Eggshell Uses: ডিমের খোসা ফেলে না দিয়ে ঘর ও বাগানের নানা কাজে লাগাতে পারেন। ক্যালসিয়াম কার্বনেটে ভরপুর এই খোসা গুঁড়ো করে সার বা মাটিতে মেশানো যায়। এছাড়া ছোট চারাগাছের টব তৈরি বা বাসন মাজার স্ক্রাবার হিসেবেও এটি দারুণ কাজ করে।
অনেক বাড়িতেই সকালের জলখাবারে ডিম থাকে। সেদ্ধ ডিম, অমলেট বা ভুজিয়া—যাই হোক না কেন, রান্নার পর বেশিরভাগ মানুষই ডিমের খোসা সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে বাতিল মনে হওয়া এই খোসাগুলো ঘর ও বাগানের নানা কাজে লাগানো যায়।
ডিমের খোসায় প্রচুর ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে, যা মাটির জন্য খুব উপকারী। এছাড়া ঘর পরিষ্কারের কাজ থেকে শুরু করে বীজ বোনার ছোট পাত্র হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায়। তাই রোজ সকালে এগুলো ফেলে না দিয়ে জমিয়ে শুকিয়ে নিন।
ডিমের খোসা বাগানের কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এতে ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং সামান্য অন্যান্য খনিজ থাকে। ক্যালসিয়াম গাছের কোষের প্রাচীর মজবুত করে এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
বাজার থেকে সার কেনার বদলে বাতিল ডিমের খোসাকেই ক্যালসিয়ামযুক্ত সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে খোসাগুলো ধুয়ে রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিন। এরপর মিক্সার বা গ্রাইন্ডারে মিহি গুঁড়ো করে নিন।
টমেটো, লঙ্কা বা গোলাপ গাছের মাটিতে এই গুঁড়ো মেশালে দারুণ ফল পাবেন। তবে মনে রাখবেন, ডিমের খোসা মাটিতে মিশতে সময় নেয়। তাই বড় টুকরোর বদলে মিহি গুঁড়ো ব্যবহার করা ভালো। গাছে দেওয়ার আগে মাটির পুষ্টিগুণ পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
36
নোংরা বাসন মাজতে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করুন
রান্নাঘরের বাসনে জেদি দাগ বা পোড়া খাবার আটকে থাকলে ডিমের খোসা দারুণ কাজে আসে।
স্টিলের প্যান বা কড়াইতে খাবার পুড়ে গেলে মিহি করে গুঁড়ো করা ডিমের খোসা স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ডিশওয়াশিং লিকুইডের সঙ্গে এই গুঁড়ো মিশিয়ে ঘষলে পোড়া দাগ সহজে উঠে যায়।
পরিষ্কার ও শুকনো খোসা গুঁড়ো করে লিকুইড সাবানের সঙ্গে মিশিয়ে স্টিলের বাসন মাজুন। এরপর জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। তবে নন-স্টিক বা সহজে দাগ পড়ে এমন বাসনে এটি ব্যবহার করবেন না।
46
ডিমের খোসা দিয়ে তৈরি করুন চারাগাছের টব
বাড়িতে গাছ লাগাতে ভালোবাসলে ডিমের খোসাকে বীজ বোনার ছোট পাত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
বাজার থেকে আলাদা ট্রে কেনার বদলে অর্ধেক ভাঙা ডিমের খোসাতেই বীজ পোঁতা যায়। ডিমের ওপরের অংশ সাবধানে ভেঙে ভেতরের অংশ বের করে নিন। এবার খোসাটি ধুয়ে শুকিয়ে নিচের দিকে জল বেরোনোর জন্য ছোট্ট ফুটো করুন। এর মধ্যে সামান্য মাটি দিয়ে ধনে, টমেটো বা লঙ্কার বীজ পুঁতে দিন।
খোসাগুলো নিরাপদ জায়গায় রেখে সাবধানে জল দিন। চারাগাছ একটু বড় হলে খোসাসুদ্ধ গাছটি বড় টবে বসিয়ে দিন। মাটিতে পোঁতার আগে খোসাটা হালকা ভেঙে দেবেন, যাতে শিকড় সহজে ছড়াতে পারে।
56
বাগানের পোকামাকড় তাড়াতে ডিমের খোসা
বাগানের মাটিতে চলাফেরা করা শামুক ও স্লাগ জাতীয় পোকামাকড় ঠেকাতে ডিমের খোসা দারুণ কাজ করে।
পদ্ধতিটা খুব সোজা। পরিষ্কার ও শুকনো ডিমের খোসা ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙে গাছের গোড়ায় বা বাগানের চারপাশে ছড়িয়ে দিন।
খোসার এবড়োখেবড়ো অংশের কারণে পোকামাকড় গাছের দিকে এগোতে চায় না। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এটি পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। তাই গাছে বেশি পোকা ধরলে শুধু এর ওপর ভরসা না করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবুও বাগানের সুরক্ষায় এই পদ্ধতিটি একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন।
66
বাড়ির তৈরি কম্পোস্ট সারে মেশান ডিমের খোসা
ডিমের খোসা নষ্ট না করে কম্পোস্ট বিনে ফেলে দেওয়া একটি দারুণ উপায়। এতে রান্নাঘরের বর্জ্য কাজে লাগানো যায়। ডিমের খোসা কম্পোস্ট সারে ক্যালসিয়াম যোগ করে।
ভালো ফল পেতে খোসাগুলো ধুয়ে শুকিয়ে মিহি গুঁড়ো করে নিন। এরপর সবজি ও ফলের খোসা, শুকনো পাতা এবং অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে এটি কম্পোস্টে মিশিয়ে দিন। মনে রাখবেন, বড় টুকরো সহজে পচে না, তাই মিহি গুঁড়ো ব্যবহার করাই ভালো।
ডিমের খোসা ব্যবহারের আগে কিছু জরুরি কথা
কাঁচা ডিমের খোসায় সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, তাই এগুলো ধরার পর হাত ধুয়ে নেবেন। বাগানের কাজে ব্যবহারের আগে খোসাগুলো ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি।
এছাড়া মিক্সারের ব্লেড ধারালো করতে ডিমের খোসা ব্যবহারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তাই এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। একটু বুদ্ধি খাটালেই ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া জিনিস আপনার ঘর ও বাগানের দারুণ কাজে আসতে পারে।