বৃষ্টির সময় সোঁদা মাটির গন্ধ আমাদের সবারই খুব ভালো লাগে। অনেকে তো আবার এই গন্ধের টানে মাটিও খেয়ে ফেলেন! বৃষ্টি শুরু হওয়ার ঠিক আগেই এই সুন্দর গন্ধটা আমাদের মন ভরিয়ে দেয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সোঁদা গন্ধের একটা বিশেষ নাম আছে? চলুন জেনে নিই।
বৃষ্টির আগে যখন খুব রোদ থাকে, তখন মাটিতে থাকা কিছু গাছের তেল আর অন্যান্য জৈব পদার্থ মাটি ও পাথরের গায়ে জমে যায়। ঠিক সেই সময়েই মাটিতে থাকা কিছু অণুজীব 'জিওসমিন' (Geosmin) নামের এক বিশেষ গন্ধ ছড়ায়। ভেজা মাটি থেকে বেরোনো এই সোঁদা গন্ধের পেছনে জিওসমিনের বড় ভূমিকা থাকে।
24
বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই গন্ধটা বাতাসে মেশে কীভাবে?
শুকনো মাটিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে ছোট ছোট জলের বুদবুদ তৈরি হয় আর সেগুলো ফেটে যায়। এই প্রক্রিয়ার ফলেই মাটিতে থাকা জৈব পদার্থ, অণুজীব আর জিওসমিনের মতো গন্ধযুক্ত উপাদানগুলো বাতাসে মিশে যায়। এই কারণেই বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমাদের নাকে সোঁদা গন্ধটা এসে পৌঁছায়।
34
মরশুমের প্রথম বৃষ্টিতে এই গন্ধ এত কড়া হয় কেন?
দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে মাটি শুকনো থাকে। তখন গন্ধ তৈরি করা উপাদানগুলো মাটির ওপর জমতে থাকে। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সেগুলো একধাক্কায় বাতাসে মিশে যায়। তাই গরমের পর প্রথম বৃষ্টিতেই মাটির গন্ধ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এই সোঁদা গন্ধকে বিজ্ঞানের ভাষায় 'পেট্রিকোর' (Petrichor) বলা হয়। ১৯৬৪ সালে বিজ্ঞানী আই.জে. বিয়ার (I.J. Bear) এবং আর.জি. থমাস (R.G. Thomas) তাঁদের গবেষণায় প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।
একদমই নয়। দুটোকে এক ভাবলে ভুল হবে। বৃষ্টির পর মাটি থেকে বেরোনো পুরো গন্ধটাকে একসঙ্গে পেট্রিকোর বলা হয়। আর জিওসমিন হলো সেই গন্ধ তৈরির অন্যতম প্রধান একটি উপাদান। তাই বৃষ্টির পর বেরোনো গন্ধকে শুধু জিওসমিন বলা যায় না। মাটির এই গন্ধের পেছনে রাসায়নিক, অণুজীব, গাছের অবশিষ্টাংশ আর বৃষ্টির ফোঁটার এক দারুণ বৈজ্ঞানিক খেলা লুকিয়ে থাকে।