
Child Birth IVG: সন্তান না হওয়ার যন্ত্রণা যারা বোঝেন তাদের জন্য বিজ্ঞান এবার নতুন ভরসা দিল। গবেষকরা শরীরের রক্ত বা চামড়ার সাধারণ কোষ নিয়েই ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু তৈরি করতে পেরেছেন। এই প্রযুক্তির নাম "In Vitro Gametogenesis" বা IVG। সহজ ভাষায় বললে, আপনার নিজের রক্ত থেকেই ল্যাবে নতুন ডিম্বাণু বানানো সম্ভব। গত কয়েক বছরে ইঁদুর এবং বাঁদরের উপর এই পরীক্ষা সফল হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালে জাপান এবং আমেরিকার কয়েকটি ল্যাব মানুষের স্টেম সেল থেকেও প্রাথমিক পর্যায়ের ডিম্বাণু কোষ তৈরি করেছে। এখন গবেষণা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে এগোচ্ছে।
প্রক্রিয়াটা কীভাবে কাজ করবে? প্রথমে আপনার শরীর থেকে সামান্য রক্ত বা চামড়ার কোষ নেওয়া হবে। তারপর সেই কোষকে ল্যাবে "iPSC" বা induced Pluripotent Stem Cell এ পরিবর্তন করা হবে। iPSC হল এমন এক ধরনের কোষ যা শরীরের যেকোনো কোষে পরিণত হতে পারে। এরপর বিশেষ হরমোন এবং কৃত্রিম পরিবেশ দিয়ে সেই iPSC কে ডিম্বাণু কোষে বদলানো হবে। এই ল্যাবে তৈরি ডিম্বাণু পরবর্তীতে IVF পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় IVG এর সুবিধা অনেক। প্রথমত, যাদের ক্যান্সারের কেমোথেরাপির কারণে বা জন্মগতভাবে ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নেই, তারাও নিজের জিনের সন্তানের মা হতে পারবেন। ডোনার ডিম্বাণুর উপর নির্ভর করতে হবে না। দ্বিতীয়ত, বেশি বয়সে মা হওয়ার ক্ষেত্রে এটা বড় সাহায্য করতে পারে। ৪০ এর পর মহিলাদের ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণগত মান দুটোই কমে যায়। যার ফলে গর্ভপাত বা ডাউন সিনড্রোমের মতো জেনেটিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। IVG তে ল্যাবে কম বয়সের কোষ থেকে "তরুণ" ডিম্বাণু তৈরি করা যাবে। ফলে বেশি বয়সেও সুস্থ সন্তানের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে এক্ষেত্রে গর্ভধারণের সময় মায়ের শরীরে প্রেশার বা ডায়াবেটিসের মতো অন্যান্য ঝুঁকি থেকেই যাবে। তৃতীয়ত, যাদের ৩০ এর আগেই মেনোপজ হয়ে যায় তাদের জন্যও এটি বড় সমাধান হতে পারে। নিজের রক্ত থেকেই ডিম্বাণু বানিয়ে মা হওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
কিন্তু সবকিছুরই দুটো দিক থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন IVG এখনও ১০০% নিরাপদ নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল জেনেটিক ত্রুটি। ল্যাবে কোষ বানোর সময় DNA তে সামান্য ভুল হলেও তা সন্তানের শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে। দ্বিতীয়ত, মানুষের উপর প্রয়োগের আগে আরও ৫ থেকে ১০ বছর ধরে নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে। তৃতীয়ত রয়েছে নৈতিক প্রশ্ন। একজন মানুষের কোষ থেকে কতগুলো ডিম্বাণু বানানো যাবে, এর অপব্যবহার করে ক্লোনিং করা হবে কিনা — এই নিয়মগুলো এখনও ঠিক হয়নি। ভারতের ICMR ও জানিয়েছে IVG এখনও "পরীক্ষামূলক" পর্যায়ে আছে। ক্লিনিকে ব্যবহারের অনুমতি পেতে আরও সময় লাগবে।
রক্ত থেকে ডিম্বাণু তৈরি করা নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশেষ করে ক্যান্সার সারভাইভার, অল্প বয়সে মেনোপজ হওয়া মহিলা বা যারা বেশি বয়সে মা হতে চান তাদের জন্য এটি নতুন আশার আলো। তবে এখনই IVF ছেড়ে IVG এর জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আসতে ২০৩০ সালের পর সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত ডিম্বাণু ফ্রিজিং এবং IVF ই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News