
বর্তমান সময়ে হৃদ্রোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। একসময় বয়স বাড়ার সঙ্গে হার্টের সমস্যা বেশি দেখা গেলেও এখন কম বয়সীদের মধ্যেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা—এসবই হার্টের ক্ষতির অন্যতম কারণ। তবে সুখবর হলো, প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
হার্ট সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ওজন কমাতে এবং হৃদ্যন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন
খাদ্যতালিকায় বেশি করে রাখুন শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও মাছ। অন্যদিকে ভাজাভুজি, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, প্রসেসড ফুড, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত চিনি ও লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি।
ধূমপান ও তামাক বর্জন করুন
ধূমপান হৃদ্রোগের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। সিগারেট বা অন্য যেকোনও তামাকজাত পণ্য রক্তনালির ক্ষতি করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান ছেড়ে দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর তার ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করতে শুরু করে।
পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি
প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মানসিক চাপ কমান
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন বা নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিসের কোনও লক্ষণ থাকে না। তাই বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা উচিত।
অ্যালকোহল গ্রহণে সংযম
যাঁরা অ্যালকোহল পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মদ্যপান হৃদ্রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সংযম বজায় রাখা জরুরি।
সতর্ক থাকুন হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণে
বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা ব্যথা কাঁধ, হাত, চোয়াল কিংবা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান বা জরুরি চিকিৎসা নিন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News