
বছরের পর বছর ধরে ভিটামিন সি-ই ছিল ত্বক উজ্জ্বল করার একমাত্র ভরসা। কিন্তু ২০২৬-এ এসে স্কিনকেয়ারের ট্রেন্ড বদলেছে। ডার্মাটোলজিস্টরা এখন বেশি ভরসা রাখছেন গ্যালিক অ্যাসিডের উপর।
চা পাতা, আঙুরের বীজ আর বেদানায় প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এই উপাদান এখন সিরাম, ক্রিম আর টোনারে জায়গা করে নিয়েছে।
গ্যালিক অ্যাসিড ঠিক কী? গ্যালিক অ্যাসিড হল এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একে "পলিফেনল"ও বলা হয়।
সহজ ভাষায়, এটা আপনার ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যালের হাত থেকে বাঁচায়। দূষণ, রোদ আর স্ট্রেসের কারণে ত্বকে যে ক্ষতি হয়, গ্যালিক অ্যাসিড সেটা রিপেয়ার করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-এর মতোই কাজ করে, কিন্তু আরও স্টেবল।
১. বেশি স্টেবল: ভিটামিন সি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। আলো আর হাওয়া লাগলেই কার্যকারিতা কমে। গ্যালিক অ্যাসিড অনেক বেশি স্টেবল, তাই বেশি দিন কাজ করে। ২. ইরিটেশন কম: সেনসিটিভ ত্বকে ভিটামিন সি জ্বালাপোড়া করে। গ্যালিক অ্যাসিড তুলনায় অনেক জেন্টল। ৩. পিগমেন্টেশন কমায়: মেলানিন তৈরি আটকে দেয়। তাই কালো দাগ, মেছতা আর সানস্পট হালকা করতে দারুণ কাজ করে। ৪. কোলাজেন বুস্ট: ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখে। ফলে ফাইন লাইন আর বলিরেখা দেরিতে আসে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন? কে ব্যবহার করতে পারবেন: সব ধরনের ত্বক। বিশেষ করে যাদের পিগমেন্টেশন, ব্রণের দাগ আর ডাল স্কিনের সমস্যা আছে।
কখন লাগাবেন: সকালে সানস্ক্রিনের আগে, অথবা রাতে। সিরাম বা ক্রিম যেকোনো ফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে।
কার সাথে মেশাবেন না: রেটিনল বা AHA/BHA-র সাথে একসাথে ব্যবহার করলে ইরিটেশন হতে পারে। আলাদা আলাদা সময়ে ব্যবহার করুন।
কী দেখে কিনবেন: প্রোডাক্টের ইনগ্রিডিয়েন্ট লিস্টে "Gallic Acid" বা "Galloyl" লেখা আছে কিনা দেখুন। 0.5% থেকে 2% কনসেনট্রেশন দিয়ে শুরু করা ভালো।
ঘরোয়া উৎস আছে কি? হ্যাঁ। গ্রিন টি, বেদানা, জাম, আঙুরের বীজ আর আমলকিতে প্রচুর গ্যালিক অ্যাসিড থাকে। এগুলো খেলে ভেতর থেকেও ত্বক ভালো থাকবে। তবে স্কিনের সমস্যার জন্য সরাসরি সিরামই বেশি কার্যকরী।
ভিটামিন সি খারাপ হয়ে যায়নি। কিন্তু গ্যালিক অ্যাসিড এখন আরও অ্যাডভান্সড অপশন। যদি আপনার ত্বক ভিটামিন সি স্যুট না করে, বা দ্রুত রেজাল্ট চান, তাহলে একবার গ্যালিক অ্যাসিড ট্রাই করে দেখতে পারেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News