৩০-এর পর ব্রেনে জং ধরছে? নিউরোসার্জেন বলছেন রোজ ১৫ মিনিটের এই অভ্যাস ডিমেনশিয়া আটকাবে

Published : Jun 27, 2026, 07:18 PM IST
brainWhy is it crucial to challenge your brain after age 30 a neurosurgeon startling revelation

সংক্ষিপ্ত

২৫ বছর বয়সের পর ব্রেনের নিউরোজেনেসিস স্লো হয়। ৩০ পেরোলে হিপোক্যাম্পাস ছোট হতে থাকে, মানে নতুন মেমরি তৈরি কমে। স্ট্রেস, ফোন স্ক্রল, একঘেয়ে রুটিন ব্রেনকে অলস করে। নিউরোসার্জেনরা বলছেন - ব্রেন হল পেশির মতো

“ডাক্তারবাবু, নাম ভুলে যাচ্ছি। কাল কী খেলাম মনে নেই। এটা কি আলঝেইমার?” ৩২ বছরের আইটি কর্মী রোহিতের প্রশ্ন। AIIMS-এর নিউরোসার্জেন ডা. অমিতাভ ঘোষ হাসলেন। “আলঝেইমার না, এটা ‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’। ব্রেনকে তুমি চাকর বানিয়েছো, মালিক না।”

৩০ বছর বয়সটা ব্রেনের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। জন্মের সময় ১০০ বিলিয়ন নিউরন নিয়ে আসি। ২৫ পর্যন্ত ব্রেন নতুন কানেকশন বানায় - একে বলে সিন্যাপটোজেনেসিস। ২৫-এর পর শরীর ছাঁটাই শুরু করে। যেটা ইউজ হয় না, সেটা কাটে - “সিন্যাপটিক প্রুনিং”। ৩০ পেরোলে হিপোক্যাম্পাস প্রতি বছর ১% ছোট হয়। হিপোক্যাম্পাস মানে মেমরির হার্ডডিস্ক। প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স - ডিসিশন মেকিং, ফোকাসের CPU - সেটাও স্লো হয়। তার উপর স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিউরন মারে।

ফল কি হয় জানেন? 

৩৫-এ গিয়ে মনে হয় ব্রেন হ্যাং করছে। মাল্টিটাস্ক পারো না। নতুন নাম মনে থাকে না। রাস্তা গুলিয়ে যায়। কারণ তুমি রোজ একই কাজ করছো। ঘুম থেকে উঠে ফোন, অফিসে এক্সেল, রাতে নেটফ্লিক্স। ব্রেনের কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। নিউরোসায়েন্সের ভাষায় এটাকে বলে “কগনিটিভ রিজার্ভ” কমে যাওয়া। ব্যাংকে টাকা না রাখলে ইমার্জেন্সিতে কী হবে? ব্রেনেরও সেভিংস লাগে।

ডা. ঘোষ বলছেন, “ব্রেনের বয়স আটকানোর ওষুধ নেই। কিন্তু নিউরোপ্লাস্টিসিটি আছে।” মানে ব্রেন সারা জীবন নতুন কানেকশন বানাতে পারে, যদি তুমি বাধ্য করো। ৭০ বছরের মানুষও নতুন ভাষা শিখে ব্রেনের গ্রে ম্যাটার বাড়াতে পারে। MRI স্ক্যানে প্রমাণিত। ৩০-এর পর এটা আরো জরুরি, কারণ তখন ন্যাচারাল লস শুরু হয়ে গেছে।

তাহলে করবেটা কী? 

জিমে যেমন বডি বানাও, ব্রেনের জিম লাগবে। প্রথম নিয়ম হল “নভেলটি”। রোজ নতুন কিছু। দাঁত মাজো বাঁ হাতে। বাড়ি ফেরো অন্য রাস্তায়। ফোনে নয়, মুখে মুখে ২০টা জিনিসের লিস্ট মনে রাখো। দ্বিতীয় হল “কমপ্লেক্সিটি”। সুডোকু, দাবা, ক্রসওয়ার্ড, নতুন বাদ্যযন্ত্র, নতুন ভাষা - যেটায় ব্রেন ঘামে। Netflix দেখে ব্রেন ঘামে না, ঘুমায়। তৃতীয় হল “সোশ্যাল”। আড্ডা, তর্ক, গল্প - মানুষের সাথে কথা বললে ব্রেনের ১০টা এরিয়া একসাথে জ্বলে। ফোনে চ্যাট কাউন্ট হবে না। চতুর্থ হল “হাতের কাজ”। রান্না, বাগান, ছবি আঁকা, লেগো বানানো। হাত-চোখ-ব্রেন কানেকশন নিউরন বাঁচায়। সার্জেনদের হাত এত স্টেবল কেন? কারণ ফাইন মোটর স্কিল।

একজন নিউরোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ এর পেশেন্ট ৪৮ বছরের স্কুল টিচার সুতপা। ২ বছর আগে মেমরি লস নিয়ে আসেন। MRI-তে মাইল্ড কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্ট। ওষুধের বদলে ডাক্তার দিলেন “ব্রেন প্রেসক্রিপশন”। রোজ ১৫ মিনিট ডুওলিঙ্গোতে স্প্যানিশ, ২০ মিনিট হারমোনিয়াম, রবিবার পাড়ার বাচ্চাদের অঙ্ক করানো। ১৮ মাস পর ফলো-আপ MRI - হিপোক্যাম্পাস ৩% বড় হয়েছে। মেমরি স্কোর ২৫ থেকে ৮৮। “ওষুধ দিলে ব্রেন ভাড়াটে হয়। অভ্যাস দিলে ব্রেন মালিক হয়,” বলছেন ডাক্তার।

রিসার্চ কী বলছে?

Lancet-এর ২০২০ রিপোর্ট - ৪০% ডিমেনশিয়া কেস লাইফস্টাইল দিয়ে আটকানো যায়। ১২টা রিস্ক ফ্যাক্টর - তার মধ্যে ৭টা তুমি কন্ট্রোল করো। কম শিক্ষা, হেড ইনজুরি, অ্যালকোহল, ওবেসিটি, ধূমপান, ডিপ্রেশন, সোশ্যাল আইসোলেশন, এয়ার পলিউশন, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হিয়ারিং লস, ফিজিক্যাল ইনঅ্যাকটিভিটি। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন হল “কগনিটিভ স্টিমুলেশন”। ৬৫ বছর বয়সে যারা নতুন স্কিল শেখে, তাদের ডিমেনশিয়া রিস্ক ৩০-৫০% কম।

৩০ পেরোলে শরীরের সাথে সাথে ব্রেনের EMIও শুরু করো। রোজ ১৫ মিনিট। ফোন রেখে বই পড়ো। অঙ্ক কষো খাতায়। রান্নার নতুন রেসিপি ট্রাই করো। বাচ্চাকে পড়াও। বাবা-মাকে ফোন করে ছেলেবেলার গল্প শোনো - রিমিনিসেন্স থেরাপি। ঘুম ৭ ঘণ্টা মাস্ট, কারণ ঘুমের সময় ব্রেন “গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম” দিয়ে ময়লা সাফ করে। না ঘুমালে অ্যামাইলয়েড প্লাক জমে - আলঝেইমারের শুরু।

বয়স বাড়বেই। কিন্তু ব্রেনকে বুড়ো হতে দেবে, না তরুণ রাখবে - চয়েস তোমার। ৩০-এর পর প্রতি দিন কাউন্ট করে। আজ থেকে ব্রেনকে চাকর না, CEO বানাও।

 

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Eggs vs Soybeans: ডিম বনাম সোয়াবিন: পকেট বাঁচিয়ে শরীর গড়ার আসল হিরো কে? জানুন এক ক্লিকে
White Bed Sheets: এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের কেন ধবধবে সাদা চাদর দেওয়া হয়? কারণটা জানলে অবাক হবেন