আজকাল পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বাড়ছে। কমছে প্রজনন ক্ষমতা। গবেষণা বলছে, প্রায় অর্ধেক বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে পুরুষদের শারীরিক সমস্যাই দায়ী থাকে।
আজকাল পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বাড়ছে। কমছে প্রজনন ক্ষমতা। গবেষণা বলছে, প্রায় অর্ধেক বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে পুরুষদের শারীরিক সমস্যাই দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনেক অভ্যাসই পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই আগে থেকে সতর্ক হলে সার্বিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
28
ধূমপান প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
প্রজনন ক্ষমতা কমার অন্যতম বড় কারণ হল ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়ায় হাজার হাজার ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। এগুলি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়। এই ক্ষতিকারক অণুগুলি সুস্থ কোষ নষ্ট করে দেয়।
38
অতিরিক্ত মদ্যপান শুক্রাণু উৎপাদন কমায় এবং বীর্যের মান খারাপ করে
মাঝে মাঝে মদ্যপান করলে হয়তো বন্ধ্যাত্ব হয় না, কিন্তু অতিরিক্ত বা দীর্ঘ দিন ধরে মদ খেলে প্রজনন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অ্যালকোহল টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই হরমোনটি শুক্রাণু উৎপাদন, পেশি গঠন এবং যৌন ইচ্ছার জন্য দায়ী। এর ফলে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যায়, ইরেকটাইল ডিসফাংশন ও বীর্যের মান খারাপ হতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন শুক্রাণু এবং প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, সেই সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। শরীরের ফ্যাট সেল বা মেদ কোষ টেস্টোস্টেরনকে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত করে। ইস্ট্রোজেন পুরুষ ও মহিলা উভয়ের শরীরেই থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবে মহিলাদের শরীরে এর পরিমাণ অনেক বেশি।
58
ভুল খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে
খারাপ খাদ্যাভ্যাস শুক্রাণুর স্বাস্থ্য নষ্ট করে। শুক্রাণু কোষের সঠিক বিকাশের জন্য অনেক ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি পানীয়, ভাজাভুজি এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার বেশি খেলে শুক্রাণুর মান কমে যেতে পারে। ফল, শাকসবজি, শস্য, বাদাম, বীজ, মাছ ও প্রোটিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে।
68
কম ঘুমের কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং শুক্রাণুর মান কমে যেতে পারে
ঘুমের সময়েই শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং হরমোন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। যে সব পুরুষ নিয়মিত রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং শুক্রাণুর মান কমে যেতে পারে।
78
অণ্ডকোষের চারপাশে অতিরিক্ত তাপ শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দেয়
অণ্ডকোষের চারপাশে অতিরিক্ত তাপও বন্ধ্যাত্বের একটি কারণ। শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম তাপমাত্রা প্রয়োজন। তাই অণ্ডকোষ শরীরের বাইরে থাকে। ঘন ঘন অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে এলে শুক্রাণু উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
88
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ প্রজনন ক্ষমতাকে বাধা দিতে পারে
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস প্রজনন ক্ষমতাকে বাধা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসোল হরমোনের উৎপাদন বেড়ে যায়, যা 'স্ট্রেস হরমোন' নামে পরিচিত। কর্টিসোলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে বাধা দেয় এবং শুক্রাণু গঠন কমিয়ে দেয়।