Goa Travel Tips: বর্ষায় কম খরচে ঘুরে আসুন ‘গ্রিন গোয়া’, রইল পর্যটকদের প্রিয় সেরা কিছু ঠিকানা

Published : May 05, 2026, 02:52 PM IST
Goa

সংক্ষিপ্ত

Goa Travel Tips: গোয়া মানেই কি শুধু ডিসেম্বরের ভিড় আর নিউ ইয়ারের পার্টি? একদম নয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর, বর্ষার গোয়া সাজে অপরূপ সবুজে। ভিড়ভাট্টা নেই, হোটেল ভাড়া অর্ধেক, আর দুধসাগর ফলস তখন ভয়ঙ্কর সুন্দর।

Goa Travel Tips: ‘গোয়া’ নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল সমুদ্র, সোনালি বালি, আর বিচ পার্টি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, বর্ষার গোয়া একেবারে অন্যরকম। জুন মাস পড়তেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। আর বৃষ্টির জল পেয়ে গোটা গোয়া সবুজ কার্পেটে মুড়ে যায়। টুরিস্টের ভিড় ৮০% কমে যায়, ফাইভ-স্টার হোটেলের দাম নেমে আসে অর্ধেকে। এই সময়টাকেই বলে ‘গ্রিন গোয়া’।

সমুদ্রে স্নান বা ওয়াটার স্পোর্টস বন্ধ থাকে ঠিকই। কিন্তু বদলে পাবেন ফুলে ফেঁপে ওঠা ঝর্না, কুয়াশা মাখা পাহাড়, পর্তুগিজ বাড়ির বারান্দায় বসে কফি আর বিন্দাস ড্রাইভ। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য এটাই সেরা সময়।

বর্ষায় গোয়ার ৬ সেরা ঠিকানা:

১. দুধসাগর ফলস: ভারতের নায়াগ্রা

৬০০ মিটার উপর থেকে দুধের মতো সাদা জলরাশি আছড়ে পড়ছে। বর্ষায় ডুডসাগর হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর সুন্দর। জিপ সাফারি করে বা ট্রেক করে ফলসের কাছে যাওয়া যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বেস্ট টাইম। কুলেম রেল স্টেশন থেকে জিপ বুক করতে হয়।

খরচ: জিপ সাফারি ৫০০-৬০০ টাকা জনপ্রতি।

২. চাপোরা ফোর্ট: ‘দিল চাহতা হ্যায়’ পয়েন্ট

শাহরুখ-আমির-সইফের সেই বিখ্যাত দৃশ্য মনে আছে? ভাগাতোর বিচের পাশে এই পর্তুগিজ ফোর্ট থেকে আরব সাগরের ভিউ মারাত্মক। বর্ষায় চারিদিক সবুজ, মেঘেরা গা ঘেঁষে যায়। ভিড় নেই, তাই ফটোশুটের আদর্শ জায়গা।

টিপস: বিকেলের আগে যান। সিঁড়ি পিচ্ছিল থাকে, সাবধান।

৩. পালোলেম বিচ, সাউথ গোয়া: শান্তির ঠিকানা

নর্থ গোয়া বর্ষায় কিছুটা নিষ্প্রাণ। কিন্তু সাউথ গোয়ার পালোলেম তখনও জেগে। সারি সারি নারকেল গাছ, রঙিন বিচ হাট আর কায়াকিং। সমুদ্র উত্তাল, তাই নামা যায় না। কিন্তু বিচে বসে বৃষ্টি দেখতে দারুণ লাগে। বিচ-শ্যাকগুলো অর্ধেক দামে খোলা থাকে।

খরচ: বিচ হাট ৮০০-১২০০ টাকা প্রতি রাত।

৪. স্পাইস প্ল্যান্টেশন, পোন্ডা:

গোয়া শুধু বিচ নয়, মশলারও স্বর্গ। সাহাকারি বা ট্রপিকাল স্পাইস প্ল্যান্টেশনে ঘুরে দেখুন কীভাবে এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ চাষ হয়। হাতির পিঠে চড়া, বোটিং আর শেষপাতায় কলাপাতায় গোয়ানিজ থালি – সব মেলে ৪০০ টাকায়। বর্ষায় চারিদিক সবুজে ভরে থাকে।

৫. ফন্টেইনহাস, পানাজি: পর্তুগিজ গোয়া

পানাজির এই ল্যাটিন কোয়ার্টার ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট। রঙিন পর্তুগিজ বাড়ি, সরু গলি, আর্ট গ্যালারি আর পুরনো বেকারি। বৃষ্টিভেজা দুপুরে ছাতা মাথায় হেঁটে বেড়ান। এক কাপ কফি আর বেবিনকা টেস্ট করুন। ছবি তুলতে ক্যামেরা ভরে যাবে।

৬. চোরাও আইল্যান্ড: ব্যাকওয়াটারে পাখির দেশ

মান্ডবী নদীর মাঝে এই দ্বীপে আছে বিখ্যাত সালিম আলি বার্ড স্যাংচুয়ারি। বর্ষায় পরিযায়ী পাখি না থাকলেও স্থানীয় কিংফিশার, ইগ্রেট, হর্নবিলের মেলা বসে। ফেরি করে দ্বীপে গিয়ে ক্যানো রাইড করুন। নিস্তব্ধতা কাকে বলে টের পাবেন।

বর্ষায় গোয়া যাওয়ার খরচ ও টিপস:

১. ফ্লাইট/ট্রেন: কলকাতা-গোয়া ফ্লাইট অফ সিজনে ৩,৫০০-৪,৫০০ টাকা। অমরাবতী এক্সপ্রেসে স্লিপার ৭০০ টাকা।

২. থাকা: ৩-স্টার হোটেল ১,২০০-১,৮০০ টাকা। হোস্টেল ৫০০ টাকা।

৩. ঘোরা: স্কুটি ভাড়া ৩০০ টাকা দিনপ্রতি। তেল নিজের। বৃষ্টির জন্য রেইনকোট মাস্ট।

৪. খাওয়া: বিচ শ্যাকে ফিশ থালি ১৫০-২০০ টাকা। লোকাল বারে বিয়ার ৮০ টাকা।

সতর্কতা: সমুদ্রে লাল ফ্ল্যাগ থাকলে নামবেন না। জোঁক থেকে বাঁচতে সল্ট বা টোব্যাকো রাখুন।

ভিড় নেই, দাম কম, আর প্রকৃতি ১০০% সুন্দর – বর্ষার গোয়া একবার ঘুরে দেখুন। সমুদ্রের গর্জন আর বৃষ্টির শব্দে প্রেমে পড়ে যাবেন গ্যারান্টি।

বাড়তি অংশ – মূল কপির শেষে যোগ করুন:

বর্ষায় গোয়ার খাবার ও নাইটলাইফ কেমন?

অনেকেই ভাবেন বর্ষায় গোয়া মানেই সব শ্যাক বন্ধ। কথাটা আংশিক সত্যি। নর্থ গোয়ার কালাঙ্গুটে, বাগা বিচের ৭০% শ্যাক জুন থেকে বন্ধ থাকে। কিন্তু পালোলেম, কোলভা, বেনাউলিমের অনেক বিচ শ্যাক সারা বছর খোলা। দামও ৪০% কম।

এই সময় চেখে দেখুন বর্ষার স্পেশাল গোয়ানিজ ডিশ। গরম গরম চোরিজ পাও আর আদা দেওয়া চা বৃষ্টির দিনে অমৃত। এছাড়া ক্র্যাব জ্যাকুটি, আমবোটিক ফিশ কারি আর সান্নাস মাস্ট ট্রাই। ডেজার্টে নিন বেবিনকা বা সেরাডুরা। পানাজির ‘কনফেইটারিয়া ৩১ দে জানেইরো’ ১০০ বছরের পুরনো বেকারি, এখানকার পেস্ট্রি মিস করবেন না।

নাইটলাইফ? ডিসেম্বরের মতো ঝাঁ চকচকে ক্লাব বন্ধ। তবে অঞ্জুনার ‘কার্লিস’, পানাজির ‘ক্যাভালা’ আর ‘সিনকোয়েরা’-র মতো কয়েকটা জায়গা সারা বছর খোলা। লাইভ মিউজিক, সস্তা ড্রিঙ্কস আর লোকাল ভিড় – অন্যরকম মজা। বৃষ্টির শব্দের সাথে সুসেগাদ ভাইব, এটাই মনসুন গোয়ার ইউএসপি।

বাজেট ট্রিপ প্ল্যান ৩ রাত ৪ দিন:

দিন ১: কলকাতা থেকে গোয়া ফ্লাইট, পানাজি চেক-ইন। বিকেলে ফন্টেইনহাস ঘুরে রিভার ক্রুজ। খরচ: ৫,০০০ টাকা।

দিন ২: সকাল সকাল ডুডসাগর জিপ সাফারি। ফেরার পথে স্পাইস প্ল্যান্টেশন ও লাঞ্চ। খরচ: ১,৫০০ টাকা।

দিন ৩: স্কুটি নিয়ে সাউথ গোয়া রাইড। পালোলেম, কোলভা, কাবো দে রামা ফোর্ট। বিচে বসে সানসেট। খরচ: ১,০০০ টাকা।

দিন ৪: চাপোরা ফোর্ট, ভাগাতোর বিচ। দুপুরে ফ্লাইট। খরচ: ৫০০ টাকা।

মোট: ফ্লাইট বাদে ৮,০০০ টাকায় আরামসে ঘোরা যাবে জনপ্রতি। গ্রুপে গেলে ৬,৫০০-এ নেমে আসবে।

শেষ কথা: বর্ষার গোয়া পার্টির জন্য নয়, প্রকৃতির জন্য। সমুদ্র এখানে উত্তাল, তাই লাইফগার্ডের কথা শুনুন। ক্যামেরা বাঁচাতে ওয়াটারপ্রুফ পাউচ নিন। আর ছাতার বদলে পঞ্চো নিলে দু’হাত খোলা থাকবে, ছবি তুলতে সুবিধা। ভিড় এড়িয়ে, পকেট বাঁচিয়ে গোয়াকে নতুন করে চিনতে চাইলে ব্যাগ গোছান। ‘গ্রিন গোয়া’ আপনাকে নিরাশ করবে না।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

গরমে নাজেহাল? ছুটি কাটাতে চলুন নর্থ বেঙ্গলের এই ৫ শৈলশহরে, তাপমাত্রা যেখানে ১৬ ডিগ্রি
Bacterial Vaginosis: মহিলাদের এই লক্ষণগুলো সাধারণ নয়, হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস, জানুন এক ক্লিকে