
সাধারণ মাথাব্যথার সঙ্গে মাইগ্রেনের পার্থক্য অনেক। এটি একটি স্নায়বিক সমস্যা, যা শুধু তীব্র মাথাব্যথাই নয়, বমিভাব, আলো-শব্দে অস্বস্তি এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগলেও অনেকেই সময়মতো এর লক্ষণ চিনতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশে শুরু হলেও অনেকের ক্ষেত্রে পুরো মাথাতেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে টানা দুই-তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অনেকের ব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখে ঝাপসা দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা বা শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি হতে পারে, যাকে 'অরা' বলা হয়।
মাইগ্রেনের নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা না গেলেও জিনগত প্রবণতা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আক্রমণের কারণ হতে পারে।
মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান, মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা এবং নিয়মিত ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোন কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ছে তা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখলে ট্রিগার শনাক্ত করা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘন ঘন তীব্র মাথাব্যথা হলে নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ বারবার না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন করলে উল্টো ওষুধজনিত মাথাব্যথার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে প্রতিরোধমূলক ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে মাইগ্রেনের প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে দৈনন্দিন জীবনও স্বাভাবিক রাখা সহজ হয়।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News