আম মানেই ওজন বাড়া – এই ধারণা ভুল। আমে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন A, C আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। ভুল সময়ে, ভুল পরিমাণে খেলে ক্যালোরি বেড়ে মেদ জমে। সঠিক সময়, পরিমাণ আর কম্বিনেশন মেনে খেলে আম খেয়েও ফ্যাট কমানো সম্ভব। জেনে নিন ৫টি সহজ নিয়ম।
গ্রীষ্ম এলেই বাঙালির মন কাঁদে আমের জন্য। কিন্তু ডায়েট করছেন যারা, তাদের মাথায় একটাই ভয় – আম খেলেই মোটা হয়ে যাব তো? সত্যি বলতে, আম নিজে মোটা করে না। মোটা করে আপনার খাওয়ার ভুল। আমে স্বাভাবিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ থাকে ঠিকই, সাথে থাকে প্রচুর ফাইবার, জল আর ভিটামিন। ১০০ গ্রাম পাকা আমে ক্যালোরি মাত্র ৬০। একটা মাঝারি আম ১৫০-১৮০ ক্যালোরি। একটা বিস্কুটের প্যাকেটের থেকে কম। তাহলে সমস্যা কোথায়?

সমস্যা হল পরিমাণ আর সময়ে। আপনি যদি রাতের খাওয়ার পর একটা গোটা আম, সাথে এক গ্লাস দুধ দিয়ে আম-দুধ খান, আর দিনে আরও দুবার মিষ্টি খান, তাহলে ক্যালোরি আকাশ ছুঁবে। আমের চিনি শরীরে জমে ফ্যাট হয়ে যাবে। আবার খালি পেটে টক আম খেলে অ্যাসিডিটি হবে। তাই ওজন কমাতে চাইলে আমকে শত্রু না ভেবে বন্ধু বানান, শুধু নিয়ম মেনে।
প্রথম নিয়ম হল পরিমাণ। দিনে ১কাপ কুচোনো আম, মানে প্রায় ১০০-১৫০ গ্রাম যথেষ্ট। এটা একটা মাঝারি আমের অর্ধেক। এই পরিমাণে আপনি ৬০-৯০ ক্যালোরি পাবেন, সাথে ৩ গ্রাম ফাইবার। ফাইবার পেট ভরাবে, বারবার খিদে পাবে না। দ্বিতীয় নিয়ম সময়। আম খাওয়ার বেস্ট টাইম সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। এই সময় মেটাবলিজম দ্রুত থাকে। চিনি সহজে বার্ন হয়। রাত ৮টার পর আম একদম না। রাতে শরীর স্লো থাকে, চিনি জমে ফ্যাট হয়ে যায়।
তৃতীয় নিয়ম হল কম্বিনেশন। আম একা খাবেন না। দই, ছানা, বাদাম বা ওটসের সাথে মিশিয়ে খান। আম-দই বা আম-ওটস স্মুদি বানিয়ে নিন। প্রোটিন আর ফাইবার সাথে থাকলে চিনি ধীরে ধীরে রক্তে মেশে। হঠাৎ সুগার স্পাইক হয় না, ফ্যাটও জমে না। চতুর্থ নিয়ম, কাঁচা আম বেছে নিন। পাকা মিষ্টি আমের চিনি বেশি। ওজন কমাতে চাইলে কাঁচা আম, আমপোড়া বা আমের চাটনি টক করে খান। কাঁচা আমে ক্যালোরি কম, আর ভিটামিন C বেশি।
পঞ্চম এবং সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হল দিনের টোটাল ক্যালোরি। আম খেলে সেইদিন অন্য মিষ্টি, ভাতের পরিমাণ বা তেল-মশলা একটু কমিয়ে দিন। দিনের শেষে ক্যালোরি ডেফিসিট থাকলেই মেদ ঝরবে। আম খাওয়া বন্ধ করতে হবে না।
মনে রাখবেন, কোনো একটা খাবার একা মোটা বা রোগা করে না। আপনার সারাদিনের লাইফস্টাইলই আসল। আম হল প্রকৃতির ক্যান্ডি। বুদ্ধি করে খেলে আম খেয়েও আপনার ওজন কমবে, স্কিনও চকচক করবে ভিটামিন A আর C-এর জন্য। তাই আমের সিজনে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। নিয়ম মেনে খান, মেদ ঝরান নিশ্চিন্তে।

