুলি দেখলে অবহেলা করবেন না। দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরীক্ষা করিয়ে নিন। সঠিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।