Destination Wedding: ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর জন্য আর দূরে যেতে হবে না। সমুদ্র, জঙ্গল, পাহাড়ের পাশাপাশি এবার উত্তরবঙ্গের চা বাগানেও বিয়ের পরিকাঠামো তৈরি করবে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। বাজেটে বড় ঘোষণা পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের।
Destination Wedding: বিয়ের জন্য স্বপ্নের জায়গা খুঁজছেন? গোয়া, উদয়পুর বা থাইল্যান্ডের কথা ভাবছেন? এবার আর পকেটের চাপ নিতে হবে না। কারণ আপনার স্বপ্নের ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর সব আয়োজন এবার রাজ্যেই করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পর্যটন দপ্তরের বাজেটের জবাবি ভাষণে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বড় ঘোষণা করলেন। তিনি জানালেন, রাজ্যে পর্যটনের উন্নয়নে সামগ্রিকভাবে ৫ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর জন্য আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা।
*কোথায় কোথায় হবে স্বপ্নের বিয়ে?*
পর্যটন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রকৃতির বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়েই এই বিয়ের আয়োজন করা হবে। মোট ৩ ধরনের লোকেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
*১. সমুদ্রের ধারে রোমান্টিক বিয়ে*:
ঢেউয়ের গর্জন আর সাগরের হাওয়াকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করতে চান? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর এবং শঙ্করপুর। এখানে সমুদ্রের পাড়েই মণ্ডপ থেকে শুরু করে অতিথিদের থাকার সব ব্যবস্থা করবে পর্যটন দপ্তর। সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রের পাড়ে বিয়ের ছবি হবে একেবারে সিনেমার মতো।
*২. গভীর জঙ্গল ও পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির মাঝে বিয়ে*:
যারা একটু নিরিবিলি আর অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের জন্য সুখবর। ডুয়ার্সের গভীর জঙ্গল অথবা দার্জিলিং, কালিম্পং-এর পাহাড়ের কোলে পাহাড়ি ভিউয়ের সাথে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে। পাখির ডাক আর পাহাড়ি ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠান সত্যিই মনে রাখার মতো হবে।
*৩. উত্তরবঙ্গের চা বাগানে রাজকীয় বিয়ে :*
এটাই এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পর্যটনমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ চা বাগানগুলিতেও ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সবুজে মোড়া চা বাগানের মাঝে, সারি সারি চা গাছের পটভূমিতে বিয়ে এবং ফটোশুটের জন্য এর থেকে ভালো জায়গা আর হয় না। বিদেশের মতো ভাইব পেতে চাইলে এটা হবে বেস্ট অপশন।
*পর্যটনের উন্নয়নে আরও ৫ দফা পরিকল্পনা*:
শুধুমাত্র বিয়ে নয়। রাজ্যে পর্যটকদের আরও বেশি করে আকর্ষণ করতে এবং পরিকাঠামো উন্নত করতে সামগ্রিকভাবে ৫ দফা পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে রয়েছে নতুন হোমস্টে তৈরি, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং প্রচারের ব্যবস্থা। পর্যটনমন্ত্রীর আশা, এর ফলে রাজ্যে পর্যটকদের সংখ্যা অনেক বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
*অধিবেশনে বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অধ্যক্ষের*:
এদিকে এদিন পর্যটন দপ্তরের বাজেট বিতর্কের সময় বিধানসভা কক্ষে বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের আলোচনার সময় কক্ষে উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম। ওই সময় অধিবেশন কক্ষে হাতে গোনা *৪৫ থেকে ৫০ জন* বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।
সমুদ্রের নীল জল, জঙ্গলের সবুজ, পাহাড়ের শুভ্রতা পেরিয়ে এবার যোগ হল চা বাগানের মনোরম দৃশ্য। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন দপ্তরের এই উদ্যোগ রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। যারা কম খরচে, রাজ্যের মধ্যেই স্বপ্নের ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ করতে চান, তাদের জন্য এটা সত্যিই বড় সুখবর।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


