
উৎসবের মরশুমে বাড়িতে প্রচুর মিষ্টি, ভাজাভুজি আর নানা রকম খাবার জমে যায়। কিন্তু এই খাবারগুলো ঠিকমতো না রাখলে তা থেকে পেটের সমস্যা হতে পারে। ভুল তাপমাত্রায় খাবার রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এছাড়া আর্দ্রতা, বারবার হাত দেওয়া বা অন্য খাবারের সংস্পর্শে এলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
তাই উৎসবের পর বেঁচে যাওয়া খাবার ঠিকভাবে রাখার নিয়ম জানা খুব জরুরি। এতে পেটের ইনফেকশন, বমি ভাব বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা এড়ানো যায়।
অনেকেই বেঁচে যাওয়া খাবার না ঢেকে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখেন। রসগোল্লা, রসমালাই বা পেঁড়ার মতো দুধের তৈরি মিষ্টি বেশিক্ষণ খোলা হাওয়ায় রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, পচনশীল যেকোনো খাবার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে ঢোকানো উচিত। আর ঘরের তাপমাত্রা যদি ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়, তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই তা ফ্রিজে রাখা দরকার।
সব মিষ্টি রাখার নিয়ম এক নয়। দুধের তৈরি বা রসালো মিষ্টি অবশ্যই ফ্রিজে রাখতে হবে। অন্যদিকে শুকনো মিষ্টি এয়ারটাইট কৌটোয় রাখলে ভালো থাকে। প্যাকেটজাত মিষ্টি কেনার সময় গায়ে লেখা নির্দেশিকা পড়ে নেওয়া ভালো। আর দোকান থেকে কেনা মিষ্টি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই খেয়ে ফেলা উচিত।
স্ন্যাকস খোলা হাওয়ায় রাখলে তাতে জীবাণু ছড়াতে পারে। খাবার ঠান্ডা হওয়ার পর তা ফুড-গ্রেড এয়ারটাইট কৌটোয় রাখা খুব জরুরি। কাঁচা খাবার আর রান্না করা খাবার সবসময় আলাদা রাখবেন।
খাবার বারবার গরম করলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে যদি তা ঠিকমতো ঠান্ডা করে বা সঠিক নিয়মে রাখা না হয়। তাই ফ্রিজে রাখার আগেই খাবার ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। খাওয়ার সময় ঠিক যতটুকু লাগবে, ততটুকুই গরম করুন।
অনেক সময় খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্মালেও তার গন্ধ বা চেহারা দেখে বোঝা যায় না। খাবার ঠিক আছে কি না, তা বুঝতে একটু খেয়ে দেখার ভুল করবেন না। যদি কোনো খাবার দীর্ঘক্ষণ ভুল তাপমাত্রায় বা খোলা অবস্থায় থাকে, তবে দেখতে ভালো লাগলেও তা ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ফুড পয়জনিং এড়িয়ে উৎসবের প্রিয় খাবারগুলো চুটিয়ে উপভোগ করতে চাইলে, বেঁচে যাওয়া খাবার সঠিক নিয়মে গুছিয়ে রাখুন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News