
ডিমের কুসুম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। কোলেস্টেরলের ভয়ে হার্টের রোগী থেকে সাধারণ মানুষও অনেকেই কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও কার্ডিওলজিস্টদের মতে, এই অভ্যাস উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও তা একাই হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়।
ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল হলো ডায়েটারি কোলেস্টেরল। শরীরের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা মূলত লিভার নিয়ন্ত্রণ করে। বাইরে থেকে বেশি কোলেস্টেরল এলে লিভার নিজের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তাই সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দিনে একটি গোটা ডিম রক্তের কোলেস্টেরল বা হার্টের ঝুঁকি তেমন বাড়ায় না। সাম্প্রতিক গবেষণাও একই কথা বলছে।
বরং ডিমের কুসুম পুষ্টির খনি। এতে রয়েছে কোলিন, যা মস্তিষ্কের স্মৃতি ও লিভারের ফ্যাট মেটাবলিজমের জন্য জরুরি। লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন রোধ করে। ভিটামিন ডি, বি12, সেলেনিয়াম এবং ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিডও কুসুমে পাওয়া যায়। ওমেগা-3 রক্তনালীর প্রদাহ কমিয়ে হার্টের সুরক্ষায় সাহায্য করে।
তবে যাদের ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া, টাইপ-2 ডায়াবেটিস বা ইতিমধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে দিনে একের বেশি কুসুম না খাওয়াই ভালো। সপ্তাহে 3-4টি গোটা ডিম নিরাপদ বলে মনে করেন অনেক চিকিৎসক।
রান্নার পদ্ধতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ঘি, মাখন বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা ডিম খেলে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট শরীরে ঢোকে। তার বদলে সেদ্ধ, পোচ বা কম তেলে স্ক্র্যাম্বল করা ডিম স্বাস্থ্যকর। ডিমের সঙ্গে কী খাচ্ছেন সেটাও বড় বিষয়। সাদা পাউরুটি, প্রসেসড মাংস বা ফাস্ট ফুডের সঙ্গে ডিম খেলে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে সবজি, ওটস, বাদাম ও ফাইবারযুক্ত খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে তা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, কুসুম পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত খাওয়াই ভালো। নিজের লিপিড প্রোফাইল রিপোর্ট দেখে ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিম খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News