
৩০ সেকেন্ডের নেশা, সারাজীবনের ক্ষতি হতে পারে জানেন কি? ১টা রিল দেখলাম, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা... দেখতে দেখতে ১ ঘন্টা। চেনা লাগছে? আমরা সবাই এখন ‘রিল স্ক্রলিং’-এ আসক্ত। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার সতর্ক করছেন। অতিরিক্ত ইনস্টাগ্রাম রিল, ইউটিউব শর্টস দেখা আপনার মস্তিষ্ককে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিচ্ছে।
গবেষণায় কী বলছে বিজ্ঞানীরা? সম্প্রতি নিউরোসায়েন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, টানা শর্ট ভিডিও দেখলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের অতিরিক্ত ক্ষরণ হয়। ডোপামিন হল ‘আনন্দের হরমোন’।
সমস্যা হল, মস্তিষ্ক খুব তাড়াতাড়ি এই ডোপামিনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফলে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ছাড়া আর কিছুতে মন বসে না। বই পড়া, কাজ করা, এমনকি মানুষের সাথে গল্প করাও ‘বোরিং’ লাগে।
ডাক্তাররা একে বলছেন ‘Brain Rot’ বা মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয়তা’।
অতিরিক্ত রিল দেখলে আপনার কী ক্ষতি হচ্ছে?
1. মনোযোগ কমে যাচ্ছে: ১০ মিনিট একটানা কোনো কাজে ফোকাস করতে পারছেন না। ৩০ সেকেন্ড পরেই মন অন্যদিকে চলে যাচ্ছে।
2. স্মৃতিশক্তি দুর্বল: গুরুত্বপূর্ণ কথা ভুলে যাচ্ছেন। কারণ মস্তিষ্ক শর্ট টার্ম ইনফরমেশনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।
3. উদ্বেগ ও হতাশা: অন্যের ‘পারফেক্ট লাইফ’ দেখে নিজেকে ছোট লাগছে। ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।
4. সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমছে: ছোট ছোট বিষয়েও ডিসিশন নিতে অসুবিধা হচ্ছে।
আপনি কি আসক্ত? ৩টি লক্ষণ মিলিয়ে নিন: 1. ফোন হাতে নিলেই প্রথমে রিলস সেকশন খোলেন 2. "আর ৫ মিনিট" বলে ১ ঘন্টা কেটে যায় 3. রিল না দেখলে অস্থির লাগে বা বোর ফিল হয়
মস্তিষ্ক বাঁচানোর ৩টি সহজ উপায়:
1. 20-20-20 নিয়ম: প্রতি 20 মিনিট পর 20 সেকেন্ডের জন্য ফোন রেখে 20 ফুট দূরে তাকান। 2. টাইম লিমিট সেট করুন: ফোনেই 30 মিনিটের লিমিট লাগিয়ে দিন। সময় শেষ হলে অ্যাপ নিজে থেকেই বন্ধ হবে। 3. ডোপামিন রিপ্লেস করুন: রিলের বদলে ১০ মিনিট হাঁটুন, বই পড়ুন, বা বন্ধুকে কল করুন। আসল জীবনের ডোপামিন মস্তিষ্কের জন্য ভালো।
প্রযুক্তি খারাপ নয়। কিন্তু অতিরিক্ত যেকোনো কিছুই বিষ। রিল দেখুন, কিন্তু মস্তিষ্কটাকে মেশিন বানিয়ে দেবেন না।
মাঝে মাঝে ফোনটা দূরে রেখে নিজের মাথাটাকে একটু ‘বোর’ হতে দিন। ওই ‘বোর’ সময়েই কিন্তু ক্রিয়েটিভিটি জন্মায়।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News