ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের নাম শুনলেই জিভে জল আসে। এখন এটা একটা স্ন্যাক্স হলেও, একসময় এটাই ছিল প্রধান খাবার। এর জন্মস্থান নিয়ে তিনটি দেশের মধ্যে লড়াই চলছে, এমনকি মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ন্যাক্সগুলির মধ্যে একটি হল 'ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস'। গরম, মুচমুচে এই আলুর টুকরোগুলো দেখলেই জিভে জল আসে। কিন্তু আমাদের সবার প্রিয় এই খাবারের জন্ম কোথায়, তা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।
26
জন্ম নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প
এর নামের সঙ্গে 'ফ্রেঞ্চ' থাকলেও ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং স্পেন—তিনটি দেশই দশকের পর দশক ধরে এর আবিষ্কারের কৃতিত্ব দাবি করে আসছে। ২০০৫ সালে একজন শিল্পী আর্ট গ্যালারিতে ক্রুশবিদ্ধ আকারে দুটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস রেখেছিলেন। একদিন সেগুলি উধাও হয়ে যায়। মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং আদালত গ্যালারিকে ২১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।
36
'ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস' নামে পরিচিতি
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের জন্ম নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প প্রচলিত আছে। প্রথমটি বেলজিয়ামের। সেখানকার 'মিউজ' নদীর তীরের বাসিন্দারা ছোট মাছ ভেজে খেতেন। কিন্তু শীতকালে নদী জমে গেলে মাছ পাওয়া যেত না। তখন তারা আলুকে মাছের মতো লম্বা করে কেটে তেলে ভাজতে শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যরা এই খাবারটি চেখে দেখেন। ওই অঞ্চলের মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলত বলে আমেরিকানরা এর নাম দেয় 'ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস'।
অন্যদিকে, ফরাসি ঐতিহাসিকদের দাবি, ১৭৮০-র দশকেই প্যারিসের বিখ্যাত 'পন্ট নিউফ' ব্রিজের উপর ফেরিওয়ালারা এটি বিক্রি করত, তাই এর জন্ম ফ্রান্সে। আবার স্পেন দাবি করে, তারাই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে আলু এনেছিল, তাই ভাজার প্রথাও তাদের। ফলে এর আসল জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক আজও অমীমাংসিত।
56
'ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস' নামে পরিচিতি
আমেরিকায় ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস পরিচিতি পায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের হাত ধরে। ১৭৮০-র দশকে তিনি ফ্রান্সে থাকার সময় তাঁর শেফকে এই রান্নাটি শিখিয়ে আমেরিকায় এর প্রচলন করেন। তবে তখন এগুলো এখনকার মতো লম্বা টুকরো নয়, বরং গোল বা লেবুর খোসার মতো আকৃতির ছিল।
66
'ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস' নামে পরিচিতি
১৯২০-র দশকে এটি 'ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস' নামে পরিচিতি পায়। আজ প্রায় সব দেশেই এই খাবার জনপ্রিয়। আমেরিকানরা টমেটো কেচাপ দিয়ে, ফরাসিরা সর্ষের পেস্ট দিয়ে, ব্রিটিশরা ভিনিগার দিয়ে এবং বেলজিয়ামের মানুষ মেয়োনিজ দিয়ে এটি খেতে ভালোবাসে।