
রেস্তরাঁয় ২০ টাকার জলের বোতলের বেশি দাম নেওয়া হলে প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ এটি একটি 'অন্যায় বাণিজ্য পদ্ধতি' (unfair trade practice) এবং 'ভোক্তা সুরক্ষা আইন' (Consumer Protection Act) অনুযায়ী বেআইনি। আদালতগুলিও এখন MRP-র বেশি দাম নেওয়াকে অবৈধ বলছে, যা 'লিগ্যাল মেট্রোলজি অ্যাক্ট'-এরও লঙ্ঘন, এবং এর বিরুদ্ধে কনজিউমার ফোরামে অভিযোগ করা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা সম্ভব।
• MRP লঙ্ঘন: প্যাকেজড পণ্যের (যেমন জলের বোতল) ওপর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) লেখা থাকে এবং এর চেয়ে বেশি দাম নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এমনকি রেস্তরাঁতেও। • "পরিষেবা" অজুহাত নয়: রেস্তরাঁয় পরিবেশ বা পরিষেবার অজুহাতে বেশি দাম নেওয়া যায় না, কারণ সার্ভিস চার্জের মধ্যেই তা অন্তর্ভুক্ত থাকে বলে আদালতগুলি মনে করছে।
• সাম্প্রতিক রায়: চণ্ডীগড়ের কনজিউমার কমিশন সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় রেস্তরাঁকে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে, যা এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
২০২৩ সালে চণ্ডীগড়ের এক রেস্তরাঁয় এক মহিলা খাওয়াদাওয়ার পর বিল দিতে গিয়ে দেখেন বিল হয়েছে ১৯২২ টাকার। তাতে রাজ্যের এবং কেন্দ্রের পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি রয়েছে। তার সঙ্গে ২০ টাকার সাধারণ মিনারেল ওয়াটারের দাম ধরা হয়েছে ৫৫ টাকা। অর্থাৎ মূদ্রিত দামের প্রায় তিন গুণ।
বিষয়টি নিয়ে ওই মহিলা প্রথমে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে অভিযোগ করেন। কিন্তু সেই অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। এর পরে তিনি যান রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে। শুনানিতে অভিযোগকারিণী নিজেই নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেন। প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজ্য এবং কেন্দ্রকে পরিষেবা কর দেওয়া সত্ত্বেও রেস্তরাঁ থেকে কেনা একটি ২০ টাকার জলের বোতলের জন্য বাড়তি আরও ৩৫ টাকা দিতে হবে তাঁকে। বিশেষ করে ওই জল যখন রেস্তরাঁ নিজে থেকে তৈরি করছে না। সেখানে বাড়তি দাম নিচ্ছে কিসের যু্ক্তিতে।
কমিশন জানিয়ে দেয়, রেস্তরাঁ যে পরিষেবা দিচ্ছে, তার জন্য তাঁদের তৈরি খাবারের মেনুতে ইচ্ছেমতো দাম ধার্য করতে পারে। সে ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু বোতলবন্দি মিনারেল ওয়াটার যা আগে থেকেই প্যাকেজিং করা রয়েছে, তার উপর তারা বাড়তি দাম বসাতে পারে না। বিশেষ করে সেই বোতলে, যেগুলি বাইরে একটি নির্দিষ্ট দামে পাওয়া যাচ্ছে।
• সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ: বিল পাওয়ার পর বেশি দাম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে জানান এবং MRP অনুযায়ী দাম দিতে বলুন। • ভোক্তা সুরক্ষা পোর্টাল: যদি রাজি না হয়, তাহলে ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইন (NCH) বা কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাপ (CP-AP)+ এ অভিযোগ করুন। • প্রমাণ রাখুন: বিলের কপি, জলের বোতলের ছবি (যেখানে MRP দেখা যাচ্ছে), এবং রেস্তরাঁর নাম ও ঠিকানা সংরক্ষণ করুন। * কনজিউমার ফোরামে মামলা: প্রমাণসহ জেলা কনজিউমার ডিসপিউট রিড্রেসাল কমিশনে (Consumer Forum) অভিযোগ দায়ের করলে ক্ষতিপূরণ (অতিরিক্ত টাকা ফেরত, মানসিক হয়রানির জন্য) পেতে পারে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: অবশ্যই প্রতিবাদ করা উচিত। এটি শুধু আপনার অধিকার নয়, বরং অন্যান্য ভোক্তাদের সচেতন করারও একটি উপায়। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপনি আপনার টাকা ফেরত পেতে পারেন এবং রেস্তরাঁকে নিয়ম মানতে বাধ্য করতে পারেন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News