
‘উফ, পেটটা মনে হচ্ছে ফেটে যাবে!’ – দুপুরে ভাত-ডাল খাওয়ার পর এই কমপ্লেন আপনারও? প্যান্টের বোতাম খুলতে হয়, জামা টাইট লাগে, বুক জ্বালা করে?
ডাক্তারি ভাষায় একে বলে ‘ব্লোটিং’। গ্যাস, অ্যাসিডিটি, হজম না হওয়া, IBS – কারণ অনেক। কিন্তু সমাধান আপনার হাতের কাছেই।
তাড়াহুড়ো করে খাওয়া: গিলে খেলে পেটে হাওয়া ঢোকে। ওটাই গ্যাস হয়ে পেট ফোলায়।
গ্যাস হয় এমন খাবার: ছোলা, মটর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, ডাল, কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস, দুধ। এগুলো পেটে গিয়ে ফার্মেন্ট হয়।
কম জল খাওয়া: জল কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। মল আটকে গ্যাস তৈরি করে।
স্ট্রেস-অ্যাংজাইটি: টেনশনে ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ বিগড়ায়। হজম স্লো হয়, পেট ফোলে।
খালি পেটে চা-কফি: অ্যাসিডিটি বাড়ায়, গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষতি করে।
টোটকা ১: জিরা-আদার জল
১ গ্লাস জলে ১ চামচ জিরা আর ১ ইঞ্চি থেঁতো করা আদা ফোটান ৫ মিনিট। কুসুম গরম অবস্থায় চুমুক দিয়ে খান। আদা গ্যাস বের করে, জিরা হজম করায়। খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান। সঙ্গে সঙ্গে আরাম।
টোটকা ২: হিং এর সেক
এক চিমটে হিং হালকা গরম জলে গুলে নিন। ওটা দিয়ে নাভির চারপাশে ক্লকওয়াইজ ম্যাসাজ করুন ২ মিনিট। হিং অ্যান্টি-ফ্ল্যাটুলেন্ট। গ্যাস নামিয়ে দেবে। বাচ্চাদের জন্যও সেফ। চাইলে ১ চিমটে হিং হালকা গরম জলে গুলে খেয়েও নিতে পারেন।
টোটকা ৩: মৌরি চিবোন
খাওয়ার পর ১ চামচ মৌরি ভালো করে চিবিয়ে খান। মৌরিতে ‘অ্যানিথোল’ থাকে, পেটের মাসল রিল্যাক্স করে, গ্যাস পাস করায়। হোটেলে শেষ পাতে মৌরি-মিছরি এমনি দেয় না।
টোটকা ৪: গরম জলের সেঁক + হাঁটা
পেটে গরম জলের ব্যাগ রাখুন ৫ মিনিট। রক্ত সঞ্চালন বেড়ে হজম হবে। তারপর ঘরে ১০ মিনিট পায়চারি করুন। শুয়ে পড়বেন না। হাঁটলে আটকে থাকা গ্যাস বেরিয়ে যায়।
টোটকা ৫: পুদিনা-লেবুর শরবত
১ গ্লাস জলে ১০টা পুদিনা পাতা, হাফ লেবুর রস, এক চিমটে বিট নুন। চিনি ছাড়া খান। পুদিনা পেট ঠান্ডা করে, লেবু অ্যাসিড ব্যালেন্স করে। গরমে দারুণ কাজ দেয়।
৩. যা খাবেন না: ব্লোটিং বাড়ায় এই ৭টা জিনিস
১. ডাল রাতে: মুসুর, বিউলি রাতে খেলে গ্যাস মাস্ট। দুপুরে খান।
২. কাঁচা স্যালাড: শসা, পেঁয়াজ, মূলা রাতে হজম হয় না। সেদ্ধ খান।
৩. কোল্ড ড্রিঙ্কস: সোডার বুদবুদ পেটে গ্যাস ভরে।
৪. চুইং গাম: চিবানোর সময় হাওয়া ঢোকে।
৫. দুধ-চা খালি পেটে: অ্যাসিডিটি ১০০%। আগে বিস্কুট খান।
৬. অতিরিক্ত ঝাল-তেল: পাকস্থলীতে জ্বালা ধরায়।
৭. একসাথে জল: খাওয়ার মাঝে ঢকঢক করে জল খাবেন না। হজমের এনজাইম পাতলা হয়ে যায়। ৩০ মিনিট পর খান।
৪. কখন ডাক্তার দেখাবেন? বিপদ সংকেত
১. ওজন কমছে: হঠাৎ ৫ কেজি ওজন কমলে।
২. রক্ত: পায়খানার সাথে রক্ত বা কালো পায়খানা।
৩. বমি: ঘন ঘন বমি, খেতে পারছেন না।
৪. ৩ সপ্তাহের বেশি: টোটকা করেও ৩ সপ্তাহের বেশি পেট ফাঁপা থাকলে। আলসার, IBS, গলব্লাডার স্টোন হতে পারে।
৫. পেট ফাঁপা আটকাবেন কীভাবে? ৪টে নিয়ম
১. চিবিয়ে খান: ১ গ্রাস ৩২ বার। কথাটা সত্যি।
২. ছোট মিল: একবারে গলা অবধি নয়। ৩ বড় মিলের বদলে ৫টা ছোট মিল খান।
৩. প্রোবায়োটিক: রোজ ১ বাটি টক দই খান। উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজম করাবে।
৪. বজ্রাসন: খাওয়ার পর ৫ মিনিট বজ্রাসনে বসুন। পেটে রক্ত যাবে, গ্যাস হবে না।
শেষ কথা:
পেট ফাঁপা মানে শুধু অস্বস্তি নয়, কনফিডেন্সও কমে। ডেটে গেছেন, পেট গুড়গুড় করছে – অবস্থা খারাপ।
ওষুধের আগে কিচেনের দিকে তাকান। জিরা, আদা, হিং, মৌরি – এরাই আপনার ‘গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট’। নিয়ম মানলে ৭ দিনে তফাত বুঝবেন।
তবু না কমলে ডাক্তার দেখান। কারণ সব পেট ফাঁপা গ্যাস নয়, রোগও হতে পারে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News