Sleep and Brain: ঘুম কম হলে ব্রেনের ক্ষতি কতটা? উত্তর লুকিয়ে আপনার জিনে

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 03, 2026, 07:03 AM IST
Representative Image (Photo/Reuters)

সংক্ষিপ্ত

অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণা বলছে, কম ঘুমের কারণে মস্তিষ্কের ক্ষতি কতটা হবে, তা নির্ভর করে এক বিশেষ জিনের ওপর। এই জিনের বিভিন্ন ধরনের কারণে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকিও একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

আপনার ঘুমের অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে মস্তিষ্কের কতটা ক্ষতি হতে পারে, তা হয়তো আপনার জিনই ঠিক করে দেয়। বিশেষ করে, মস্তিষ্কের নিজস্ব যে পরিষ্কার ব্যবস্থা (cleaning system) আছে, তার সঙ্গে জড়িত একটি জিনই বলে দেয়, কম ঘুমের কারণে অ্যালঝাইমার্স-সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলো কার ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে। এই গবেষণার ফলে এখন প্রত্যেকের জিন ও ঘুমের অভ্যাস অনুযায়ী আলাদা আলাদা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটি (ECU)-র নতুন গবেষণা থেকে জানা গেছে, লক্ষণ দেখা দেওয়ার অনেক বছর আগে থেকেই ঘুমের অভ্যাস এবং জেনেটিক্স একসঙ্গে মিলে মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্ষমতায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনতে পারে, যা অ্যালঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত।

ECU-র সেন্টার ফর প্রিসিশন হেলথ (CPH) এই গবেষণাটি করেছে। তারা মূলত অ্যাকোয়াপোরিন-৪ (AQP4) জিনটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। এই জিনটি মস্তিষ্ক জুড়ে তরল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে, যা ব্রেনের স্বাভাবিক বর্জ্য পরিষ্কারের প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

রাতের বেলা মস্তিষ্কের বর্জ্য পরিষ্কারের ব্যবস্থা

আমরা যখন ঘুমোই, তখন মস্তিষ্কের এই বর্জ্য পরিষ্কারের প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মস্তিষ্ক থেকে ক্ষতিকারক প্রোটিন বেরিয়ে যায়, যার মধ্যে অ্যালঝাইমার্স রোগের জন্য দায়ী প্রোটিনও রয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, ঘুমের প্রভাব একেকজনের ওপর একেক রকম হয়, যা নির্ভর করে তাদের শরীরে AQP4 জিনের কোন সংস্করণটি রয়েছে তার ওপর।

গবেষক ডঃ আয়েইশা মিলিগান আর্মস্ট্রং বলেন, "আমাদের গবেষণা দেখিয়েছে, যাদের শরীরে AQP4 জিনের নির্দিষ্ট কিছু ধরন রয়েছে এবং যারা কম ঘুমানোর কথা জানিয়েছেন, তাদের মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার দ্রুত কমে গেছে।"

তিনি আরও বলেন, "ব্যাপারটা শুধু এই নয় যে আপনার শরীরে কোন জিন আছে, বরং সেই জিন আপনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে কাজ করছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন কীভাবে ঘুমাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে একই জিন কাউকে সুরক্ষা দিতে পারে, আবার কারও জন্য ক্ষতিকারকও হতে পারে। এটা খুবই জরুরি, কারণ ঘুম হল এমন একটা বিষয় যা মানুষ চাইলে বদলাতে পারে।"

মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারেই স্মৃতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, নড়াচড়া এবং অন্যান্য জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোষগুলো থাকে। গ্রে ম্যাটারের পরিমাণ কমে যাওয়া মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে।

জিনের ধরন অনুযায়ী ঘুমের প্রভাবও ভিন্ন

গবেষকরা AQP4 জিনের ১৩টি সাধারণ ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। এর সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া ঘুমের তথ্য, ব্রেন স্ক্যান এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

দেখা গেছে, কিছু অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে কম ঘণ্টা ঘুমানোটা গ্রে ম্যাটার দ্রুত কমে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। আবার অন্যদের ক্ষেত্রে, ঘুম আসতে দেরি হওয়াটা মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত, যার ফলে মস্তিষ্কের আয়তন কমে যায়।

যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগেছেন, তাদের মধ্যে জ্ঞানীয় ক্ষমতাও (cognitive performance) সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নভাবে বদলেছে। এই প্রভাব ভালো না খারাপ হবে, তা নির্ভর করেছে প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে থাকা AQP4 জিনের নির্দিষ্ট ধরনের ওপর।

গবেষক ডঃ টেনিয়েল পোর্টার বলেন, "আমরা অনেক দিন ধরেই জানি যে কম ঘুম এবং অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকির মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে।"

"এই গবেষণা দেখাচ্ছে যে, ঝুঁকির মধ্যে থাকা সবাই একই পথে এগোবে, এমনটা ভাবার বদলে অ্যালঝাইমার্স প্রতিরোধের জন্য আরও নির্দিষ্ট এবং ব্যক্তিগত পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। তবে আমরা এখনই জেনেটিক টেস্টিংয়ের পরামর্শ দিচ্ছি না; আমাদের এই গবেষণার ফলাফল আরও বড় এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর পরীক্ষা করে নিশ্চিত করতে হবে।"

ব্যক্তিগত অ্যালঝাইমার্স প্রতিরোধের দিকে এক ধাপ

এই গবেষণার ফলাফল বলছে, অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি মোটামুটি একই রকম হলেও, দুজন ব্যক্তির ওপর কম ঘুমের প্রভাব একরকম নাও হতে পারে। জেনেটিক পার্থক্যই হয়তো ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের অবনতি অন্যদের চেয়ে দ্রুত হয়।

গবেষকরা এমন ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন যেখানে জেনেটিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই ধরনের গবেষণায় পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে যে, ঘুমের অভ্যাস উন্নত করলে বংশগত দুর্বলতা কমানো যায় কি না এবং অ্যালঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসে কি না।

CPH-এর ডিরেক্টর প্রফেসর সাইমন লজ বলেন, "কাগজে-কলমে ঝুঁকি একরকম হওয়া সত্ত্বেও কেন কিছু মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি অন্যদের চেয়ে দ্রুত হয়, এই গবেষণা তা বুঝতে আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।"

"অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকিতে থাকা সবাইকে একভাবে দেখার বদলে, কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোন জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে, তা চিহ্নিত করাই হল প্রিসিশন হেলথের আসল লক্ষ্য।"

এই গবেষণাটি "Evidence for Direct and Sleep-Moderated Relationships between Aquaporin -4 Genetic Variants and Alzheimer's Disease Phenotypes" শিরোনামে আলঝেইমার'স অ্যান্ড ডিমেনশিয়া, দ্য জার্নাল অফ দ্য আলঝেইমার'স অ্যাসোসিয়েশন-এ অনলাইন প্রকাশিত হয়েছে। (ANI)

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

রোজ সকালে লেবু, আদা আর হলুদের জল খেলে কী হয়? জানুন ৭টি উপকার
Packing Tips: ঘুরতে যাচ্ছেন? কম জিনিসে কীভাবে ব্যাগ গোছাবেন, রইল জরুরি টিপস