Iron Deficiency: মানবশরীরে আয়রন খুব জরুরি একটা পুষ্টি উপাদান। লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে এর জুড়ি মেলা ভার। বিস্তারিত জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি।।
শরীরে আয়রনের ঘাটতি? এই ৭টি লক্ষণ একদম এড়িয়ে যাবেন না
আমাদের শরীরে আয়রন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে এটি কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আয়রন শরীরে এনার্জি তৈরি করতেও সাহায্য করে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা আর মস্তিষ্কের কাজে সমস্যা দেখা দেয়। এর থেকেই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা হয়।
29
মহিলাদের মধ্যে অ্যানিমিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
ভারতে আয়রনের অভাবেই মূলত অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা যায়। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। 'ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫' (NFHS-5) বলছে, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৬৭.১%, কিশোরীদের ৫৯.১%, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের ৫৭% এবং পুরুষদের ২৫% অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে বেশ কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে।
39
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও ক্লান্তি না কমা প্রাথমিক লক্ষণ
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও ক্লান্তি না কমা অ্যানিমিয়ার অন্যতম সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে পেশি আর মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত এনার্জি পায় না। এর ফলে হাঁটাচলা বা সিঁড়ি ভাঙার মতো সাধারণ কাজ করতে গিয়েও মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে। অ্যানিমিয়া থাকলে অস্বাভাবিক দুর্বলতা লাগে এবং দৈনন্দিন কাজ করতেও কষ্ট হয়।
ত্বক হলদেটে হয়ে যাওয়া জন্ডিসের মতো সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়
ত্বক তার স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে মুখ, হাতের তালু বা চোখের পাতার ভেতরের অংশ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার জন্যই এমনটা হয়। অনেক সময় ত্বক হলদেটে হয়ে যায়, যা জন্ডিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়।
59
আয়রনের ঘাটতির আরেকটি বড় লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট
শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সাধারণত ব্যায়াম করার সময় বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় এই সমস্যা বেশি বোঝা যায়। শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হৃৎপিণ্ড আর ফুসফুসকে তখন অতিরিক্ত খাটতে হয়। এই লক্ষণ এড়িয়ে গেলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
69
হৃৎস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বা তাল কেটে যেতে পারে
অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন আয়রন ঘাটতির আরেকটি বড় লক্ষণ। হার্টবিট হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বা তাল কেটে যেতে পারে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হৃৎপিণ্ডকে যখন বেশি কসরত করতে হয়, তখনই এমনটা ঘটে। বুকে ধড়ফড়ানি বা হার্টবিট মিস হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে।
79
মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা হতে পারে
মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে মাথা ঘোরা বা ঘন ঘন মাথাব্যথা হতে পারে। বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে এই সমস্যা আরও বাড়ে। এর পাশাপাশি কোনো কাজে মন দিতে না পারা বা চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
89
রক্ত চলাচল কমে গেলে হাত ও পা সবসময় ঠান্ডা থাকে
রক্ত চলাচল কমে গেলে হাত ও পা সবসময় ঠান্ডা থাকে। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে তা শরীরের দূরবর্তী অঙ্গগুলোর কোষে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। আর সেই কারণেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।
99
বরফ, মাটি বা কাদার মতো খাওয়ার অযোগ্য জিনিস খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে
বরফ, মাটি বা কাদার মতো খাওয়ার অযোগ্য জিনিস খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে 'পিকা' (Pica) বলা হয়। আয়রনের অভাবেই এমন অদ্ভুত ইচ্ছে জাগে। এছাড়া মুখে ঘা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া এবং জিভে ব্যথা হওয়াও অ্যানিমিয়ার লক্ষণ।