আমাদের মাথায় যে চুল দেখা যায়, বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে 'হেয়ার শ্যাফট' বলে। এটি মূলত কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি কোষ থেকে জন্ম নেয়। চুল যখন ত্বক থেকে বেরিয়ে আসে, তখন তার ভেতরের কোষগুলো পুরোপুরি কেরাটিনাইজড হয়ে যায়। তখন আর সেগুলো কোনো জৈবিক কাজ করতে পারে না। এই কারণেই বাইরের দিকে থাকা চুলে কোনো রক্তনালী থাকে না।
তবে ত্বকের ভেতরে থাকা চুলের অংশে জীবন্ত কোষ থাকে। হেয়ার বাল্বের নিচের দিকে ডার্মাল প্যাপিলার চারপাশে রক্তনালী থেকে তৈরি হওয়া কৈশিক নালী থাকে। এগুলোই চুল বড় হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টি জোগায়।
চুলের মতোই নখের যে অংশটি আমরা বাইরে থেকে দেখি, তাকে নেইল প্লেট বলে। এটিও মূলত শক্ত কেরাটিনাইজড কোষ দিয়ে তৈরি। নেইল প্লেটের কোষগুলো যখন পরিণত হয়, তখন তারা নিজেদের নিউক্লিয়াস হারিয়ে শক্ত হয়ে যায়। তাই বাইরের নখে কোনো রক্তনালী থাকে না।
তবে নখের নিচে থাকা নেইল বেড এবং যেখান থেকে নখ তৈরি হয় সেই নেইল ম্যাট্রিক্সে জীবন্ত কোষ থাকে। সেখানে রক্ত চলাচল করে। নখের এই অংশে রক্তনালীর বড় একটি জালিকা থাকে, যা নখ বড় হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
তাই 'নখ আর চুলে রক্ত চলাচল করে না'—এই কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, বাইরে থেকে দেখা যাওয়া হেয়ার শ্যাফট এবং নেইল প্লেটে কোনো রক্তনালী থাকে না। কিন্তু চুল গজাতে সাহায্য করা হেয়ার ফলিকল, নখ তৈরি করা নেইল ম্যাট্রিক্স এবং নখের নিচে থাকা নেইল বেডে রক্ত চলাচল করে। এই কারণেই চুল কাটলে রক্ত বেরোয় না, আর নখের ডগা কাটলে ব্যথা লাগে না। কিন্তু চুলের গোড়ায় বা নখের নিচের জীবন্ত কোষে আঘাত লাগলে ব্যথাও হয় এবং রক্তও বেরোতে পারে।