
Travel Tips: কংসাবতী নদী, আরণ্যক পরিবেশ, আর গ্রাম-জীবনের গল্প যদি শুনতে হয় তাহলে এই পুজোয় দু’টি দিন কাটাতে অনায়াসেই ঘুরে আসা যায় সেখানে। যেটা হলো বাঁকুড়ার বড়দি পাহাড়। কলকাতা থেকে চারচাকায় যেতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথাও নয়।
অথচ এক বার সেখানে পৌঁছে গেলে বিস্মিত হবেন অনেকেই। মনে হবে, এক বেলাতেই এমন জায়গাতেও পৌঁছনো যায়! কেউ বলেন, স্থানীয় বড়দি গ্রামের নামেই এর নাম। আছে ভিন্ন মতও। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার মাত্রা ছাড়ালে বাঁকুড়া অঞ্চলের জমিদার ও তাঁদের লেঠেলরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। রায়পুরের জমিদার দুর্জন সিংহ এই বিদ্রোহের মাথা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এক সময় ইংরেজ বাহিনীর কাছে তাঁকে হার মানতে হয়। শোনা যায়, ইংরেজদের কাছ থেকে লুকোতে ওই পাহাড়ে কয়েকটি দিন তাঁর বড়দির আশ্রয়ে ছিলেন তিনি। তা থেকেই এই জায়গার নাম বড়দি পাহাড়।
চারপাশে শাল-মহুয়ার বন। অরণ্য পথে হাঁটলে পা জড়িয়ে ধরে বুনো লতাপাতা। গাছের আড়ালে থাকা পাখিদের ডাকে সেই পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। বাঁকুড়ার তাপমাত্রা শীতের দিনে বড় মনোরম। তাই সেই সময়েই পর্যটকেরা আসেন এখানে। তবে বর্ষার রূপও কম সুন্দর নয়। এই বছর দীর্ঘায়িত বর্ষার ফলে পুজোর সময়েও প্রকৃতিতে থাকবে শ্যামলিমা।
বড়দি পাহাড় থেকে কংসাবতীর রূপ বড় সুন্দর। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলেই নদীর দু'কূল ছাপিয়ে তখন বয়ে যায় জল। তবে বৃষ্টির বাড়াবাড়ি না থাকলে নদীর বুকে নৌবিহারও সম্ভব। দিন দুয়েক অলস ভাবে ঘোরা এবং থাকার জন্য এই স্থান আদর্শ। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, বলে আগাম প্রস্তুতির বিশেষ দরকার হয় না।
এখান থাকলে চড়তে পারেন পাহাড়। বিশেষ কষ্টকর নয়। পাহাড়ে ওঠার সময় চোখে পড়ে কংসাবতী। উঁচু থেকে তা আরও সুন্দর দেখায়। এক বার পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারলে, চোখের সামনে বদলে যায় দৃশ্যপট। এখানে আছে শিবের থান। নির্জনে একটি ছোট্ট শিবমন্দির। মন্দির যে সব সময় খোলা থাকে, তা নয়। তবে অরণ্যের এই পথের শোভাই এখানে আসার অন্যতম কারণ হতে পারে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Travel News : (বাংলায় ভ্রমণে খবর, বাংলায় ট্র্যাভেল নিউজ): Get latest travel news (ভারত ভ্রমণের খবর ), Tourism tips & guidelines in bangla. Find information about best places to visit in India at Asianet News Bangla.