ভরদুপুরে আচমকাই আকাশ চিরে নেমে এল একের পর এক বজ্রপাত। প্রবল বৃষ্টি ও মেঘগর্জনের সঙ্গে নজিরবিহীন তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল কলকাতা। অবিরাম বজ্রপাতের জেরে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন, আর কী করবেন না? জেনে নিন বজ্রপাত থেকে বাঁচার জরুরি কিছু নিরাপত্তা টিপস।
211
বজ্রপাত কেন এত বিপজ্জনক?
বর্ষাকালে বজ্রপাত একটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে আকাশ থেকে নেমে আসা এই বিদ্যুৎ। তাই বজ্রপাতের সময় সঠিক সতর্কতা জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের যে কোনও দেশের থেকে ভারতে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। গত কয়েক বছর বাজ পড়ে মৃত্যুর সংখ্য়া আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
311
গাছের নীচে আশ্রয় নেবেন না
বজ্রপাতের সময় বড় গাছের নীচে দাঁড়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। গাছে বজ্রপাত হলে বিদ্যুৎ মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
বাড়ির ভিতরে থাকলেও বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। টিভি, ডেস্কটপ কম্পিউটার বা তারযুক্ত ফোন ব্যবহার না করাই ভালো।
511
জল থেকে দূরে থাকুন
পুকুর, নদী, খাল বা সুইমিং পুলের জলে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসুন। জল বিদ্যুৎ পরিবহণ করে, ফলে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
611
বাইক বা সাইকেলে যাত্রা বন্ধ করুন
বজ্রপাত শুরু হলে মোটরবাইক, সাইকেল বা খোলা যানবাহনে যাত্রা চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক। যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করুন।
711
ঘরের ভিতরে কোথায় থাকবেন
বজ্রপাতের সময় জানালা, দরজা এবং বারান্দা থেকে দূরে থাকুন। কংক্রিটের দেওয়ালযুক্ত ঘরের ভিতরে থাকা তুলনামূলক নিরাপদ।
811
কী কী করবেন না?
মাথার উপর ছাতা তুলে খোলা জায়গায় দাঁড়াবেন না। ধাতব খুঁটি, বিদ্যুতের খুঁটি বা তারের বেড়ার কাছেও যাবেন না।
911
বজ্রপাতের আগে কোন লক্ষণ দেখা যায়
আকাশ কালো হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি, প্রবল মেঘগর্জন বা ঝোড়ো হাওয়া বজ্রপাতের পূর্বাভাস হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে চলে যান।
1011
জীবন বাঁচাতে সচেতনতা জরুরি
বজ্রপাতের সময় সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পারে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মেনে চলুন এবং নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও নিরাপদ রাখুন।
1111
কেন হচ্ছে এত ঘন ঘন বজ্রপাত
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা, উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন ঘূর্ণাবর্তের যৌথ প্রভাবে সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যের আকাশে ঢুকছে। এর জেরেই দ্রুত তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ কিউমুলোনিম্বাস মেঘ, যা প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বঙ্গোপসাগরে গড়ে ওঠা মরশুমের প্রথম ঘূর্ণাবর্ত, যার প্রভাবে বজ্রপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব দু'টিই বেড়েছে।