মহিলাদের হার্ট অ্যাটাক! এই লক্ষণগুলো একদম এড়িয়ে যাবেন না
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রেই শরীরে কিছু আগাম লক্ষণ দেখা দেয়। ঠিক সময়ে এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে হার্টকে বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ মহিলাই হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে থেকে নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন।
27
বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ
মহিলা ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুকে ব্যথা। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো অনেক সময় পুরুষদের থেকে আলাদা হতে পারে। তাই তারা অনেক সময়ই বুঝতে পারেন না যে এই সমস্যাগুলো আসলে হার্টের রোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
37
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে
ঘুম না হওয়া, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ক্লান্তি এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া— এগুলো হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ। এই লক্ষণগুলো ঠিক সময়ে চিনে চিকিৎসা শুরু করলে হার্ট অ্যাটাক ঠেকানো যায় এবং প্রাণ বাঁচে। হার্ভার্ড হেলথের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শুধু বুকে ব্যথাকেই হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ ভাবা উচিত নয়।
47
ভারতে পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের হার্টের রোগ বেশি দেখা যায়
ভারতে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের হার্টের রোগ বেশি দেখা যায়। ২০২৫ সালের এনএসও (NSO) হেলথ সার্ভের রিপোর্ট বলছে, পুরুষদের মধ্যে এই হার ১৩.৫% (লাখে ১৩,৫০৪ জন), সেখানে মহিলাদের ক্ষেত্রে তা ১৭% (লাখে ১৭,০০৬ জন)। মহিলাদের শরীরে হার্ট অ্যাটাকের আগে কী কী লক্ষণ দেখা যায়, চলুন জেনে নিই।
57
বিশ্রামের সময় শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব বা হজমের সমস্যা
হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে থেকে অস্বাভাবিক ক্লান্তি লাগতে পারে। কাজ করার সময় বা বিশ্রামের সময় শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, বমি হওয়া বা হজমের সমস্যার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়। মাথা ঘোরা, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মনে কোনো বড় বিপদ ঘটার আশঙ্কা হওয়া— মহিলাদের ক্ষেত্রে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
67
পুরুষ ও মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আলাদা হওয়ার কারণ
পুরুষ ও মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আলাদা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক গঠন একটি বড় ভূমিকা পালন করে। মহিলাদের করোনারি ধমনীগুলো আকারে ছোট হয়, তাই সেখানে কোনো ব্লক থাকলে তা ধরা পড়া কঠিন হতে পারে। হরমোনের প্রভাবও একটি বড় কারণ। ইস্ট্রোজেন হরমোন হার্টকে সুস্থ রাখে, কিন্তু মেনোপজের পর এর মাত্রা কমে গেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
77
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে হার্ট অ্যাটাক ঠেকানো সম্ভব
জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই হার্টের রোগ ও হার্ট অ্যাটাক ঠেকানো যায়। হার্ট ভালো রাখতে মহিলাদের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। প্রথমত, রোজকার ডায়েটে ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি। যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং ডিপ ব্রিদিংয়ের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমান। ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত।