ভিড়ে ঠাসা দিঘা, মন্দারমণি বা বকখালি আর ভালো লাগছে না? একটু নিরিবিলিতে সমুদ্র উপভোগ করতে চান? তাহলে এবার ঘুরে আসুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুরে।
প্রতি উইকেন্ডে সমুদ্র দেখতে যাওয়ার কথা ভাবলেই মাথায় আসে দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি বা মৌসুনী আইল্যান্ডের নাম। কিন্তু সেখানকার ভিড়, হোটেলের চড়া দাম আর হকারদের হাঁকডাকে শান্তিতে সমুদ্র উপভোগ করাই যায় না। যদি আপনি সত্যিই নির্জন সমুদ্র খুঁজছেন, যেখানে শুধু আপনি, সমুদ্রের গর্জন আর ঝাউবনের হাওয়া থাকবে, তাহলে আপনার গন্তব্য হতে পারে গোবর্ধনপুর।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকে, সুন্দরবনের একদম কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই গোবর্ধনপুর সমুদ্র সৈকত। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। এখানকার সমুদ্র সৈকত প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, যা পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন এবং নির্জন সৈকতগুলির মধ্যে একটি।
এখানে এসে আপনি যা পাবেন তা হল অদ্ভুত এক নির্জনতা। মাইলের পর মাইল ফাঁকা বালির চর, লাল কাঁকড়ার আনাগোনা এবং তীর জুড়ে ঘন ঝাউবন। কোনো দোকানপাট নেই, মাইকে গানের আওয়াজ নেই। শুধু সমুদ্রের ঢেউ আর ঝাউবনের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার শব্দ। ভাটার সময় সমুদ্র অনেকটা পিছিয়ে যায়, তখন বালির উপর দিয়ে হেঁটে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য এখান থেকে অসাধারণ লাগে।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে প্রথমে যেতে হবে নামখানা বা পাথরপ্রতিমা। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে কাকদ্বীপ বা নামখানা গিয়ে সেখান থেকে বাস বা অটোতে পাথরপ্রতিমা। পাথরপ্রতিমা থেকে ভটভটিতে চাঁদমারি ঘাট, তারপর টোটো বা ভ্যানে করে সোজা গোবর্ধনপুর সৈকত। রাস্তা কিছুটা কাঁচা হলেও পৌঁছানোর পর সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।
থাকবেন কোথায়?
এখানে বড় কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই, এটাই এর সৌন্দর্য। স্থানীয় মানুষদের দ্বারা পরিচালিত কিছু ছোট হোমস্টে এবং ক্যাম্প রয়েছে। থাকা-খাওয়া নিয়ে জনপ্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে। আগে থেকে ফোনে বুক করে যাওয়াই ভালো।
দু দিনের ছুটিতে ভিড় থেকে দূরে একটু শান্তিতে সমুদ্রকে উপভোগ করতে চাইলে গোবর্ধনপুর হতে পারে আপনার সেরা ঠিকানা।
