সারাদিন মাথার মধ্যে একই চিন্তা ঘুরতে থাকে? রাতে ঘুম আসে না হাবিজাবি ভাবনার জন্য? অতিরিক্ত চিন্তা বা ওভারথিংকিং আজকের দিনে একটি বড় সমস্যা। জার্নাল লেখা শুরু করুন। নিজের অনুভূতি, যা অন্য কাউকে বোঝাতে পারছেন না, সেগুলোও লিখে ফেলুন।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই কী হবে, অফিসে কী বলল, কাল কী হতে পারে - এই সব ভাবনা নিয়েই কি আপনার দিন শুরু হয়? একটা ছোট ঘটনাকে নিয়ে বারবার ভাবা, খারাপ কিছু হবে এই ভয়ে সবসময় চিন্তা করা, এটাই হল ওভারথিংকিং বা অতিরিক্ত চিন্তা। মনোবিদরা বলছেন, বর্তমানে স্ট্রেস, কাজের চাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এই সমস্যা বহু মানুষের মধ্যেই বাড়ছে।

অতিরিক্ত চিন্তা শুধু মানসিক শান্তিই নষ্ট করে না, এর প্রভাব পড়ে ঘুম, হজম এবং হার্টের উপরও। তাই এই চিন্তার জাল থেকে বেরিয়ে আসা খুব জরুরি। রইল ৫টি সহজ উপায় যা আপনাকে ভিতর থেকে শান্ত করবে।

১. ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক: যখনই মনে হবে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তখনই এই টেকনিকটি করুন। চারপাশে তাকিয়ে ৫টি জিনিস দেখুন, ৪টি জিনিস ছুঁয়ে অনুভব করুন, ৩টি শব্দ শুনুন, ২টি গন্ধ নিন এবং ১টি স্বাদ অনুভব করুন। এই পদ্ধতি আপনার মস্তিষ্ককে বর্তমানে ফিরিয়ে আনবে এবং চিন্তার স্রোত কাটবে।

২. চিন্তার জন্য সময় বরাদ্দ করুন: শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা খুব কার্যকরী। দিনের মধ্যে ১৫ মিনিট ‘ওরি টাইম’ ঠিক করুন। ঠিক করুন, ওই ১৫ মিনিটই আপনি সব চিন্তা করবেন। বাকি সময় চিন্তা মাথায় এলেই নিজেকে বলুন, "এটা ওরি টাইমে ভাবব"। এতে মস্তিষ্ক অযথা সারাদিন চিন্তা করবে না।

৩. লিখে ফেলুন সবকিছু: মাথার মধ্যে চিন্তা জমিয়ে না রেখে খাতায় লিখে ফেলুন। কী নিয়ে ভয় পাচ্ছেন, কী খারাপ লাগছে - সব লিখুন। লেখার পর দেখবেন, যে জিনিসটা মাথায় পাহাড়ের মতো মনে হচ্ছিল, খাতায় লেখার পর সেটা অনেক ছোট হয়ে গেছে। এটাকে জার্নালিং বলে, যা মনোবিদরাও পরামর্শ দেন।

৪. শরীরকে ব্যস্ত রাখুন: মন যখন খালি থাকে, তখনই হাবিজাবি চিন্তা বেশি আসে। তাই শরীরকে ব্যস্ত রাখুন। ২০ মিনিট হাঁটুন, হালকা যোগা বা শ্বাসের ব্যায়াম করুন। শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্কে হ্যাপি হরমোন ক্ষরণ হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই মনকে শান্ত করে।

৫. ডিজিটাল ডিটক্স: দিনের একটা বড় সময় আমরা ফোনে কাটাই। অন্যের জীবন দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করা থেকেই অনেক চিন্তার জন্ম হয়। তাই ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এবং ঘুম থেকে উঠে এক ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকুন। এই ছোট বিরতি আপনার মস্তিষ্ককে অনেকটা শান্তি দেবে।

মনে রাখবেন, চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই চিন্তা যখন আপনার দৈনন্দিন জীবনকে নষ্ট করছে, তখন তার যত্ন নেওয়া জরুরি। এই উপায়গুলোতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।