Dosa English Name: ধোসা ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খাবার। যা দেশ-কাল-সংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়েছে। কিন্তু এই প্রিয় খাবারটি সম্পর্কে একটি মজার তথ্য আজও সারা বিশ্বের অনেককে অবাক করে দেয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি…
অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবারের ইংরেজি নাম থাকলেও, দোসা তার আসল নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। লন্ডনের ক্যাফে হোক বা নিউ ইয়র্কের রেস্তোরাঁ, সবাই একে 'দোসা' নামেই চেনে। অভিধানে একে 'পাতলা নোনতা প্যানকেক' বা 'দক্ষিণ ভারতীয় ক্রেপ' বলা হলেও, সেগুলি এর বিকল্প নাম নয়, শুধু পরিচয় মাত্র। মশলা দোসা, পেপার দোসা বা রাভা দোসার মতো প্রকারভেদগুলোও তাদের আসল নামেই আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
23
এই শব্দের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্য
'দোসা' শব্দটি এসেছে দক্ষিণ ভারতীয় ভাষা থেকে, যেখানে এই খাবারটি বহু শতাব্দী ধরে তৈরি হয়ে আসছে। তামিল ভাষায় একে 'দোসই' বলা হয়। কন্নড় ভাষায় বলা হয় 'দোসে', আবার মালয়ালম ও তেলুগু ভাষাতেও এর নিজস্ব আঞ্চলিক রূপ আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, ইংরেজি ভাষা সহজ এবং বহুল প্রচলিত 'dosa' বানানটি গ্রহণ করেছে। খাদ্য ঐতিহাসিকরা মনে করেন, সারা দেশে জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগেই এই খাবারের উৎপত্তি হয়েছিল দক্ষিণ ভারতে।
33
ধোসা শব্দের ব্যুৎপত্তি কোথা থেকে
একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি অনুসারে, 'দোসা' শব্দটি সংস্কৃত-কন্নড় শব্দ 'দোষ' (dosha) থেকে এসেছে, যার অর্থ ভুল বা ত্রুটি। গল্পটা হল, একজন ব্রাহ্মণ পুরোহিত পানীয় তৈরির চেষ্টা করার সময় ভুলবশত চালের গোলা গেঁজিয়ে ফেলেন। সেই গোলা নষ্ট না করে, তিনি একটি গরম প্যানে তা ছড়িয়ে দিয়ে মুচমুচে একটি খাবার তৈরি করেন। যেহেতু সেই সময়ে চালের গোলা গেঁজিয়ে যাওয়াকে ত্রুটি হিসাবে দেখা হত, তাই লোকেরা এটিকে 'দোষ' বলতে শুরু করে, যা পরে 'দোসা'-তে পরিণত হয়। ঐতিহাসিকরা এই গল্পকে সত্যি বলে মনে না করলেও, এটি ভারতীয় খাবারের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় কাহিনি হিসেবে রয়ে গেছে।