Body Odor: গরমে ঘামের দুর্গন্ধে নাজেহাল? ডিওডোরেন্ট, পারফিউম আর বডি মিস্ট - তিনটে কি একই কাজ করে? কোনটা আসলে ঘামের গন্ধ দূর করে আর কোনটা শুধু গন্ধ ঢাকে? ভুল ব্যবহারে বাড়তে পারে দুর্গন্ধ।
Body Odor: গরমকাল আসলেই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ায় ঘাম। সকালবেলা স্নান করে অফিস বা কলেজে গেলেন, দুপুর হতে না হতেই জামা ভিজে গেল ঘামে আর তার সঙ্গে বিশ্রী দুর্গন্ধ। বাসে, মেট্রোতে, অফিসের মিটিংয়ে এই ঘামের গন্ধের জন্য লজ্জায় পড়তে হয় অনেককেই (Body Odor)। আর এই লজ্জা ঢাকতে আমরা পারফিউমের দোকানে গিয়ে হাতের সামনে যা পাই কিনে নিই। কেউ ডিওডোরেন্ট, কেউ পারফিউম, কেউ আবার আজকালকার ট্রেন্ডি বডি মিস্ট। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই তিনটে জিনিস দেখতে একই রকম হলেও এদের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা? আর ভুল জিনিস ব্যবহার করলে ঘামের গন্ধ তো যাবেই না, উল্টে ঘাম আর সুগন্ধি মিশে এমন একটা গন্ধ তৈরি হবে যে পাশের মানুষের আরও বেশি অস্বস্তি হবে।
তাহলে আসুন, আজ একেবারে সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক কোনটা কী কাজ করে
প্রথমে বলি ডিওডোরেন্টের কথা, যেটা ঘামের দুর্গন্ধের আসল যম। অনেকেই ভাবেন ঘাম থেকেই বুঝি গন্ধ বেরোয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। আমাদের ঘামের নিজস্ব কোনও গন্ধ নেই। আমাদের বগলে বা শরীরের ভাঁজে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তারা যখন ঘামের সঙ্গে মিশে যায়, তখনই সেই বিশ্রী গন্ধটা তৈরি হয়। ডিওডোরেন্টের ভিতরে থাকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং অ্যালুমিনিয়াম সল্ট। এই উপাদানগুলো সেই দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং কিছু ক্ষেত্রে ঘামের গ্রন্থির মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। অর্থাৎ, ডিওডোরেন্ট গন্ধকে ঢাকে না, গন্ধ তৈরি হওয়াটাই আটকে দেয়। তাই যদি আপনার প্রধান সমস্যা হয় ঘামের ঝাঁঝালো গন্ধ, তাহলে আপনার জন্য ডিওডোরেন্টই হল একমাত্র সমাধান। এটি ব্যবহার করারও নিয়ম আছে। সবসময় স্নানের পর পরিষ্কার এবং শুকনো শরীরে সরাসরি ত্বকে, বিশেষ করে বগলে লাগাতে হয়। তাহলে এর কার্যকারিতা থাকে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত।
এবার আসি পারফিউমের প্রসঙ্গে। পারফিউমের কাজ কিন্তু ঘামের গন্ধ দূর করা নয়। পারফিউম হল আপনার ব্যক্তিত্বের একটা অংশ, একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট। এর কাজ হল আপনাকে একটি সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধ দেওয়া। পারফিউমে সুগন্ধির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। তাই এর গন্ধ ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে থাকে। এটি সরাসরি ত্বকের ঘাম গ্রন্থির উপর কোনও কাজ করে না। তাই ঘামে ভেজা শরীরে পারফিউম স্প্রে করাটা সবচেয়ে বড় ভুল। ঘামের সঙ্গে পারফিউম মিশলে গন্ধ আরও বাজে হয়ে যায়। পারফিউম সবসময় ব্যবহার করা উচিত জামাকাপড়ের উপর, কানের পিছনে, গলায় বা হাতের কব্জিতে। যখন আপনি কোনও পার্টিতে, অফিসে বা বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, তখন পারফিউম আপনার জন্য আদর্শ।
পারফিউম নয়, এই একটা জিনিসেই গন্ধ হবে গায়েব
আর সবশেষে রয়েছে বডি মিস্ট, যা এই মুহূর্তে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বডি মিস্ট হল তিনটির মধ্যে সবচেয়ে হালকা এবং স্নিগ্ধ। এতে জলের পরিমাণ অনেক বেশি এবং সুগন্ধির পরিমাণ খুবই কম, মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ। এটি ত্বককে একটা ইনস্ট্যান্ট ফ্রেশ এবং ঠান্ডা অনুভূতি দেয়, কিন্তু এটি না ঘামের গন্ধ আটকাতে পারে, না পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধ দিতে পারে। এর গন্ধ খুব জোর এক থেকে দু ঘণ্টা থাকে। যারা কড়া পারফিউমের গন্ধ একদম সহ্য করতে পারেন না, যারা সারাদিন বাড়িতে থাকেন, বা কলেজে যাওয়ার সময় হালকা একটা মিষ্টি গন্ধ চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট দারুণ। এটি দিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করা যায় এবং ত্বকের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।
তাহলে দিনের শেষে কোনটা আপনার জন্য সেরা? উত্তরটা খুব সহজ। যদি আপনার ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে লজ্জায় পড়তে হয়, তাহলে চোখ বন্ধ করে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। এটাই আপনার সমস্যার আসল সমাধান করবে। আর যদি আপনি চান সারাদিন আপনাকে ঘিরে থাকুক একটা সুন্দর গন্ধ, তাহলে একটি ভালো কম্বো ট্রাই করতে পারেন। স্নানের পর পরিষ্কার শরীরে প্রথমে ডিওডোরেন্ট লাগিয়ে ঘামের গন্ধ আটকান, তারপর আপনার পছন্দের পারফিউম জামার উপর স্প্রে করুন। আর যারা হালকা কিছুর খোঁজে আছেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট তো রইলই।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


