Cancer Treatment: কেমো নয়, এবার মাইনাস ১৯০ ডিগ্রিতে জমে মরবে ক্যানসার! ভারতেও শুরু ‘ক্রায়ো-কিল’ থেরাপি

Published : May 06, 2026, 02:50 PM IST
cancer test

সংক্ষিপ্ত

Cancer Treatment: কেমোথেরাপি, রেডিয়েশনের যন্ত্রণা এবার অতীত? ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘ক্রায়োঅ্যাবলেশন’ বা ‘ক্রায়োথেরাপি’। এই পদ্ধতিতে মাইনাস ১৪০ থেকে মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জমিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে ক্যানসার কোষ। 

Cancer Treatment: ক্যানসার শব্দটা শুনলেই আতঙ্ক। তার চেয়েও বেশি ভয় কেমোথেরাপির সাইড এফেক্ট নিয়ে। চুল পড়ে যাওয়া, বমি, দুর্বলতা – এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এল নতুন অস্ত্র। নাম ‘ক্রায়োঅ্যাবলেশন’ বা ‘ক্রায়োথেরাপি’। সোজা বাংলায়, হাড়হিম ঠান্ডায় জমিয়ে মেরে ফেলা হবে ক্যানসার কোষকে।

শুনতে সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও আমেরিকা, ইউরোপের পর ভারতের বড় হাসপাতালগুলিতেও শুরু হয়েছে এই থেরাপি। টাটা মেমোরিয়াল, AIIMS, অ্যাপোলো, ফর্টিসে ইতিমধ্যেই সফলভাবে প্রয়োগ হচ্ছে।

কী এই ক্রায়োঅ্যাবলেশন? কীভাবে কাজ করে?

ক্রায়ো মানে ঠান্ডা, অ্যাবলেশন মানে ধ্বংস করা। এই পদ্ধতিতে সিটি স্ক্যান বা আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে টিউমারের একদম সেন্টারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় একটা সরু সুচের মতো যন্ত্র, যার নাম ‘ক্রায়োপ্রোব’।

এই প্রোবের মধ্যে দিয়ে আর্গন গ্যাস বা লিকুইড নাইট্রোজেন পাঠানো হয়। মুহূর্তে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ১৪০ থেকে মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই হাড়হিম ঠান্ডায় টিউমারের কোষের ভিতরের জল বরফ হয়ে যায়। বরফের ক্রিস্টাল কোষের দেওয়াল ফাটিয়ে দেয়। রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ক্যানসার কোষের মৃত্যু ঘটে।

এরপর প্রোব দিয়ে হিলিয়াম গ্যাস পাঠিয়ে জায়গাটা গলিয়ে দেওয়া হয়। ফ্রিজ-থ’ সাইকেল দু’বার করা হয় যাতে একটাও ক্যানসার কোষ বেঁচে না থাকে। মরা কোষগুলো পরে শরীর নিজেই শুষে নেয়।

কেমো-রেডিয়েশনের থেকে কোথায় এগিয়ে? ৫টি বড় সুবিধা:

১. কাটাছেঁড়া নেই: পুরো প্রক্রিয়াটা হয় ২-৩ মিমি ছিদ্র দিয়ে। সেলাই লাগে না। তাই একে বলে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’।

২. যন্ত্রণা কম: লোকাল অ্যানেস্থেসিয়াতেই কাজ হয়ে যায়। রোগী জেগে থাকেন, কথা বলেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরে যান।

৩. সাইড এফেক্ট নেই: কেমোর মতো চুল পড়ে না, বমি হয় না, ইমিউনিটি কমে না। কারণ শুধু টিউমার কোষই মরে, পাশের সুস্থ কোষের ক্ষতি হয় না।

৪. রিপিট করা যায়: টিউমার ফিরে এলে আবার এই থেরাপি দেওয়া যায়। রেডিয়েশনের ডোজ লিমিট থাকে, এর সেটা নেই।

৫. খরচ কম: কেমোর ৬-৮টা সাইকেলের চেয়ে ১-২ সিটিং ক্রায়োথেরাপির খরচ অনেক কম। ভারতে ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকার মধ্যে।

কোন কোন ক্যানসারে কাজ দিচ্ছে?

১. লিভার ক্যানসার: সার্জারি করা যায় না এমন ছোট টিউমারে দারুণ সাফল্য। ৩ সেমি পর্যন্ত টিউমার ৯০% কেসে পুরো ধ্বংস হচ্ছে।

২. কিডনি ক্যানসার: একটা কিডনি বাঁচিয়ে টিউমার মারা যাচ্ছে। ডায়ালিসিসের হাত থেকে বাঁচছেন রোগী।

৩. ফুসফুস ক্যানসার: প্রথম স্টেজে ধরা পড়লে সার্জারির বিকল্প। বয়স্ক রোগীদের জন্য আশীর্বাদ।

৪. প্রস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যানসার: ছোট টিউমার বা হরমোন থেরাপি ফেল করলে ব্যবহার হচ্ছে। ব্রেস্টের শেপ নষ্ট হয় না।

৫. হাড়ের ক্যানসার: ব্যথা কমাতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে।

সীমাবদ্ধতা কী?

সব ক্যানসারে এটা কাজ করবে না। টিউমার ৫ সেমির বড় হলে, সংখ্যায় অনেক হলে বা ব্লাড ভেসেলের গায়ে লেগে থাকলে রিস্ক থাকে। ব্লাড ক্যানসার, লিউকেমিয়াতে কাজ করে না। সার্জন, রেডিওলজিস্ট ও অনকোলজিস্টের টিম ঠিক করবেন কে এই থেরাপির যোগ্য।

ভবিষ্যৎ কী বলছে?

গবেষকরা বলছেন, ক্রায়োথেরাপি শুধু টিউমার মারছে না, মরা ক্যানসার কোষ থেকে অ্যান্টিজেন বেরিয়ে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে ট্রেনিং দিচ্ছে। ফলে শরীর নিজেই বাকি ক্যানসার কোষকে চিনে মেরে ফেলছে। একে বলছে ‘ক্রায়ো-ইমিউনোথেরাপি’। ভবিষ্যতে কেমোর সাথে জুড়ে গেলে ক্যানসার জয় আর স্বপ্ন থাকবে না।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঠান্ডা মাথায় কাজ করছে এই হাড়হিম প্রযুক্তি। খরচ কম, কষ্ট কম, সাফল্য বেশি। অনকোলজিস্টের মতে, আগামী ৫ বছরে এটাই হবে ‘ফার্স্ট লাইন ট্রিটমেন্ট’।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Multani Mitti: জেন জি স্টাইলে মুলতানি মাটি; উজ্জ্বল ত্বকের ৬টি সহজ উপায়
Jaggery Benefits: চিনির বদলে গুড় কেন খাবেন? অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণ