হাঁচি আমাদের শরীরের একটা খুব সাধারণ আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিজ্ঞান বলছে, এটা আসলে শরীরের একটা ডিফেন্স মেকানিজম। নাক দিয়ে যখন ধুলো, অ্যালার্জির কণা বা অন্য ক্ষতিকারক জিনিস ঢোকে, তখন শরীর হাঁচির মাধ্যমে সেগুলোকে বের করে দিয়ে আমাদের রক্ষা করে।
আমাদের নাকের ভেতরে একটি খুব সংবেদনশীল আস্তরণ (Nasal Mucosa) থাকে। যখন ধুলো, পরাগরেণু (Pollen), ধোঁয়া বা কোনও কড়া গন্ধ এই আস্তরণে লাগে, তখন সেখানকার নার্ভগুলো মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠায়। মস্তিষ্ক তখন শরীরকে হাঁচার নির্দেশ দেয়। এরপর ফুসফুস গভীর শ্বাস নেয় এবং বুক, গলা ও মুখের পেশি একসঙ্গে মিলে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। এই চাপের ফলে নাক ও মুখ দিয়ে খুব জোরে হাওয়া বেরিয়ে আসে এবং তার সঙ্গে বাইরের কণাগুলোও বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ, হাঁচি হল শরীরের একরকম সাফাই অভিযান।
26
কী কী কারণে হাঁচি আসে?
সাধারণত ধুলো-বালি, ফুলের রেণু (Pollen Allergy), সর্দি-কাশি, কড়া পারফিউম বা রাসায়নিকের গন্ধ, ধোঁয়া ও দূষণ, পোষ্যের লোম, কড়া রোদ (Photic Sneezing), ঠান্ডা হাওয়া বা মশলাদার খাবারের কারণেও অনেকের হাঁচি হয়।
36
বারবার হাঁচি হওয়া কি স্বাভাবিক?
দিনে এক-দু'বার হাঁচি হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি একটানা বেশ কয়েকদিন ধরে হাঁচি হতে থাকে এবং সঙ্গে নাক দিয়ে জল পড়া, চোখে চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। আবার হাঁচির সঙ্গে জ্বর, গায়ে ব্যথা বা গলায় সংক্রমণ থাকলে, তা ভাইরাল ইনফেকশনের কারণেও হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
46
হাঁচি চেপে রাখা ঠিক না ভুল?
ডাক্তাররা বলেন, জোর করে হাঁচি চেপে রাখা একদমই উচিত নয়। এতে নাক ও কানের ভেতরে চাপ বাড়তে পারে। এর ফলে কানের পর্দা, সাইনাস বা গলায় খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই হাঁচি এলে চেপে না রেখে, রুমালে বা কনুই দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিন।
56
হাঁচি নিয়ে কিছু মজার তথ্য
একটা হাঁচির সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০-১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। হাঁচি এলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। কড়া আলো দেখে হাঁচি পাওয়ার ঘটনাকে 'ফোটিক স্নিজ রিফ্লেক্স' (Photic Sneeze Reflex) বলে, যা কিছু মানুষের মধ্যে বংশগত। কুকুর, বিড়ালের মতো অনেক প্রাণীও কিন্তু হাঁচে। একটা হাঁচির মাধ্যমে নাকে আটকে থাকা লক্ষ লক্ষ ছোট কণা বাইরে বেরিয়ে আসে।
66
হাঁচি পেলে কী করবেন?
হাঁচি পেলে রুমালে বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢাকুন। টিস্যু ব্যবহার করার পর ফেলে দিন। এরপর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। আপনার যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তবে ধুলো, ধোঁয়া এবং অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী জিনিস থেকে দূরে থাকুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।