
IPL 2026 মরশুম শুরু হতে চলেছে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। এই মেগা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ মার্চ, বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH)। গত মরশুমে দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে RCB প্রথমবার ট্রফির জয়ের স্বাদ পায়। তাই তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তবে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে হায়দ্রাবাদ একটু বেশি শক্তিশালী।
আইপিএলের ইতিহাসে দুই দলের লড়াই বরাবরই খুব আকর্ষণীয়। এখনও পর্যন্ত, দুটি দল মোট ২৬ বার মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ জয় পেয়েছে ১৩টি ম্যাচে। অন্যদিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু জিতেছে ১১টি ম্যাচে। তবে দুটি ম্যাচের কোনও ফলাফল হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় যে, RCB-র উপর SRH-এর দাপট একটি বেশি। তবে বর্তমান ফর্ম এবং দলের কম্বিনেশন অনুযায়ী ম্যাচের ফল যে কোনও দিকেই যেতে পারে।
রজত পাতিদারের নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু গত মরশুমে ইতিহাস তৈরি করে। ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা প্রথমবারের জন্য আইপিএল ট্রফি জেতে। এই মরশুমেও RCB বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে, ব্যাটিং বিভাগে বিরাট কোহলি এবং ফিল সল্টের জুটি প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। গত মরশুমে দুজনেই বিধ্বংসী শুরু করেন। তাদের সঙ্গে দেবদূত পাডিক্কাল ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তিনি এবার তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারেন। মিডল অর্ডারে টিম ডেভিড, জীতেশ শর্মা এবং রোমারিও শেফার্ডের মতো বিগ হিটাররা দলকে অতিরিক্ত শক্তি জোগাচ্ছে। ভেঙ্কটেশ আইয়ার দলে যোগ দেওয়ায় ভালো ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
ব্যাটিং বিভাগ শক্তিশালী হলেও, RCB-কে বোলিং নিয়ে কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। দলের প্রধান পেসার জশ হ্যাজেলউড প্রথম কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। যেটা দলের জন্য বড় ধাক্কা। হ্যাজেলউডের অভাব পূরণ করতে হবে সিনিয়র বোলার ভুবনেশ্বর কুমারকে। এখন ভুবির উপরই কার্যত, পুরো দায়িত্ব। এই মরশুমে RCB যশ দয়ালের সার্ভিসও পাবে না। নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফির পারফরম্যান্স এই মরশুমে RCB-র জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। স্পিন বিভাগে দল ক্রুনাল পান্ডিয়ার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের উপর ভরসা রাখছে দল।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে আবারও তাদের টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ের ওপরই বেশি নির্ভর করছে। অভিষেক শর্মা, ট্র্যাভিস হেড এবং ঈশান কিষাণ, এই তিনজন বিধ্বংসী ক্রিকেটারকে নিয়ে হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ ভয়ঙ্কর। দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স না থাকায়, প্রথম দিকের ম্যাচগুলিতে ঈশান কিষাণ দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। গত মরশুমে হেনরিখ ক্লাসেন সর্বোচ্চ রান করেন। সেইসঙ্গে, ফিনিশার হিসেবে অনিকেত ভার্মা গত বছর নিজের ছাপ রাখেন। এবার নীতিশ কুমার রেড্ডি এবং লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো ক্রিকেটারদের উপর অনেক আশা রয়েছে। এই দুজন ভালো খেললে হায়দ্রাবাদ বড় স্কোর করবেই।
ব্যাটিংয়ের তুলনায় সানরাইজার্সের বোলিং বিভাগ কিছুটা দুর্বল মনে হচ্ছে। প্যাট কামিন্স না থাকায় দলটি বড় সমস্যায় পড়েছে। পেস বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেবেন ঈশান মালিঙ্গা, হর্ষল প্যাটেল এবং জয়দেব উনাদকাট। ডেথ ওভারে হর্ষল প্যাটেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্পিন বিভাগেও হায়দ্রাবাদের তেমন বড় কোনও নাম নেই। তরুণ স্পিনার জিশান আনসারি এই মরশুমে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে চাইবেন। চিন্নাস্বামীর মতো ছোট মাঠে হায়দ্রাবাদের বোলাররা বেঙ্গালুরুর ব্যাটারদের কীভাবে আটকায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।