
ভারতের বড় শহরগুলিতে আরামে জীবন কাটাতে মাসে কত টাকা আয় করা প্রয়োজন? বেশি বেতনের চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কি জীবনের আসল আনন্দগুলো হারিয়ে ফেলছি? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছেন এক যুবক, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। মোহিত তালরেজা নামে ওই যুবকের মতে, শহরের একজন পেশাদার ব্যক্তির জন্য মাসে দেড় থেকে দু'লাখ টাকা আয়ই যথেষ্ট।
মোহিত তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্রমাগত আয় বাড়ানোর দৌড় সবসময় জীবনের মান উন্নত করে না। বরং, বেশি বেতনের চাকরিতে গেলে কাজের চাপ বাড়ে, স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে এবং পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় কমে যায়।
তিনি আরও দেখান যে, আয় বাড়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রার খরচও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে বেশি আয় করেও আর্থিক স্বাধীনতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, ঘন ঘন বেড়াতে যাওয়া—এইসব খরচ বাড়তে থাকলে সঞ্চয়ের পরিমাণ বিশেষ বাড়ে না।
ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, 'কতটা আয় করছেন' তার চেয়েও জরুরি হলো 'কীভাবে খরচ করছেন এবং কতটা সঞ্চয় করছেন'।
তবে সবাই এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন। অনেকের মতে, দেড় থেকে দু'লাখ টাকার অঙ্কটা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। ভারতের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার খরচ ভিন্ন। যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু বা দিল্লির মতো ব্যয়বহুল শহরে বাড়িভাড়া অনেক বেশি। তাছাড়া, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত চাহিদার ওপরও নির্ভর করে কার কত টাকা প্রয়োজন। তাই 'যথেষ্ট বেতন' বিষয়টি একেকজনের পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়।
তবে বেতনের অঙ্কের চেয়ে জীবনযাত্রার ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাটি অনেকেই পছন্দ করেছেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News