Food Tips: গরমে কোল্ড কফি খেয়ে শরীর আরও ডিহাইড্রেট হয়ে যায়। দুধ-চিনি-ক্রিমের জন্য ক্যালোরিও বাড়ে। সমাধান দিচ্ছে নিউট্রিশনিস্টরা: দুধের বদলে ডাবের জল মেশান। ডাবের জল ন্যাচারাল ইলেকট্রোলাইটে ভরপুর।
Food Tips: কোল্ড কফির নেশা! হালকা করে ডাবের জল মেশালেই পাবেন দারুণ উপকার, কীভাবে বানাবেন জানুন কয়েকটি কৌশল। গরম পড়লেই কোল্ড কফির গ্লাসে চুমুক না দিলে চলে? কিন্তু রোজ দুধ-চিনি দেওয়া কোল্ড কফি খেলে ওজন বাড়ে, অ্যাসিড হয়, আর ডিহাইড্রেশনও হয়। কারণ কফি নিজেই ডাইইউরেটিক। শরীর থেকে জল টেনে বের করে দেয়।

এই সমস্যার কাটান দিতেই ভাইরাল হচ্ছে ‘কোকোনাট কোল্ড কফি’। মানে ডাবের জল দিয়ে বানানো কোল্ড কফি। শুনতে অদ্ভুত লাগছে? টেস্ট করলে প্রেমে পড়বেন।
১. ডাবের জল ও কফি = কেন এত উপকার?
হাইড্রেশন ডাবল: কফি শরীর ড্রাই করে, ডাবের জল সেটা ব্যালেন্স করে। ডাবের জলে আছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম। এগুলো ন্যাচারাল ইলেকট্রোলাইট। ঘাম হয়ে যা বেরিয়ে যায়, সেটা রিপ্লেস করে। তাই মাথা ঘোরা, ক্লান্তি হবে না।
সুগার ক্র্যাশ নেই: দুধ-চিনির কোল্ড কফি খেয়ে ইনস্ট্যান্ট এনার্জি আসে, ১ ঘণ্টা পর ঝিম ধরে। ডাবের জলে ন্যাচারাল সুগার খুব কম। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স লো। তাই এনার্জি ধীরে রিলিজ হয়। কাজে ফোকাস থাকবে লম্বা সময়।
পেট ঠান্ডা রাখে: কফিতে অ্যাসিড বেশি। খালি পেটে খেলে গ্যাস-অম্বল হয়। ডাবের জল ক্ষারীয়। কফির অ্যাসিডিটি কমিয়ে দেয়। ফলে বুক জ্বালা করবে না। IBS-এর রোগীরাও অল্প খেতে পারবেন।
ওজন কমাতে হেল্প: ১ কাপ দুধে ১২০ ক্যালোরি। ১ কাপ ডাবের জলে মাত্র ৪৫ ক্যালোরি। চিনি দিতেই লাগছে না কারণ ডাবের হালকা মিষ্টি ভাব আছে। রোজ খেলেও ওজন বাড়বে না।
পোস্ট-ওয়ার্কআউট ড্রিঙ্ক: জিমের পর প্রোটিন শেক খেতে ইচ্ছা করে না? এটা খান। ক্যাফেইন মাসল রিকভারি ফাস্ট করে, ডাবের জল ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স করে। ক্র্যাম্প ধরবে না।
২. পারফেক্ট কোকোনাট কোল্ড কফি বানানোর রেসিপি - ২ মিনিটে:
উপকরণ:
১. ইনস্ট্যান্ট কফি পাউডার - ১ চামচ, বা কোল্ড ব্রু - ৬০ মিলি
২. ঠান্ডা ডাবের জল - ২০০ মিলি
৩. বরফ কুচি - ৪-৫ টা
৪. অপশনাল: এক চিমটে দারচিনি গুঁড়ো, বা কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স
৫. অপশনাল: সুগার ফ্রি চাইলে ১টা খেজুর ব্লেন্ড করে নিন
পদ্ধতি:
স্টেপ ১: একটা শেকার বা বোতলে কফি পাউডার নিন। ২ চামচ গরম জল দিয়ে গুলে নিন। কোল্ড ব্রু হলে সরাসরি ঢালুন।
স্টেপ ২: এবার ঠান্ডা ডাবের জল ঢালুন।
স্টেপ ৩: বরফ, দারচিনি গুঁড়ো দিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে ৩০ সেকেন্ড জোরে শেক করুন। ফেনা উঠে যাবে।
স্টেপ ৪: গ্লাসে ঢেলে উপরে আরেকটু দারচিনি ছড়িয়ে দিন। ব্যস রেডি।
প্রো টিপস:
১. কড়া ফ্লেভার চাইলে এসপ্রেসো শট ইউজ করুন।
২. ক্রিমি টেক্সচার চাইলে ২ চামচ নারকেল দুধ মেশাতে পারেন।
৩. ডাবের শাঁস ব্লেন্ড করে দিলে স্মুদির মতো হবে, পেট ভরাবে।
৩. কারা খাবেন না বা সাবধানে খাবেন?
১. কিডনির রোগী: ডাবের জলে পটাশিয়াম হাই। কিডনির সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে খান।
২. লো ব্লাড প্রেশার: ডাবের জল প্রেশার আরও কমাতে পারে। কফি বাড়ায়। তাও মেপে খান।
৩. রাতে খাবেন না: ক্যাফেইন আছে। ঘুমের ৬ ঘণ্টা আগে খাওয়া বন্ধ করুন।
দুধের একঘেয়ে কোল্ড কফি ছেড়ে এবার ডাবের জলের টুইস্ট ট্রাই করুন। শরীর ঠান্ডা, মন চাঙ্গা, ওজনও কন্ট্রোলে থাকবে।
ডাক্তারি পরামর্শ: কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা থাকলে ডায়েটে নতুন কিছু যোগ করার আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


