
প্রতি বছর ১৬ মার্চ ভারতে জাতীয় টিকাকরণ দিবস পালন করা হয়। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব বোঝানো এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এর ভূমিকা তুলে ধরাই এই দিনটির লক্ষ্য। আসলে, ১৯৯৫ সালে এই দিনেই প্রথমবার ওরাল পোলিও ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজটি দেওয়া হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করেই এই দিবস পালন।
পোলিও, যক্ষ্মা (টিবি), হাম, মাম্পস, রুবেলার মতো রোগগুলি টিকার মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই জাতীয় টিকাকরণ দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য। ছোটবেলার টিকাকরণ যেমন জরুরি, তেমনই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও কিছু ভ্যাকসিন নেওয়া আবশ্যক।
ভ্যাকসিন বা টিকার কথা শুনলেই আমাদের ছোটবেলার পোলিও ড্রপ বা হামের ইঞ্জেকশনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু টিকাকরণ শুধু ছোটবেলাতেই শেষ হয়ে যায় না। দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর ডঃ মুগ্ধা তাপদিয়া বলেন, “অনেকেই জানেন না যে ছোটবেলায় নেওয়া টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে নতুন স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রাপ্তবয়স্কদেরও নির্দিষ্ট কিছু টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
ভ্যাকসিন আসলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্ষতিকারক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে চিনতে এবং গুরুতর অসুস্থতা তৈরির আগেই তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখিয়ে দেয়। টিকা দেওয়ার ফলে আমাদের শরীরের অ্যান্টিবডি ও মেমরি টি-সেল তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে ওই রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। প্রাপ্তবয়স্কদের যে ৬টি টিকা অবশ্যই নেওয়া উচিত, সেগুলি হল:
১. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন
এটি একটি অত্যন্ত জরুরি টিকা, যা প্রতি বছর নেওয়া উচিত। অনেকেই সিজনাল ফ্লু-কে সাধারণ অসুখ ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু এর থেকে গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক এবং ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে।
২. নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন
এই ভ্যাকসিন নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস এবং রক্তে সংক্রমণের মতো গুরুতর রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটিও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা।
৩. শিঙ্গলস ভ্যাকসিন
চিকিৎসকরা ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের শিঙ্গলস (হার্পিস জোস্টার) ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। এটি চিকেনপক্সের ভাইরাস পুনরায় সক্রিয় হওয়ার কারণে হওয়া একটি কষ্টদায়ক র্যাশ প্রতিরোধ করে।
৪. টিডিএপি (Tdap) ভ্যাকসিন
এই ভ্যাকসিনটি টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং হুপিং কাশির মতো রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। এরপর প্রতি দশ বছর অন্তর একটি করে টিটেনাস বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যে সব প্রাপ্তবয়স্কদের বাড়িতে সদ্যোজাত শিশু আছে, তাদের জন্য এই টিকা খুব জরুরি।
৫. হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন
ভারতে যে সব প্রাপ্তবয়স্ক আগে এই টিকা নেননি, তাদের হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ থেকে ক্রনিক লিভারের রোগ, এমনকি লিভার ক্যানসারও হতে পারে।
৬. এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন
এইচপিভি ভ্যাকসিন সার্ভাইক্যাল ক্যানসার এবং আরও কিছু ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। মহিলাদের মধ্যে ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News