
আজকালকার ডেটিং দুনিয়াটা বেশ জটিল। ঘোস্টিং, বেনচিং, ব্রেডক্রাম্বিং-এর মতো শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি। এবার সেই তালিকায় যোগ হল নতুন একটি শব্দ - ‘ডায়াল-টোনিং’। জেন জি-দের মধ্যে এই ট্রেন্ডটি এখন ভীষণভাবে ভাইরাল।
আসলে ডায়াল-টোনিং হল এমন একটা পরিস্থিতি, যখন দুজন মানুষের মধ্যে কথা বলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। রোজকার চ্যাট, দেখা করা, ফোন কল - কিছুই আর হয় না। সম্পর্কটা কার্যত শেষ। কিন্তু তারপরেও কেউ কাউকে আনফলো করছেন না, ব্লক করছেন না বা ডেটিং অ্যাপে আনম্যাচ করছেন না। অর্থাৎ, ফোনে ডায়াল টোন বাজছে কিন্তু কেউ ফোন তুলছে না - অনেকটা সেরকমই।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
মনোবিদরা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে জেন জি-র কয়েকটি বিশেষ মানসিকতা।
১. দরজা খোলা রাখা: জেন জি-রা কোনও সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ করে দিতে ভয় পান। তাদের মনে হয়, যদি ভবিষ্যতে আবার কথা বলতে ইচ্ছে করে? যদি আবার সব ঠিক হয়ে যায়? তাই তারা আনম্যাচ বা ব্লক না করে একটা অপশন খোলা রাখতে চান। এটা এক ধরনের ইমোশনাল সেফটি নেট।
২. সংঘর্ষ এড়ানো: সরাসরি বলে দেওয়া যে "আমি আর এই সম্পর্কে থাকতে চাই না" - এর জন্য অনেক সাহস লাগে। ডায়াল-টোনিং হল সেই কঠিন কথোপকথনটা এড়িয়ে যাওয়ার সহজ রাস্তা। কোনও ঝগড়া নেই, কোনও কান্নাকাটি নেই, শুধু ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ভ্যালিডেশন: অনেক সময় মানুষটা অপছন্দের হলেও তার ফলোয়ার লিস্টে থাকাটা বা তার লাইফ আপডেট দেখাটা একটা অভ্যাস হয়ে যায়। আনম্যাচ করে দিলে সেই কৌতূহলটা মিটবে না। তাই তারা চুপচাপ ফলো করে যান, কিন্তু কথা বলেন না।
এটা কি হেলদি?
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াল-টোনিং মোটেও হেলদি নয়। এতে দুজনের মনেই একটা অদ্ভুত দ্বিধা তৈরি হয়। সম্পর্কটা শেষও হল না, আবার চললও না। এর ফলে মুভ অন করতে অনেক বেশি সময় লাগে। তাই যদি মনে হয় সম্পর্কটা আর চলছে না, তাহলে সাহস করে সরাসরি কথা বলে একটি পরিষ্কার সমাপ্তি টানা অনেক বেশি জরুরি।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News