Food Tips: : মে-জুন মাস মানেই হিমসাগরের সিজন। আর এই সময়ই ল্যাংড়া, ফজলি, লক্ষ্মণভোগ ধরে হিমসাগর বলে বিক্রি করে ঠকায়। আসল হিমসাগর চিনতে গন্ধ, রং, শেপ আর বোঁটার কাছে দেখুন। আঁশ থাকবে না, খোসা হবে পাতলা, গন্ধ হবে মাতাল করা। ৫টা পয়েন্ট মিলিয়ে নিলেই ১০০% গ্যারান্টি, ঠকবেন না। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Food Tips: বাজারে গিয়ে দাম দিয়ে হিমসাগর কিনলেন, বাড়ি এসে কেটে দেখলেন ল্যাংড়া। রাগ হয় না? হিমসাগরের নামে সবচেয়ে বেশি ঠকানো হয়। কারণ এটার ডিমান্ড আর দাম দুটোই বেশি। ফল ব্যবসায়ীরাও জানে, আমরা শুধু ‘হলুদ আম’ দেখলেই হিমসাগর ভাবি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আজ থেকে ঠকা বন্ধ। পকেটে এই ৫টা চেকলিস্ট নিয়ে বাজারে যান।

১. শেপ দেখুন: ডিম্বাকার নয়, গোলগাল

আসল হিমসাগর মাঝারি সাইজের, দেখতে অনেকটা গোল। উপর-নিচ সমান, চ্যাপ্টা ভাব। ল্যাংড়ার মতো লম্বাটে বা ফজলির মতো বিশাল সাইজ হবে না। একটার ওজন ২৫০-৩৫০ গ্রামের মধ্যে। ৫০০ গ্রামের হিমসাগর বললে সাবধান, ওটা ফজলি হওয়ার চান্স ৯০%।

২. রং দেখুন: কাঁচা-পাকা কনফিউশন:

এটাই সবচেয়ে বড় ট্র্যাপ। পাকা হিমসাগর টকটকে হলুদ হয় না। এর গায়ের রং থাকবে সবুজের উপর হালকা হলুদের আভা। একে বলে ‘কাঁচা-পাকা’ রং। একদম কাঁচা সবুজ বা একদম পাকা হলুদ, দুটোই সন্দেহজনক। কার্বাইড দিয়ে পাকালে হলুদ হয়ে যায়। ন্যাচারাল হিমসাগর কখনও কাঁচা কলাপাতা রং ছাড়ে না।

৩. গন্ধ শুঁকুন: মাতাল করা সুবাস

হিমসাগরকে বলে ‘আমের রাজা’। কারণ এর গন্ধ। বোঁটার কাছে নাক নিয়ে যান। একটা তীব্র, মিষ্টি, মিল্কি ফ্লেভারের গন্ধ পাবেন। এই গন্ধটা এত স্ট্রং যে ব্যাগে ২কেজি থাকলে পুরো ঘর ম করবে। ল্যাংড়ার গন্ধ আলাদা, একটু ঝাঁঝালো। আর কার্বাইডে পাকানো আমে কোনো গন্ধই থাকবে না বা কেমিক্যালের গন্ধ পাবেন।

৪. খোসা আর শাঁস: পাতলা খোসা, জিরো আঁশ

আসল হিমসাগরের খোসা হবে পাতলা, টিপ দিলেই বোঝা যাবে। কাটার পর শাঁস হবে গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের। আর সবচেয়ে বড় আইডেন্টিটি, হিমসাগরে একফোঁটা আঁশ নেই। চামচ দিয়ে কেটে খাওয়া যায়। কাটার পর যদি আঁশ বেরোয়, বুঝবেন ওটা ল্যাংড়া বা অন্য আম।

৫. বোঁটার টেস্ট: টক মানে জেনুইন

এটা বুড়োদের টোটকা, ১০০% কাজ করে। আমটা কেনার আগে বোঁটাটা একটু ভেঙে জিভে ঠেকান। আসল হিমসাগরের বোঁটার রস হবে টক। ল্যাংড়া বা ফজলির বোঁটা টক লাগবে না। দোকানদার দিতে না চাইলে বুঝবেন ঘাপলা আছে।

এক্সট্রা ৩টে সিক্রেট টিপস:

১. সিজন মানুন: হিমসাগর ওঠে মে মাসের ২০ তারিখের পর। জুনের ২০ তারিখের মধ্যে শেষ। এর আগে বা পরে ‘হিমসাগর’ বললে ১০০% ভুয়ো। এপ্রিলে হিমসাগর হয় না।

২. দাম দেখুন: মালদা বা মুর্শিদাবাদের জেনুইন হিমসাগর ৮০-১২০ টাকা কেজির নিচে পাবেন না। ৪০-৫০ টাকায় হিমসাগর বললে ওটা লক্ষ্মণভোগ।

৩. গায়ে স্পট: ন্যাচারাল হিমসাগরের গায়ে ছোট ছোট ব্রাউন স্পট থাকবে। একদম চকচকে, দাগহীন আম মানেই কেমিক্যাল।

Nandigram: বুলডোজার এবার নন্দীগ্রামে, মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে ভাঙা হল অবৈধ নির্মাণ

কার্বাইড চেনার উপায়:

পাকা আম জলে দিন। ডুবে গেলে ন্যাচারাল। ভেসে থাকলে কার্বাইড। আর কার্বাইডের আম বাইরে হলুদ, ভেতরে শক্ত বা সাদাটে থাকে।

এবার বাজারে গেলে চোখ-নাক-জিভ তিনটেই খোলা রাখুন। দোকানদার যতই বলুক ‘গ্যারান্টি’, নিজে চেক করে কিনুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।