
পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার দিনটি পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে। এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ফিল্টার করে। রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করে। কিডনির কার্যকারিতা কমলে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে, যা গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
মুম্বইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট ডঃ মহেন্দ্র মার্চেন্টের মতে, ক্রনিক কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, মানুষ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনতেই পারে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাই কিডনির স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছেন।
ক্রনিক কিডনি রোগ আগে থেকে শনাক্ত করা বেশ কঠিন। কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। অনেকেই হয়তো সারাক্ষণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করেন, কিন্তু বুঝতে পারেন না যে এর সঙ্গে কিডনির সমস্যার যোগ থাকতে পারে।
কিডনি রোগের অন্যান্য প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পা, পায়ের পাতা বা চোখের চারপাশে ফুলে যাওয়া। এছাড়া প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন, প্রস্রাবে ফেনা হওয়া বা প্রস্রাব করতে অসুবিধাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্রনিক কিডনি রোগের দুটি প্রধান কারণ হল ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে বর্জ্য পদার্থ ছাঁকার ক্ষমতা কমে যায়।
ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলেও, আরও অনেক কিছুই কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন, নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কিছু রাসায়নিক এবং ভারী ধাতুর সংস্পর্শে আসাও কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। ধূমপান আরেকটি বড় ঝুঁকি, যা রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে এবং শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে কিডনির স্বাস্থ্য নষ্ট করে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখলে কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার সীমিত করা।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News